পোস্টগুলি

বাইরে নৈঃশব্দ, ভিতরে হৈ চৈ / মধুপর্ণা

ছবি
বাইরে নৈঃশব্দ, ভিতরে হৈ চৈ মধুপর্ণা দ্বিতীয় পর্যায়ের লকডাউন তখন। বাইরে নৈঃশব্দ, ভিতরে হৈ চৈ। হঠাৎ খবর পাওয়া গেল একজন গৃহবধু 'পালিয়ে গেছেন'। কোথা থেকে কোথায় পালিয়েছেন? পরিবারের 'সুরক্ষিত', 'নিরাপদ' আশ্রয় ছেড়ে বাইরের বধ্যভূমিতে। তিনি কোথাও যান নি, কোথাও পৌঁছোন নি, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন। একা। অথবা নিজে। একা একা পালিয়ে গেছেন--- বলছিল একজন। কানে অনুবাদ হয়ে বাজল-- নিজে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। মৃনালকে মনে আছে ? ‘স্ত্রীর পত্র’ এর মৃনাল । চলে গিয়েছিল 'চরণতলাশ্রয়ছিন্ন' করে। আর এই গৃহবধু, সারাজীবন যিনি কোনদিন বাইরে 'একা' যান নি। ঘরকন্নার কাজ সামলে উচ্চবর্ণীয় উচ্চবর্গীয় পরিবারটির সামাজিক উন্নাসিক সম্মান ধুনো দিয়ে জ্বালিয়ে রেখেছিলেন, স্বামী পুত্রদের ভীড়ে প্রায় অদৃশ্য হয়ে বেঁচে ছিলেন (হয়তো)। সেই তিনি হঠাৎ ‘পালিয়ে গিয়ে’ খবর হলেন, হলেন আলোচ্য বিষয়। কেউ বলল-- মাথা ঠিক নেই। কেউ বলল-- কোথায় আর যাবে! গোয়ালের গরু ঠিকই ফিরে আসে। কেউ বলল-- আগে একবার মরতে গেছিল, এবার পালিয়েছে। কেউ বলল-- বিবেচকের মত কাজ এটা হল? পরিবারের মান সম্মানের কথাটা একবার ভা...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। দ্বাবিংশতি ওয়েব সংস্করণ ।। ১ ফাল্গুন ১৪২৮ ।। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

ছবি
মানুষ এতখানি ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠার পেছনে কেবলমাত্র মানুষের অমানুষিক কার্যকলাপই দায়ী। সে অতিমারি প্যানডেমিক করোনা হোক বা অন্য কিছু। আসলে মানুষ তার লোভ থেকে কখনোই বেরিয়ে আসতে পারেনি। যার ফলে অন্যের জীবনকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবলমাত্র নিজে বাঁচার নেশায় মগ্ন হয়ে থেকেছে সব সময়। কিন্তু পৃথিবীর এই প্রাকৃতিক গঠন এমন ভাবে তৈরি করা রয়েছে যে, এখানে একটার সঙ্গে আরেকটা বিষয় দারুন ভাবে সম্পৃক্ত এবং সম্পর্কযুক্ত। যার ফলে গুরুত্ব না দেওয়া বিষয়গুলো কার্যত পক্ষে নিজের ঘাড়েই এসে নিঃশ্বাস ফেলে শেষমেষ। অন্যকে অবহেলা করতে গিয়ে নিজেকেই অবহেলার শিকার হতে হয় এক সময়।            শিল্পোন্নয়নের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি ঘটে চলেছে ধারাবাহিকভাবে। তথাপি শিল্পপতিরা তাদের লাভের অঙ্ক মাথায় রেখে পরিবেশ বাঁচানোর জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া দরকার তার কোনটাই নেয়নি। যার ফলস্বরূপ উষ্ণতা বৃদ্ধির গ্ৰাফরেখাও ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। খরা এবং অতিবৃষ্টিতে পেয়ে বসেছে আমাদের প্রকৃতিকে। আমরা প্রায় প্রতিবছরই তার ধ্বংসলীলার সম্মুখীন হচ্ছি। শিল্পপতিরাও এর থেকে বাদ থাকছে না। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নানাভাবে।           ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ১২ তম পর্ব উনত্রিশ , তিরিশে অঘ্রাণ        ছাব্বিশ তারিখের পর আর দিনলিপির খাতায় হাত পড়েনি। কেন পারিনি, সে কথা জানি না। লিখতে ইচ্ছে করেনি তাই পারিনি। চলছে শুধুই এলোমেলো বিচরণ, এসব একটি বিষয় যেমন, তেমন হয়তো আরো আছে কিছু যা অজানা।          ওদিকে ঢাকা থেকে ফিরেই রফিকভাইএর ভাষা সংখার জন্যে পাঠানো চেক পেলাম। এই একজন মানুষ ----- যার কাছে কত ঋণ রয়ে গেল।         এর পরের পরের দিন একবার রাড়ীখালী মুখো গেলাম আবারও ------ কেন যে, তা তো জানি না! সামান্য সময়ই ছিলাম, তারপরে আবার মাগুরা।           মাগুরা পর্ব এবারের মতো সেরে অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে শ্বশুরালয়ের দিকে পা বাড়ালাম। একবারও মন চাইনি যে তা না, চেয়েছে, ভেবেছিলাম অবাধ্য হয়ে প্রথমে আমাকে বাড়ির ভেতরে হাত ধরে নিয়ে যাবে সেই। কিন্তু না। তা আর পারলো কই ----- অভিমান? হয়তো। কিন্তু কিসের?          এসবের মধ্যেও নাকি অন্য দরদ আছে!           বারবার মনে পড়ছিল সেদিন রাতে রাড়ীখালী থেকে ফেরার সময় নদী পার করে মামার অন্ধকার পথ পেরিয়ে বাসে তুলে দিয়ে যাবার কথাটি। বাকি পথটুকু তার অন্ধকারে একা একা ফিরে যাবার চিত্রটা যেন নিমেষে চোখের সামনে দেখতে ...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। একবিংশতি ওয়েব সংস্করণ ।। ১৭ মাঘ ১৪২৮ ।। ৩১ জানুয়ারি ২০২২

ছবি
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে এমন ঐতিহাসিক জনসংখ্যা হ্রাস কখনও দেখা যায়নি। করোনা কালের মধ্যে ১০ লক্ষ জনসংখ্যা কমল রাশিয়ার। কোভিডে মৃত্যু লুকনোর অভিযোগ পুতিনদের বিরুদ্ধে।        রোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ায় করোনাভাইরাসে ৬,৬০,০০০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের তুলনায় এই পরিসংখ্যান অনেক বেশি। রাশিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে মৃত্যুর সংখ্যাটা হলো ৩,২৯,৪৪৩।           শুধুমাত্র রাশিয়া নয়, সারা বিশ্বের সমস্ত দেশের সরকারি ওয়েবসাইটের করোনা মৃত্যুর তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া সম্ভব নয়। তার পিছনে কেবলমাত্র যে মৃত্যু সংখ্যা লুকোনোর বিষয়টি রয়েছে তা নয়, আরও অনেক কিছুই রয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে সরকারি ব্যর্থতা এবং রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অভব্য ব্যবহারের কারণে মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে হাসপাতাল মুখো হতে চাননি সে সময়। এই সময়কালের মধ্যে জ্বর বা অন্য যা কিছু হয়েছে, সবকিছুই চেপে গিয়েছেন অথবা গ্ৰামাঞ্চলের ডাক্তারদের দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে নিয়েছেন। ফলে করোনা হয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে করোনা না হয়েও অনেক অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার পরিসংখ্যান সরক...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। চিন্টু দত্ত

ছবি
সুকৌশলী আলোকচিত্র শিল্পী চিন্টু দত্ত ১৯৮৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্মগ্ৰহণ করেন। ছোটোবেলা থেকেই আলোকচিত্রের প্রতি একটা অন্যরকম আকর্ষণ অনুভব করেন তিনি। পিতা কমলেশ দত্ত মহাশয়ের সুচতুর সাহচর্যে আলোকচিত্রের প্রতি গড়ে ওঠা এই আকর্ষণ শেষ পর্যন্ত তাঁকে আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়ে ওঠে।              আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে তাঁর আলোকচিত্র শিল্প সৃষ্টির ধারা শুরু হয়, যা এযাবৎকালেও সমানতালে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে।              পুরস্কারের পিছনে না দৌড়ে শিল্প সৃষ্টির নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা এই আলোকচিত্র শিল্পী সকলের কাছে অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। এটাই তাঁর সব থেকে বেশি সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। উত্তম মাহাত, সম্পাদক মূল পাতায় যান