পোস্টগুলি

শ্রীসদনে দৈনন্দিন - ২

ছবি
শ্রীসদনে দৈনন্দিন - ২ মধুপর্ণা স্মৃতির উত্তরাধিকার এক অদ্ভুত বায়বীয় বাস্তব। শ্রীসদনে যে ছাত্রীরা থেকেছেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম বেশকিছু মাস যাবত৷ স্মৃতির সাঁকো বেয়ে একটা সামগ্রিক ধারাবাহিকতার ছবি দেখার ইচ্ছায়। রবীন্দ্রসমকালে এবং পরবর্তীতে ছাত্রীদের শান্তিনিকেতনবাস এবং আবাসজীবনের স্মৃতি বিষয়ে বইপত্র বিস্তর। যাঁরা বিগত, তাঁদের কথা সেইসব বইপত্র থেকে জানা গেছে। কিন্তু যাঁরা বর্তমানে রয়েছেন এবং একটা সময় কাটিয়েছেন শান্তিনিকেতনে, শ্রীসদনে তাঁদের কাছ থেকে জীবন্ত মণিমাণিক্য মিলেছে বহু। শ্রীসদনের আাবসিকাদের সঙ্গে যখন দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, আবাসজীবনের প্রসঙ্গে একটা উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ে তাঁদের মুখের মনিটরে, কথায়, স্বরে। অপরিচিত তরুণী নিমেষে চেনা হয়ে যায়, বিচিত্র গল্প বলে যান সহজেই। সেইরকম এক কথোপকথন থেকে কিছু অংশ …               “বর্ষে বর্ষে দলে দলে, আসে বিদ্যামঠ তলে / চলে যায় তারা কলরবে...” গুনগুন করছিলেন তিনি। “ তারপর শোনো, আমার যিনি রুমমেট ছিলেন দারুন গান গাইতেন তিনি,পরবর্তীতে অবশ্য সেসব পাঠ চুকে যায় “, “ ওয়েটিং রুমটা এখনও সেরকমই আছে নাকি...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র শিল্প ।। মুকেশ কুমার মাহাত

ছবি
২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি পুরুলিয়া জেলার বাগমুন্ডী থানার পাহাড়তলি ধনুডি এলাকার খুদুডি গ্ৰামে জন্মগ্ৰহণ করেন আলোকচিত্র শিল্পী মুকেশ কুমার মাহাত। প্রত্যন্ত এই গ্ৰামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম এই আলোকচিত্র শিল্পীর। পিতার নাম শৈলেশ্বর মাহাত। সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয় থেকে বাল্যকালের শিক্ষা গ্ৰহণ করার পর পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মূ আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন মাধ্যমিক। এরপর বলরামপুর কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট হন তিনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি নির্ধারণের অযোগ্যতার ফলে কর্মসংস্থানে বেহাল দশা তৈরি হয়। যার ফলে সেইভাবে কোনো কাজ জোটাতে পারেননি তিনি। একদিকে সাংসারিক প্রতিবন্ধকতা অন্যদিকে কর্মহীনতা, বাধ্য হয়েই সিকিউরিটি সুপারভাইজারের কাজ নিয়ে কখনো জয়পুর তো কখনো ওড়িশ্যাতে যেতে হয় তাঁকে। তার সাথে সাথেই চলতে থাকে ছবি তোলার কাজ।          তিনি জানান ------ পেশাদার আলোকচিত্র শিল্পী নন তিনি। ভালোবাসার খাতিরেই ছবি তোলেন। বিভিন্ন ধরনের ছবি তুললেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীট পতঙ্গের ছবি তুলতে বিশেষ পছন্দ করেন।             আলোকচিত্র শিল্পের যাত্রাপথে আজ পর্যন্ত কোনো পেশাদ...

সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষাপটে কবির দায়বদ্ধতা

ছবি
সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষাপটে কবির দায়বদ্ধতা তৈমুর খান সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিটি কবির উত্থান সূচিত হয়। যদিও কবির ব্যক্তিজীবনের শূন্যতা বড় হয়ে ওঠে কবিতায়, যদিও ব্যক্তিজীবনের অবদমনের ভাষাকেই তিনি রহস্যময় কবিতায় ছায়াপাত ঘটান, তবুও সেই ব্যক্তিজীবনই নৈব্যক্তিক সমষ্টি চেতনায় যূথবদ্ধতার পরিচয় দেয়। কেননা ব্যক্তিজীবনের সমষ্টিই সমাজজীবনের আধার। আবার সমাজজীবনই আবহমান মানবজীবনের তথা মানবসভ্যতার পরিচয় বহন করে। একজন কবি কখনোই তাঁর সময়কালকে উপেক্ষা করতে পারেন না। তাঁর সমাজজীবনের অবনমন অথবা উৎকর্ষ তাঁকেও স্পর্শ করে। সমাজের অবক্ষয়, অথবা সংঘাত যে মানবজীবনেরও অন্তরায় এবং সংকট ডেকে আনে তা বলাই বাহুল্য। ১৯৪২ সালের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। নিরাপত্তাহীন জীবনে স্বপ্নভঙ্গের অভিশাপ নিয়ে তিল তিল করে তারা মৃত্যুকে উপলব্ধি করছিল। সেই অন্তহীন অনিবার্য উদাসীনতাকে 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যের 'বিভিন্ন কোরাস' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন: "নিকটে মরুর মতো মহাদেশ ছড়ায়ে রয়েছে : যতদূর চোখ যায়— অনুভব করি; তবু তাকে সমুদ্রের ত...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। চিত্রশিল্প ।। শ্যামল বরণ সাহা

ছবি
কবি ও চিত্রশিল্পী শ্যামলবরণ সাহা ভালোবাসার রঙে, মনের রঙে ছবি আঁকেন। তাঁর এক একটা চিত্রশিল্প এক একটা কবিতা বললেও ভুল বলা হয় না। তিনি চিত্র দিয়ে কবিতা লেখেন এবং কবিতা দিয়ে চিত্র আঁকেন। এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে তাঁর সাবলীল বিচরণ অবাক করার মতো। আর সব থেকে অবাক করার মতো তাঁর সংগ্রামী জীবন, শিল্পবোধ এবং পরিশীলিত আচরণ। শুধুমাত্র বন্ধু বৃত্তের মধ্যেই নয়, অপরিচিত কোনো ব্যক্তিও একবার তাঁর সংস্পর্শে এলে সারা জীবন স্মরণে রাখবেন তাঁকে।            কবিতা এবং চিত্রশিল্প, এই দুই শিল্প মাধ্যম তাঁকে সব্যসাচী করেছে। শিল্পের আগুনে পুড়ে, শব্দের দক্ষিণা খুঁটে বেঁচে থাকেন তিনি। ভালোবাসেন বাগান করতেও। এযাবৎ ৭ টিরও বেশি একক প্রদর্শনী, বহু যৌথ প্রর্দশনী করেছেন। লিখেছেন ১৩ টিরও অধিক কবিতার বই। ১৯৮৭ সালে আই. এ. এ. আই. থেকে অল ইন্ডিয়া ইয়ং আর্টিষ্ট হিসেবে পুরস্কৃতও হয়েছেন তিনি। উত্তম মাহাত, সম্পাদক  কবি ও চিত্রশিল্পী শ্যামল বরণ সাহা এ পর্যন্ত ছবিগুলো আমাদের অনুরোধে পুরুলিয়া লিটলম্যাগ মেলাতে এসে কবি নির্মল হালদারের বাড়িতে বসে এঁকে দিয়েছেন কবি ও চিত্রশিল্পী শ্যামল বরণ সাহা। আর বাকিগুলো অর্থাৎ নিচের দিকের...