পোস্টগুলি

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৪র্থ পর্ব              যেহেতু এই দেশ, এই মাটি পথিকের কাছে একেবারে রোজকার জল-ভাতের মতো, এর সমস্ত প্রকৃতি পাঠ যেমন তার কাছে ' জল পড়ে পাতা নড়ে '- র মতন কণ্ঠস্থ, ঠিক তেমনই এর উলটো পিঠে বাস করে জয়ের পরিবার। তবু এখন কিছুটা প্রচার ব্যবস্থার দৌলতে, তথাকথিত শিল্প সংস্কৃতির আনা নেওয়ায় সেই দুঃসময়ের গল্পগুলি কিছুটা হয়তো ফিকে হয়েছে, তবু জয়ের এদেশে আসা নিয়ে যথেষ্ট উদাসীন ছিল না তার বাবা-মা বা পরিবারের লোকজন। অনেক কষ্টে জয়ের বাবা-মাকেও বুঝিয়েছিল মুনাই। এবং নিয়ে এসেছিল তাকে। বাকি স্বপ্নের গল্পগুলো পথিকই বলেছিল জয়কে নিভৃতে তার টয়োটা গাড়িতে বসে বসে।              দু’হাজার দুই বা তিনের এরকমই একটি অঘ্রাণ-কার্তিকের দুপুরে তারা সকলে মিলে বেরিয়েছিল সাগরদাঁড়ি। গাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল এদেশের টয়োটা , এরা যাকে বলে মাইক্রো। আসন সংখ্যা সর্বমোট আট। ড্রাইভারের পাশের আসনটি বাদ দিয়ে আরো দুটি আসন থাকে ভাঁজ করা। সে, তার তিন শ্যালিকা, এক শ্যালক এবং এই গতি মাসিকে নিয়ে মোটমাট তারা তিন দল। এই মিলে কয়েক হাজারে গাড়ি ভাড়া মিটমাট করে শ্বশুর বাড়ির শালা-শালিদের নিয়ে এই এত বছরের মধ্যে এই প্রথম বে...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। ত্রয়োদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ২৪ আশ্বিন ১৪২৮ ।। ১১ অক্টোবর ২০২১

ছবি
কৃষিপ্রধান দেশ ভারতবর্ষের কৃষকের ভবিতব্য আত্মহত্যা অথবা ঝাঁ চকচকে গাড়ির চাকার নিচে জীবন দেওয়া বোঝালে বুঝতে হবে, আমাদের দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামো তার সুনির্দিষ্ট গতিপথেই চলছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এর পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই ( বিশেষ করে রাজনৈতিক দিক থেকে)। কারণ ভোট ব্যাঙ্কের একটা বৃহৎ অংশ জুড়ে কৃষিজীবী মানুষের অবস্থান। আর এদেরকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ করে তোলার অর্থই হলো নিজেদের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে তোলা। তাই যেমন করেই হোক দেশের ভবিষ্যৎ, কৃষকদের দাবিয়ে রাখার একটা অপচেষ্টা সমস্ত সময় জুড়ে দেখা গিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখা যাবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।            কেন্দ্র বা রাজ্যে যে রাজনৈতিক দলেরই অবস্থান থাক না কেন, এর কোনো হেলদোল চোখে পড়বে না। চোখে পড়বে না খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা পরিবর্তন করার সামান্যতম চেষ্টা।              বর্তমান সময়ে আবার বিভিন্ন ভাবে এইসব মানুষদের পর-নির্ভরশীল করে তোলার একটা অপচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একদিকে কর্মসংস্থানের বদলে দেওয়া হচ্ছে চাল-ডাল, টাকা। আর অন্যদিকে তার পরিবর্তে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নিত্য নৈমিত্তিক জিনিসপত্রের...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। দ্বাদশ ওয়েব সংস্করণ ।। উৎসব সংস্করণ ।। ১০ আশ্বিন ১৪২৮ ।। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি
উৎসব আমাদের যাপনেরই একটা অঙ্গ। আমরা প্রতিদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে থাকতে কত না সুখ দুঃখের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলি একটা নিশ্চিত খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যের দিকে। যে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে আমাদের কত আয়োজন, কত পরিকল্পনা, কত হিসেব নিকেশ, কত দুঃখ যন্ত্রণা, রাগ-হিংসে-বিষাদ, মান-অভিমান-প্রেম। অথচ সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর সব কিছুই মিথ্যে হয়ে যায়। হয়ে যায় সমস্ত পরিকল্পনা, সমস্ত হিসেব নিকেশের বাইরের জিনিস।            এই সমস্ত কিছু বুঝেও জীবনকে যাপন করতে হয় আমাদের। আমাদের আমার আমার ভেবেই থাকতে হয় পার্থিব বিষয় বস্তুগুলোকে। আর জীবনকে যাপন করতে গিয়েই প্রয়োজন পড়ে নানা হৈ হুল্লোড়, উৎসব অনুষ্ঠানের। অরন্ধনের এবারের ওয়েব সংস্করণ তাই উৎসবেরই নামে সেজে উঠলো। সমৃদ্ধ হলো বেশ কিছু গুনীজনের লেখাতে। তাঁদের ভাবনাতে।            এবারের ছবি প্রদর্শ-শালাতে প্রখ্যাত আলোকচিত্র শিল্পী সন্তোষ রাজগড়িয়া মহাশয়ের ছবি রাখতে পেরে আমরা ধন্য। ওঁনার আলোকচিত্র পেতে আমাদের সাহায্য করেছেন আরেক আলোকচিত্র শিল্পী শুভাশিস গুহ নিয়োগী মহাশয়। ওঁর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।             আমাদের প্রিয় পত্রিকা অরন্ধনের উৎসব সংস্করণ যেহেতু আগে...