পোস্টগুলি

তপন পাত্র লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গদ্য, তপন পাত্র

ছবি
"মহালয়া" কী ও কেন ... তপন পাত্র _________________________________ কথা হচ্ছিল দু'চার জন গৃহবধুর সাথে । প্রসঙ্গ : "মহালয়া" । তাঁরা তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রী । মহালয়ার ভোরে প্রায় জোর করেই তাঁদের জাগিয়ে দেওয়া হতো । স্কুল মাঠের বকুলতলায় ঢুলু ঢুলু চোখে বসে পড়তেন তাঁরা । ছোট্ট আয়তাকৃতির একটা বাক্স থেকে ভেসে আসতো কী সব গান আর খুব গম্ভীর গলায় যত্তোসব মন্ত্র !  একসময় সকাল হয়ে যেত । তাঁরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতেন , ''তুই আকাশের দিকে তাকিয়ে মহালয়া দেখতে পেয়েছিস ? " উত্তর আসতো --"না" ।  আর তুই ?   প্রতিউত্তর --"না" । দীর্ঘ কয়েকটা বছর তাঁদের ধারণা ছিল মহালয়া মানে ,  ভোর বেলায় আকাশে হয়তো বিশেষ কিছু দেখতে পাওয়া যায় । তাঁদের দুর্ভাগ্য তাঁরা দেখতে পাননি । কড়া মেজাজের দিদিমণিদের এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করারও সাহস হয়নি ।  পরে ধীরে ধীরে বড়ো হবার সাথে সাথে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো তাঁদেরও ধারণা বদলালো । তাঁরাও ভাবলেন , মহালয়া মানে বাণীকুমার সম্পাদিত গীতি আলেখ্য "মহিষাসুরমর্দিনী" ।...

এ ভরা ভাদর

ছবি
এ ভরা ভাদর                  তপন পাত্র সাহিত্য-শিল্পের প্রধানতম বিষয়টি যে প্রেম একথা রসিকজন মাত্রই স্বীকার করবেন। বিদগ্ধজনেরাও বিপক্ষে যাবেন না। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, বলা যায় সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেমের ভান্ডারটি বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্য। রাধা-কৃষ্ণের সরস প্রেমলীলা তথা শ্রীরাধার প্রেমের ক্রমবিকাশ যে শুধুমাত্র স্বর্গীয় নয়, কল্পরাজ্য বৈকুন্ঠের সম্পত্তি নয়, এই মর্ত্যের তরুণ তরুণীর, মানব মানবীর প্রণয় লীলা এ কথা আমরা প্রায় সকলেই স্বীকার করি। মানবপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথও বৈষ্ণব কবিদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন --      "সত্য করে কহ মোরে, হে বৈষ্ণব কবি,       কোথা তুমি পেয়েছিলে এই প্রেমছবি,       কোথা তুমি শিখেছিলে এই প্রেমগান       বিরহ-তাপিত? হেরি কাহার নয়ান,       রাধিকার অশ্রু-আঁখি পড়েছিল মনে?       বিজন বসন্তরাতে মিলন-শয়নে       কে তোমারে বেঁধেছিল দুটি বাহুডোরে,       আপনার হৃদয়ের অগাধ সাগরে       রেখেছি...

পুঞ্চার লোকশ্রুতি / তপন পাত্র

ছবি
পুঞ্চার লোকশ্রুতি                                          তপন পাত্র                     "লোক" শব্দটি দিন দিন জনপ্রিয়  হয়ে উঠছে । এর অন‍্যতম বড়ো কারণ একশ্রেণীর মানুষের মেধায় ও মজ্জাতে এই বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে উঠছে যে, লোকসাহিত্য বা লোকসংস্কৃতি, লোকজন ও লোকযান নিয়ে একটা কিছু করতে পারলে লোকসমাজের কী কল্যাণ হবে সে কথা বড় নয়, কিন্তু কর্তা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলে উঠতেও পারেন। তাই কতকিছু শব্দের পূর্বে "লোক" জুড়ে দিয়ে কত শব্দবন্ধ যে দিনরাত তৈরি হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই । এমনিতেই "লোক" শব্দের সঙ্গে "আয়ত" শব্দটি যুক্ত করে "লোকায়ত" শব্দটি বহু পুরাতন কাল থেকেই চলে আসছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন "লোকহিত" শীর্ষক প্রবন্ধ । সেখানে "লোক" বলতে তিনি কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, প্রবন্ধ পাঠান্তে আমরা তা বুঝতে পেরেছি। অক্ষয় কুমার দত্তের "পল্লীগ্রামস্থ প্রজাদের দুরবস্থা বর্ণনা" পাঠ করে পাঠকের মনে হয় দুরবস্থার শিকার পল্লীগ্রামস্থ প্রজারাই বুঝি প্রকৃতপক্ষে "লোক", লোক সাধারণ । নানাভাবে আমাদের মনের মধ্যে একটি ধারণা...

শাক্তপদে পারিবারিক সমাজজীবন

ছবি
শাক্তপদে পারিবারিক সমাজজীবন                                                       তপন পাত্র                             বাংলার কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর "আমরা" কবিতায় বলেছেন ---            "দেবতারে  মোরা আত্মীয় জানি,              আকাশে প্রদীপ জ্বালি,             আমাদের এই কুটীরে দেখেছি ,              মানুষের ঠাকুরালি।"                          কথাটি বাঙালি পরিবারে এবং এই বাংলার সমাজ জীবনে সর্বাংশে সত্য । কেননা বাংলার আকাশ , বাতাস , মাঠ-ঘাট-প্রান্তর ,  কুটীর ,  রাজপথ সাধনার ধন প্রাণের দেবদেবীকে কল্পরাজ্যের স্বর্গে থাকতে দেয় নি , নামিয়ে এনেছে ধুলো ধূসরিত মর্ত্যের ধুলায় । তাই বাংলার সমস্ত ধর্মীয় সাহিত্যের মতো শাক্ত সংগীতেও সমসাময়িক পারিবারিক জীবন তথা সমাজ জীবন তথা মাতা-কন্যার সম্পর্কের বা বাৎসল্য রসের বিশেষ ছায়াপাত আমরা সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করি ।                         শাক্ত পদাবলীর "লীলা" অংশে অর্থাৎ "বাল্যলীলা", "আগমনী" এবং "বিজয়া"র পদগুলিতে বাংলা সুপরিচিত সাংসারিক আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে । পারিবারিক সমাজ জীবনের ছবি রয...