কবিতা, শুভজিৎ মাহান্তী
শুভজিৎ মাহান্তীর কবিতা
১.
অনামিকা
অনামিকা, তুমি থেকে যাও আমাদেরই কাছে ।
হয়তো বা সঞ্জীবনী হয়ে
মৃত শঙ্খের শরীরে শাদা এঁকে দিয়ে যাও আর একটুখানি
তোমার চোখে এখন পৃথিবীর যত চিতার লালাভ আগুন,
কিন্তু চিন্তার আগুনে দগ্ধ তোমার মুখের সামনে কৃষ্ণপক্ষের নীল কুয়াশা এসে জুটেছে ।
দূর্বার নরম শরীরে শীতমাসের শিশিরের কবোষ্ণ চুম্বন
তোমার শরীরে কী স্থবিরতা এনে দেয় ?
অনামিকা, তুমি যেয়োনা আর
থেকে যাও আমাদেরই কাছে ।
২.
নিরুপমা
একদিন কৃষ্ণচুড়াও কেঁদেছিল
রক্তের দিকে চেয়ে ।
যৌবনের খরস্রোত পেরিয়ে,
অসময়ের কিউমুলোনিম্বাস
আমাকে আরো দূরে ঠেলে দিয়েছিলো
তোমার থেকে নিরুপমা ।
ঘাসের শব্দ শুনে শুনে
আমি বার বার গেছি দরজায়
অল্প বাতাসে তোমার গন্ধ পেয়েছি
সেদিন রাতে দুজনের উষ্ণ শরীরে
রক্ত কেমন প্রয়াগের মতো উত্তাল
হয়েছিল।
আমার পাশবিক ভ্রূকুটি টুকু
নিস্তেজ করে দিয়েছে তোমার পরশ
আবার ঘাসের শব্দ শুনে শুনে আমি যাই সেই দরজায়।
৩.
আশ্বিনের কবিতা
প্রত্যেক দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর তুমি ।ক্ষুধার অগ্নি কালপ্রবাহের সাথে ঊর্ধ্বগামী, যেন অর্জুনের গান্ডিব নাভিমুন্ড থেকে সমস্ত উষ্ণ নিঃশ্বাস সন্ধান করেছে আশ্বিনের আকাশে ।
আমার প্রত্যেক দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যায় এই আশ্বিন মাস।
যেখানে গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান আধপাকা ধানের নরম মঞ্জরী থেকে উঁকি দেয় আমার জন্মলগ্নে ।
আমার অন্তর্লীন কপিশ হিংস্রতা মাঝে মাঝে চায় পৃথিবীটা অন্ধকারে ঢেকে যাক !
বৃক্ষছায়ার অন্ধকারে !!
আমার প্রত্যেক দ্বিতীয় অন্বেষণে তুমি স্বর্ণ মুকুট পরিয়েছ।
আমার নিভৃত আরাধনায় গ্রহণ করেছ একশ আট টা পুন্ডরীক ।
কিন্তু পৃথিবীর এই বিচিত্র আশ্বিনের
আড়ম্বরের কথা জিজ্ঞেস করতেই,
সাদা কাশফুলের থেকে সাদা ভাতই যে তোমার বহু বেশি প্রিয় তাতে শীলমোহর এঁটেছে তোমার প্রথম উত্তর ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন