পোস্টগুলি

ন্যায়বিচার

ন্যায়বিচার বিবেক সেন প্রায় বিশ বছর পর আমরা আবার সবাই ফিরে গেলাম আমাদের যৌবনের সেই কর্মক্ষেত্রে। সার্জেনসাহেবের বিশেষ অনুরোধে।  পাহাড়ী ঘুমন্ত গঞ্জ। ভোরের দিকে কুয়াশাঢাকা উপত্যকার কাঠের বাড়ি, স্কুলঘর, গুম্ফার শীর্ষ, দারচোগ আর লুংতার ওপারে শুধু মেঘ আর মেঘ। আর সে মেঘ ছাড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরে এক চিলতে রোদ্দুর। নতুন কনের মত লজ্জায় মেঘের ওড়নায় মুখ ঢেকে নেবার আগে ওটুকুই দেখার, ওটুকুই লাভ।  নব্বইয়ের দশকে এমন ব্লক সদরে চাকরি করা খুব কঠিন ব্যাপার ছিল। কয়েকজন বাঙ্গালী অফিসার, বিডিও আর তার কয়েকজন ইন্সপেক্টর, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার, এডিও, বিএলডিও, আইডিও, বাকি সব তো পাহাড়েরই ছেলে। শিলিগুড়ি থেকে প্রতিদিন আসা যাওয়া করাও সম্ভব নয়। আর অধিকাংশের বাড়ি কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগণা, তাই মাসে একবার ব্লক ছেড়ে যাওয়াও কঠিন ব্যাপার। দু'দিনের জন্য ঘুরতে এলে যেখানে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয় সেখানে বছরের পর বছর আটকে থাকা খুবই দুর্দশার। বিএলডিও সাহেব তো আট বছর একই জায়গায় পড়ে আছেন। তিনি মজা করে বলেন তার দপ্তর শুধু নয়, স্ত্রী পুত্রও হয়ত ভুলে গেছে যে তিনি আছেন। সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য আমরা প্রায় সকলেই অবিবাহিত ত...

চতুর্থ বর্ষ ।। পঞ্চদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ১৯ কার্তিক ১৪৩০ ।। ৬ নভেম্বর ২০২৩

ছবি
আমাদের দেশ নির্মাণের আসল কারিগররা খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন হেমন্তের এই সময়ে। একদিকে বর্ষা পরবর্তি সময়, অন্যদিকে উৎসবের মুহূর্ত, বর্ষার জলে ধুয়ে যাওয়া বাড়িঘরকে নতুন রূপে সাজানোর পালা। নতুন জীবনদান করার পালা। যৌবনবতী করে তোলার পালা। যাতে করে আরও এক বছর সুন্দরভাবে সেবা দিতে পারে আমাদের। অন্যদিকে মাঠে মাঠে পরিপক্ক হয়ে ওঠা সোনালী ফসলকে ঘরে তোলার তোড়জোড়। চাষিদের সামান্য বিশ্রামের উপায় থাকে না এই সময়। রাতে সামান্য নিদ্রা গেলেও বিভোরে বলতে থাকেন, "কাল কানালীর কচা ক্ষেতটা শেষ করে লম্বা ক্ষেতটায় হাত দিতে হবে গো। কামিন বাড়াতে হবে দু'চারজন। অনেক বড় ক্ষেত। পাঁচজন কামিন দিয়ে হবে না। মুনিষও বাড়াতে হবে। লট আঁটি বেঁধে তুলতে হবে আলে। ভরাট করে রাখতে হবে। ক্ষেতে তো জল। এ বছর কষ্ট একটু হবে।"                 কবে আর সুখ। চাষিঘরে সুখ বলতে একটাই, চাল কেনার ঝামেলা নেই। ধান পাকার পর কোনোমতে একবার ঘরে তুলতে পারলে সারাবছর ভিজা সিঝা করে খেলেই হলো। বাড়ির লতাপাতাতে ঝিঙে কাল্লা কুঁদরি সিম কোন না কোনটা হচ্ছেই। অভাব নেই। ধোয়া-মাজার জলটা লতাপাতার মূলে দিলেই হলো। আলাদা কিছু লাগে না।       ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। জয়দেব চক্রবর্তী

ছবি
এই ছবিগুলো ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ঘাটশিলা সহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে তোলা। শিল্পী তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে সেইসব জায়গাতে গিয়ে সযত্নে ক্যামেরা-বন্দি করেছেন এগুলো। এই ছবিগুলো দিয়ে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে এবং এখানকার আবহবিকারকে কিছুটা হলেও ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এই সুদক্ষ আলোকচিত্র শিল্পী। ১৯৬৫ সালের ৬ই জুন কলকাতার এক ব‍্যবসায়িক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অসাধারণ এই আলোকচিত্র শিল্পী জয়দেব চক্রবর্তী। ফটোফ্রেমিং এবং বাইন্ডিং এই ছিল ওঁদের ব‍্যবসা। সেই সূত্রে ছোটোবেলা থেকেই বিভিন্ন নামী অনামী চিত্রশিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্মের সঙ্গে একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবং সেইসব আঁকা ছবি দেখতে দেখতে একটা ভালো লাগার জায়গা তৈরি হয়, যা জীবনকে বেঁধে দেয় একটা অন্য খাতে। বলতে গেলে এই গভীর পর্যবেক্ষণ থেকেই এক সুন্দর শিল্পীমন তৈরি হয়। তৈরি হয় এক অসাধারণ আলোকচিত্র শিল্পী।               দেখার বাইরেও যে একটা দেখা থাকতে পারে, সেই ছোটবেলাতেই বুঝে গিয়েছিল তাঁর শিল্পীমন। তারপর জীবনে একটু থিতু হয়ে শুরু হয় ছবি তোলা। ২০০৫ সালে সমমনষ্ক কিছু ফটোগ্ৰাফিক বন্ধু নিয়ে একটা ক্লাব তৈরী করেন। সেই ক্লাবের পথচলা আজও থামেনি। বরং তার ক্রিয়াক...

চতুর্থ বর্ষ ।। চতুর্দশ ওয়েব সংস্করণ ।। ৫ কার্তিক ১৪৩০ ।। ২৩ অক্টোবর ২০২৩

ছবি
প্রজাপতির ডানায় ভর করে উৎফুল্ল মনে উড়তে ভালোবাসি আমরা। আকাশকে নীল, হলদেটে, লাল দেখতে ভালোবাসি অহরহ। তার জন্য ছুটেও যাই যোজন যোজন দূর। কিন্তু তাকে স্থায়ী করার কথা ভাবি না। তাই সাড়ম্বরে পালিত উৎসবের পর স্পর্শ করে যায় দুঃখের রোজনামচা।             আমরা যতটা অভাবি রাজ্য বলে মনে করি বা দেখানোর চেষ্টা করি এই রাজ্যকে তা কি স্পষ্ট হয়ে ওঠে এখানকার বড় বড় উৎসব গুলোকে দেখে? কখনোই না। কিন্তু যে কোন একটা হাসপাতালে গেলে? সেখানে সব সময় একটা সত্যিকারের অভাব পরিলক্ষিত হয়। দেখা যায়, এই রাজ্য কতটা বিবস্ত্র। দেখা যায় পরিকাঠামোর অভাবে হাজার হাজার রোগী বাধ্য হয়েই ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছেন প্রতিদিন। সেই বাহানায় ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে এই রাজ্যের টাকাও। অথচ কত কত টাকার প্যান্ডেলে, কত কত টাকার সোনার গহনা পরে বসে আছেন মা।                 সন্তানের এমন দুর্দশার সময় কিভাবে বসে থাকেন মা, এমন অবিচলিতভাবে?                এই সম্পদের একাংশ দিয়ে, সে সরকারি বা বেসরকারি যাই হোক না কেন, এখানকার চিকিৎসা পরিষেবার পরিকাঠামো বদলানো কি কোনভাবেই সম্ভব নয়? সম্ভব নয় ভিন রাজ্য থেকে বা ভিন দেশ থেকে আগত রোগীদের পরিষেবা দেওয়...