পোস্টগুলি

দীপংকর রায়ের উপন্যাস লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১৭ তম তথা শেষ পর্ব                বাড়ির দরজায় পা ফেলতে না ফেলতে বাড়িশুদ্ধ লোকের যেন এক সঙ্গে নানা অভিযোগের মাঝখানে পড়ে সে শুধু বললো, ইদ্রীশ কাকার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তাই কথা বলতে বলতে দেরি হয়ে গেল ।                 চেতন ফকিরের কথাটা সে বেমালুম চেপে গেল। কারণ সামনে, একটু দূরে সাথীর বাবা দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি ওই মানুষটিকে আবার খুব একটা ভালো চোখে দেখতে পারেন না। এর আগে তার এই বহেমিয়ানা  নিয়ে, তার ঘরসংসারের প্রতি দায়দায়িত্বের কথা নিয়ে যে সব আলোচনা সামান্য একটু হয়েছিল, তাতে তেনার নানা অভিযোগ আছে তার প্রতি । তাই সে ভাবলো তার কথাটা বলা যাবে না একেবারেই। এরপরে আরো যদি শোনে এরা ----সে তার ওখানে আতিথ্য গ্রহণ করতে চেয়েছে, তাহলে তো তার প্রতিক্রিয়া সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এবং তার বিবাহ সংক্রান্ত আরো বিষয় উঠে এসে সে এমন এক ঝামেলা বাধিয়ে দেবে যে, তখন তার আর কোনোদিকেই সমর্থনের জায়গা থাকবে না। তাই  ঘরে এসে সে তার এই মুহূর্তের প্রাপ্ত অস্থায়ী টেবিলের সামনে বসে পড়লো। অনেকটাই স্থির হতে চাইলো। এবং একেবারেই একা। ভাবছে, এতক্ষণ শুনে আসা কথাগুলি নিয়ে। ভাবছে, ইদ্রীশ আলী যতভাবে দেশে...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১৬ তম পর্ব                এই সকালবেলায় দু'একজন বাজার-মুখো মানুষ আর ক্ষেত-পরিদর্শক চাষি ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পেল না সে এখান দিয়ে যেতে-আসতে। একটা সিগারেট ধরাতে খুব ইচ্ছে করছিল তার। ধরালোও হাঁটা থামিয়ে। তারপর ধপ্ করে বসে পড়লো ঘাসের উপর। অনেকক্ষণ বসে থাকলো কর্মহীন মানুষের মতো একা একা। তারপরে কখন উঠে অনেকটা দূর অবধি আরো খানিকক্ষণ হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে চললো। পরে মনে হলো, অনেকটা চলে এসেছে সে। তাই ফিরতি পথ ধরলো। পায়ের চটির তলা ধুলো-শিশিরে ঘাসমাটি জড়িয়ে মাখামাখি। পথের পাশে পড়ে থাকা পাটকাঠির টুকরো দিয়ে কিছুটা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চটির তলা পরিষ্কার করে নিয়ে আবার বসে থাকলো কিছুক্ষণ, সেই ক্ষেতের পাশে পথের ধারে। তার মনের ভেতর কোথাও যেন কোনো তাড়া নেই ফিরে যাবার। গত রাতের সেরকম কোনো স্বপ্ন- আকাঙ্ক্ষাও এখন আর তেমন করে স্পর্শ করে নেই তাকে। এখন যেন সে অনেকটাই হাত পা ঝাড়া । বাড়ি ফেরারও তাড়া নেই সেরকম । তার মনে হচ্ছে, যতক্ষণ না ওই গাছের ছায়া সামনের ফসলের ক্ষেতের উপর থেকে ঘুরে যায় ততক্ষণ সে সেখানেই চুপ করে পড়ে থাকবে। যদিও যথেষ্ট দূরেই রয়েছে সেইসব দেবদারু, পুয়ো, জাম গাছের অবিন্যস্...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১৫ তম পর্ব              ট্রেন চলছে । ট্রাক চলছে। হুড়পাড় করে বাসনকোসোন হাঁড়ি-কলসি সসপ্যান ওঠানো নামানোর শব্দ। ওপাশে লিলিপুটের মতো মানুষগুলো। পথিকও অনেক ছোটো হয়ে গেছে যেন। ভীষণ ছোট্ট লাগছে তাকে। সে নিজেকেই চিনতে পারছে না। এরপর মানুষজনের হাহাকার রব শোনা যাচ্ছে। ছানার জলটুকু দেবে গো মা, ছানার জল ....!               ময়রা পাড়ায় ছানার জলের চাহিদা বেড়ে গেছে। ভাতের ফ্যান। ফ্যান দাও.... ফ্যান দাও গো মা..... ফ্যানটুকুই দেও.... ভাত চাইছি না গো,  ভাত চাইছি না...... ফ্যান... একটু ফ্যান.... পারলি একটু লবন দিয়ো, এক ছিটে লবন.... লবনেরও বড় দাম গো, লবন ছাড়া কি চলে? লবন যে এ পোড়া দেশ থেকে কনে গ্যালো, তা কিডা কতি পারে আর... !               ওমা, ট্যাঁপা মাছের মুণ্ডুগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তার মুখের উপর! আবার তারা পেট ফুলিয়ে একবার মুখ ছাড়িয়ে উঠে যাচ্ছে, আবার মুখের কাছে  এসে দাঁড়াচ্ছে। তার যেন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। ওঁ..... ওঁ....  ও.... ও, আঁ.... আ.... আ..... ; এইসব গোঙানি শুধু।               পথিকের ঘর থেকে অনেকক্ষণ এই ধরণের আওয়াজ আসছে দেখে রুণী উঠে এসেছে মাঝের দরজা খুলে। সে চাপ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১৪ তম পর্ব               নতুন ঠান্ডা পড়েছে। গায়ে একটা চাদরও দেওয়া হয়নি । এমনি এমনিই বাইরে বেরিয়ে এসেছে । উঠোনের মাঝে চক্কর খাচ্ছে যেন। কেউ জেগে গেলে কী মনে মনে ভাববে? বাঁ পাশের রান্নাঘরের মাথার উপরে বাঁশঝাড়ের মাথায় কিসের যেন ঝপাং করে আওয়াজ হলো। পুয়ো গাছের থেকে কদম গাছের ডালপালাতেও ঝপ ঝপ করে আওয়াজ। মনে হয় সেই ভাম বেড়ালটাই হবে হয়তো! সেই কি, যাকে সে এর আগেও কয়েক দিন দেখেছে ওই জায়গাগুলোতে ঘোরাঘুরি করতে। কিন্তু সেই কি? হয়তো সে নয় , নয়তো অন্য আরো একটি। যে হয় হোক গে। যেদিকে যায় ওরা যাক না। তাতে কার কী! ওদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই তো! ওরা তো কাউকে দাসখত দেয়নি, এই রাতে চলাচলে ! তাই যাক না কদম গাছ থেকে পুয়ো গাছে । যাক না বাঁশঝাড়ের মাথার থেকে কাঠাল-জাম-জামরুল-জারুল যেদিকে খুশি চলে-ফিরে ঘুরে এই জীবনের গন্ধ সুবাস মাখুক, তাতে কার কি! এই রাতের বেলায় কত আরো নিশাচর প্রাণীরা তো আছে, তারাও ঘুরুক, ভেসে বেড়াক এইসব শীত রাতের মিহি-আলোয় প্রাণ ভরে। তাতে কার কি! ওদের কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না তো!                অঘ্রাণের এই শীত রাত্তিরে তার এই জেগে থাকা ; ওই বাঁশ বনেরাও কি জেগে নেই...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১৩ তম পর্ব                 একার যা তা তো স্বার্থপরের। সেখানেও কি দু'জন আছে কিছু?                  তাহলে, তার পরেও যা যায়, তাতে কি নিয়োজিত হন সেই মহান ? যদি তা নিরাকারের, তাহলে সে তো সেই অসীমেই ধাবমান ---- তা তো অসীমে যায়, সে সব তো তাহলে সবই সেই মহানের ;                 ভাবছি, এতটা উপরে তাকে ওঠাই কী করে? সে সব কি আমার চোখেরই ভাষা শুধু ; তার সবটুকু কি সেই আক্ষেপেই ধরা দিয়ে থাকলো!               যদি এসব কিছুর প্রকৃত কোনো অর্থ থাকে তাহলে সে তো কোনো কিছুই ভ্রুক্ষেপ করছে না ! যে ভাব রসে ডুবতে চাইছি আমি।                 তাহলে কোথায় লুকিয়ে আছে সেই অর্ঘ্যের ভাষা? সত্যিই কি কিছু প্রাপ্য ছিল কোথাও কিছু!                 সেই জন্যেই তো মনে মনে বলতে ইচ্ছে করে, হে অপদার্থ, এই সহজ জিনিসটাকে কেন এত জটিল করছ? সব স্থিতিস্থাপকতাতেই তো এই জীবন; এইটুকু সংঘর্ষ নিয়েই তো বেঁচে থাকা।                 তাহলে আর কান্না কিসের এত?                  বাঃ! কান্না থাকবে না! সবেরই কান্না থাকবে। আপন আপন কান্না সেসব। খুব গোপোনের সে সব ; এই অ-আলাপচারী মন নিয়ে কি করবে তুমি? যা কিছুর জন্যে এই ঘ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১২ তম পর্ব উনত্রিশ , তিরিশে অঘ্রাণ        ছাব্বিশ তারিখের পর আর দিনলিপির খাতায় হাত পড়েনি। কেন পারিনি, সে কথা জানি না। লিখতে ইচ্ছে করেনি তাই পারিনি। চলছে শুধুই এলোমেলো বিচরণ, এসব একটি বিষয় যেমন, তেমন হয়তো আরো আছে কিছু যা অজানা।          ওদিকে ঢাকা থেকে ফিরেই রফিকভাইএর ভাষা সংখার জন্যে পাঠানো চেক পেলাম। এই একজন মানুষ ----- যার কাছে কত ঋণ রয়ে গেল।         এর পরের পরের দিন একবার রাড়ীখালী মুখো গেলাম আবারও ------ কেন যে, তা তো জানি না! সামান্য সময়ই ছিলাম, তারপরে আবার মাগুরা।           মাগুরা পর্ব এবারের মতো সেরে অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে শ্বশুরালয়ের দিকে পা বাড়ালাম। একবারও মন চাইনি যে তা না, চেয়েছে, ভেবেছিলাম অবাধ্য হয়ে প্রথমে আমাকে বাড়ির ভেতরে হাত ধরে নিয়ে যাবে সেই। কিন্তু না। তা আর পারলো কই ----- অভিমান? হয়তো। কিন্তু কিসের?          এসবের মধ্যেও নাকি অন্য দরদ আছে!           বারবার মনে পড়ছিল সেদিন রাতে রাড়ীখালী থেকে ফেরার সময় নদী পার করে মামার অন্ধকার পথ পেরিয়ে বাসে তুলে দিয়ে যাবার কথাটি। বাকি পথটুকু তার অন্ধকারে একা একা ফিরে যাবার চিত্রটা যেন নিমেষে চোখের সামনে দেখতে ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১১ তম পর্ব                বলা চলে অলিখিত এক চুক্তিনামায় সাক্ষর হয়ে গেল দাদু আর আমার নাম । আমরা উভয়ে উভয়কে খানিকটা জীবনের নিশ্চয়তার গোপন দেনাপাওনায় বেঁধে ফেললাম যেন। আমার নানা শূন্যস্থান পূরণে তার সাহারা পেতে থাকা কীভাবে যেন ভুলিয়ে দিল তার আর আমার মাঝখানের তথাকথিত সম্পর্কের দূরত্বকে------।               মানুষের স্বভাব, সে পেলে আস্তে আস্তে নিজেকে ছেড়ে দেয় খানিকটা । মনে করে সত্যিকারের সম্পর্ক তো এটাই ; এবং সেইসব অধিকারে কোথাও যদি ফিরতি পথের কোনো দিশা না দেওয়া থাকে , তাহলে সেই পরিসর বাড়তে বাড়তে ঠিক এতটাই বেড়ে যায় ------ যা আজ বেড়ে গেছে বলে মনে হলো। যেন আজ আর ওদের দেওয়া দুই পাঁচ হাজারকে আমি আর ধার বলেও ভাবতে পারি না। আর এই দাবি , অধিকার বাড়ানোর পেছনে তাদেরই ভূমিকা বরাবরই আমার ইচ্ছা অনিচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে তাদের মতো করে। তাদের এই নিয়ন্ত্রণ আন্তরিক হোক আর বৈষয়িক হোক, যেটাই হোক, আমাকে সে কথা বুঝতে দেয়নি হয়তো নানা আচার আচরণ থেকেও সবটা পরিষ্কার ভাবে।                আর আজ, এই যে এই মুহূর্তে যে ঘটনা ঘটল তার জন্যে কি সত্যিই আমার অভিমান করা চলে ?                বিড়বি...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১০ম পর্ব   অঘ্রাণ, বাইশে নভেম্বর               আজ বুঝি তাঁর কৃপা পেলাম ! একেবারে সকালে উঠেই একটি গল্প------ লেখা হয়ে গেলে পড়ে শোনাবার ইচ্ছে জাগে মনে মনে। কাকে শোনাবো ? কে শোনে এইসব কলাকৌশল ?  সত্যিই কি বোঝাতে পারবো ? সবটা বোঝানোরই বা কী আছে ? যদিও মনে হলো, সে কিছুটা বুঝতে চায় হয়তো। কিন্তু আজ কি সময় আছে তার ? আজ যে শ্যালিকার বাড়ির ভাড়াটে  ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেটি এসে উপস্থিত হয়েছে। সে রাতে কার্তায়নী মণ্ডবে যার গলা জড়িয়ে তাক করেছিল বেলুন ফুটো করতে বন্দুকের নল। সে যে এখন তাকে নিয়েই আটখানা হচ্ছে আহ্লাদে উচ্ছাসে । এখন কি আর এই ধেড়েকেষ্টর কী আবেগ ঘন হলো, সেদিকে নজর আছে তার ? সে যে একেবারে মামি মামি করে আহ্লাদে গড়িয়ে পড়ছে দু'হাত ধরে !                 যদিও তার এই আগমন হেতু টিপ্পনী কেটে জানিয়েও গেছে, বলেছে চোখ টিপে, দেখেছেন তো, দেখেছেন তো, ভাগ্নে কেমন ভাবরসে ডুবে ছুটে এসেছে চল্লিশ কিলো ঠেঙ্গিয়ে ----?                 ভেতরে ভেতরে মেয়েদের এই বৈচিত্রের স্বাদ নেওয়া নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ নিজেকেও জড়িয়ে উদাস হয়ে পড়ে রইলাম জানলার পাল্লাটি খুলে বাইরের দিকে চেয়ে।          ...