পোস্টগুলি

কবিতা, শুভজিৎ মাহান্তী

ছবি
শুভজিৎ মাহান্তীর কবিতা ১. অনামিকা অনামিকা, তুমি থেকে যাও আমাদেরই কাছে । হয়তো বা সঞ্জীবনী হয়ে মৃত শঙ্খের শরীরে শাদা এঁকে দিয়ে যাও আর একটুখানি তোমার চোখে এখন পৃথিবীর যত চিতার লালাভ আগুন, কিন্তু চিন্তার আগুনে দগ্ধ তোমার মুখের সামনে কৃষ্ণপক্ষের নীল কুয়াশা এসে জুটেছে । দূর্বার নরম শরীরে শীতমাসের শিশিরের কবোষ্ণ চুম্বন তোমার শরীরে কী স্থবিরতা এনে দেয় ? অনামিকা, তুমি যেয়োনা আর থেকে যাও আমাদেরই কাছে । ২. নিরুপমা একদিন কৃষ্ণচুড়াও কেঁদেছিল রক্তের দিকে চেয়ে । যৌবনের খরস্রোত পেরিয়ে, অসময়ের কিউমুলোনিম্বাস আমাকে আরো দূরে ঠেলে দিয়েছিলো তোমার থেকে নিরুপমা । ঘাসের শব্দ শুনে শুনে আমি বার বার গেছি দরজায় অল্প বাতাসে তোমার গন্ধ পেয়েছি সেদিন রাতে দুজনের উষ্ণ শরীরে রক্ত কেমন প্রয়াগের মতো উত্তাল হয়েছিল। আমার পাশবিক ভ্রূকুটি টুকু নিস্তেজ করে দিয়েছে তোমার পরশ আবার ঘাসের শব্দ শুনে শুনে আমি যাই সেই দরজায়। ৩. আশ্বিনের কবিতা  প্রত্যেক দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর তুমি ।ক্ষুধার অগ্নি কালপ্রবাহের সাথে ঊর্ধ্বগামী, যেন অর্জুনের গান্ডিব নাভিমুন্ড থেকে সমস্ত উষ্ণ নিঃশ্বাস সন্ধান করেছে আশ্বিনের আকাশে । আমার প্রত্যেক দ্বিতীয় ...

পঞ্চম বর্ষ ।। তৃতীয় ওয়েব সংস্করণ ।। ১৫ আশ্বিন ১৪৩১ ।। ০২ অক্টোবর ২০২৪

ছবি
মহালয়ার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই সকলকে। ভালো থাকুন সকলেই। পুজোর দিনগুলো আনন্দে কাটুক। ______________________________________________                           আমাদের বই কবিতা   যশোধরা রায়চৌধুরী  শুভাশীষ ভাদুড়ী  দীপান্বিতা সরকার  মনীষা মুখোপাধ্যায়  সম্রাট সেনগুপ্ত  প্রীতম বিশ্বাস  গৌতম কুমার গুপ্ত  দেবযানী ঘোষাল  পর্ণা দাশগুপ্ত  নূপুর রায় ( রিনঝিন ) দেবাশীষ সরখেল  অঙ্কন রায়  রূপক চট্টোপাধ্যায়  শুভজিৎ মাহান্তী গদ্য তপন পাত্র  ডরোথী দাশ বিশ্বাস  ময়ূখ দত্ত ______________________________________________ আমাদের কথা  যোগাযোগ করুন  ______________________________________________

গদ্য, তপন পাত্র

ছবি
"মহালয়া" কী ও কেন ... তপন পাত্র _________________________________ কথা হচ্ছিল দু'চার জন গৃহবধুর সাথে । প্রসঙ্গ : "মহালয়া" । তাঁরা তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রী । মহালয়ার ভোরে প্রায় জোর করেই তাঁদের জাগিয়ে দেওয়া হতো । স্কুল মাঠের বকুলতলায় ঢুলু ঢুলু চোখে বসে পড়তেন তাঁরা । ছোট্ট আয়তাকৃতির একটা বাক্স থেকে ভেসে আসতো কী সব গান আর খুব গম্ভীর গলায় যত্তোসব মন্ত্র !  একসময় সকাল হয়ে যেত । তাঁরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতেন , ''তুই আকাশের দিকে তাকিয়ে মহালয়া দেখতে পেয়েছিস ? " উত্তর আসতো --"না" ।  আর তুই ?   প্রতিউত্তর --"না" । দীর্ঘ কয়েকটা বছর তাঁদের ধারণা ছিল মহালয়া মানে ,  ভোর বেলায় আকাশে হয়তো বিশেষ কিছু দেখতে পাওয়া যায় । তাঁদের দুর্ভাগ্য তাঁরা দেখতে পাননি । কড়া মেজাজের দিদিমণিদের এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করারও সাহস হয়নি ।  পরে ধীরে ধীরে বড়ো হবার সাথে সাথে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো তাঁদেরও ধারণা বদলালো । তাঁরাও ভাবলেন , মহালয়া মানে বাণীকুমার সম্পাদিত গীতি আলেখ্য "মহিষাসুরমর্দিনী" ।...

কবিতা, রূপক চট্টোপাধ্যায়

ছবি
অস্পষ্ট হয়ে আসছে রূপক চট্টোপাধ্যায় ১. ওরাই ডেকে নিয়ে গেল ওরাই অপেক্ষা করলো সূর্যাস্তের ওরাই শ্বাসনালী কেটে গড়িয়ে দিল পৃথিবীকে নদীর পাড় থেকে গভীরে। ...… তারপর বহুদিন হলো আমরা মোমবাতি জ্বেলে হেঁটে যাচ্ছি। রোজ।  কিন্তু কেন তা ঠিক জানি না! ২. হিংসার মুখ থেকে বারুদ বমি করেছে সদ্য  কালো ধোঁয়ার জাহজে লাশ বোঝাই হলো সবাই শিশু। বেশ নরম নদীর মতো শরীর রক্ত তখনও ঝরছে, ইতিউতি। গোঁগানি মৃদু। একটু দূরেই মহাজাগতিক প্রাণীরা দাঁড়িয়ে  ছবি তুলছে।  সবার মুখ ঘোড়ার মতো লিঙ্গ লম্বা আর মাথায় শিং। পৃথিবী, কিছুতেই বুঝতে পারছে না ঘূর্ণন গতিটা  কখন পূব থেকে পশ্চিম দিকে হয়ে গেছে!  মূল পাতায় যান 

কবিতা, মনীষা মুখোপাধ্যায়

ছবি
পুজো রিলিজ মনীষা মুখোপাধ্যায় ছোটবেলায় আমরা গরিব ছিলাম। তার মানে এমন নয়, এখন খুব বড়লোক এখনের কথা থাক ছোটবেলার কথা শোনো পাশের বাড়িতে মাংস রান্না হলে আমরা সেদিন লতা ও হেমন্ত শুনতাম মন দিয়ে যেদিন ওদের পোলাও, সেদিন আমাদের সন্ধ্যা নয়তো অশোকতরু। মান্নার বিরহ বেজে উঠত অন্যের ইলিশ মাছের দিনে। আমার আটপৌরে মা গান ধরতেন ওদের দার্জিলিং ভ্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এখন দিন ঘুরেছে   বছরে দুটো বেড়ানো দিনান্তে রাইস, চিল্লি চিকেন, আমাদের পাথরের মেঝে আর নতুন দেয়ালে  নকল যামিনী রায় দোলেন মান্না হেমন্ত অশোকতরুরা কে কোথায় ছিটকে গিয়েছে! বাবার পুরনো দেরাজে মুখ গুঁজে পড়ে আছে পুজো রিলিজের লতা আশা। মায়ের স্বরলিপির খাতা  নিয়ে গিয়েছিল ও পাড়ার মিলুদি। ওর বাবা রেলের হকার ছাদে মাদুর পেতে  সন্ধেয় গান ধরে মিলুদি, বাতাসের কানে কানে তার ঘোর লাগা শব্দ  আমাদের বারান্দার কাছে এসে থমকে দাঁড়িয়ে যায়।  মা তখন মুখে আঁচল চাপা দেয় সত্যিই একসময় আমরা খুব গরিব ছিলাম তবে একদিন  এমন নিঃস্ব হয়ে যাব এ কথা কেউ ভাবিনি। মূল পাতায় যান 

কবিতা, শুভাশীষ ভাদুড়ী

ছবি
শুভাশীষ ভাদুড়ীর কবিতা ১. দিন থাকিতে দিনের সাধন আমি হাঁটি চেনা গলি ধরে একা একা, সঙ্গে কেউ নেই , গলিটা তো তিন-রাস্তা মোড়ে হারিয়ে ফেলেছে তার খেই; মিশে গেছে কর্মব্যস্ততায়, একটানা একঘেয়ে সুরে বড় ভারী গম্ভীর চাকায় জড়িয়ে, সে চলে গেছে দূরে আমার বিরক্তি জাগে খুব, চেনা ভঙ্গি, জানা শব্দস্বরে থমকে যাই নেশাড়ু-বেকুব, ধুলো-ধোঁয়া চটি জাপটে ধরে। ঝিমানো দুপুর গলি থেকে কখন দাঁড়ালো পাশে এসে, এতসব নড়াচড়া দেখে তারও ভাতঘুম গেছে ফেঁসে, মুখ এনে কানের ওপরে, চুপি চুপি আলস্য জড়ানো গলায় আমাকে প্রশ্ন করে-- নিরিবিলি কোনও প্রান্ত জানো? আমি ভাবি...দুপুরও চিন্তায়... শশব্যস্ত জঙ্গি ভূগোলের কোন্ দিকে, কোন্ ঠিকানায় ঝিম ধরে চলা যাবে ফের! কোনদিকে গেলে তবে প্রায় আরেকবার ফের হাঁটা যাবে পাট-ভাঙ্গা নতুন রাস্তায়... ২. নিচু তলার পদ্য ও ফঙ্গ-বেনের দল , কোন রঙ্গবশে বল অঙ্গ ভ'রে ছোপালি গুলাল , চেয়ে দ্যাখো চতুর্দিকে, স'ন্দে হয়ে এল ফিকে , বের হচ্ছে রাতের কঙ্কাল  রাত বড় ঢ্যামনা বুড়ো,  কম্বলের ধরা-চুড়ো পরে যদি হাজির এখানে, আমরা কেন দুখ্খু করে  যাব চলে যম-দুয়োরে; কেন ঘরে খিল দেবো মানে!  তাই এ...

কবিতা, যশোধরা রায়চৌধুরী

ছবি
যশোধরা রায়চৌধুরীর কবিতা ১. মধ্যমেধার গল্প কাজে লেগে যাবে ভেবে মধ্যবিত্ত আলমারিতে তুলে রাখল কতবিধ মেধা ও মনন তুলো মুড়ে তুলে রাখল প্রতিবাদ, লকারে লকারে রইল ভাবার অভ্যেস পাশাপাশি রাখা রইল গরিবের কথকতা, মার্ক্সদেবতার গীতা , ভূতের গল্পেরা পাশাপাশি নিরুদবেগ, শোকেস-সাজানো রইল ধর্ম, বক, জিরাফ, জৃম্ভন। মধ্যমেধা শুদ্ধ করে রেখেছিল অন্তরের ধন আলমারিতে তুলে রাখল রবীন্দ্র রচনাবলী, বিপ্লব, কীর্তন। আজ পাশে রেখেছে কুড়িটি খুন, দশ থ্রিলার, চারিটি ওটিটি মধ্যমেধা আপাতত প্রাপ্তবয়স্ক হল, ছেঁটে ফেলে চরিত্রের ভিতু ভিতু কুন্ঠিত ত্রুটিটি ২. সাফল্যবিভ্রম "success has no taste or smell and when u get used to it it is as if it never existed" dialogue from spanish film  "all about my mother "  এই সেই প্রত্যাশাপূরণ।  এই সেই চূড়ান্ত অধিষ্ঠান, আরো বেশি সুখের মরণ।  এর পর নেই কিছু আর।  আছো তুমি স্বর্ণবুদবুদে।   কে তোমার মুখে দেবে খুঁটে হে খাবার?  মুখমন্ডলের মধ্যে একবার প্রবেশ করলে খাদ্য হয় ঢেলা।  দাঁতে চিবনোর আগে আদিম সম্পর্কলোভী,  তোমাদের নেই হেলাফেলা...  কাতর সে...