পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দ্বিতীয় বর্ষ ।। ষড়োশ ওয়েব সংস্করণ ।। ৫ অগ্ৰহায়ণ ১৪২৮ ।। ২২ নভেম্বর ২০২১

ছবি
গত শুক্রবার অর্থাৎ ১৯/১১/২০২১ তারিখ জাতীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, " হয়তো আমাদের তপস্যায় কিছু ভুল ছিল। যে কারণে আমরা কৃষকদেরকে আমাদের নিয়ে আসা এই আইন সম্পর্কে বোঝাতে পারিনি। তবে আজ কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আজ আমি দেশকে বলতে চাই যে আমরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিন কৃষি বিলে সংশোধন এনে ২০২০-তে যে আইন পাশ করে সরকার। তার বিরুদ্ধে দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে তুমুল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। এবং সমস্তকিছু সরকারি দমন পীড়ন উপেক্ষা করে, তাদের কূটনৈতিক চালকে ভেস্তে দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। যার কাছে পরাস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আরো একবার প্রমাণ করে, "সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।" মানুষের সমবেত সুষ্ঠু আন্দোলনের কাছে কোনো শক্তিই শেষ পর্যন্ত টেকে না; সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন।                 এই আইন বাতিল করার কথা ঘোষণার পর কৃষকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে। শুরু হয় মিষ্টি ও লাড্ডু বিতরণ।                   ফারমার্স প্রোডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রোমোশন অ্যান্ড ফেসিলিটেশ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৭ম পর্ব               উত্তর-পশ্চিম কোনে ছাদের একটি ধারে মাদুর পেতে কার্তিক-শেষ অঘ্রাণ-শুরুর এই সময়ে অল্প অল্প হিমের মধ্যে তারা কি এই রাতের  আকাশে হাজার হাজার নক্ষত্রদের ঘোরের ভেতর এখানে ভেসে যেতে এলো, নাকি এই আলো অন্ধকারের রূপ দেখতে আরো বেশি করে ছাদের এই কোনাতে এসে বসেছে তারা  ?                মানুষের কোনো কাজের ঠিকঠাক উত্তর পাওয়া ভার, কিন্তু এখন কেন সে এলো ? আগে কেন যেতে চেয়েছিলো না ?               এসব কথা অনেক কথার মধ্যে তলিয়ে ভূত হয়ে থাকলেও সে জানে কেন তার মন দশ বছর আগের সেই সব রোমাঞ্চকর মুহূর্তেই ফিরে যেতে চাইছে ! কিন্তু কিই বা সাযুজ্য আছে তার সঙ্গে এর ?                এই একরত্তি মেয়েটির কী এমন আচার-আচরণ দেখে তার মধ্যে এমন মুগ্ধতা প্রবেশ করলো ? কেনই বা মেয়েটি, এই ধেড়েকেষ্ট ননদে-জামাই-এর সঙ্গে এমন ভাবে, এতটা গদগদ হয়ে যাচ্ছে আজ ?                 মোহিত হবার মতন এমন তো কোনো বিষয় নেই তার মধ্যে। যার জন্যে এতটা আবেগে থরথর হয়ে উঠতে পারে ! তবু কীভাবে যেন এই দুটি দিন সে তার সমস্তটা সময় কেড়ে নিয়েছে। সে যতটা না ভাবছে, মেয়েটি কি বউ হয়েও ততটা ভাবনায় তলিয়ে দেখছে এ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। রঞ্জন বিশ্বাস

ছবি
আলোকচিত্র-শিল্পী রঞ্জন বিশ্বাস ২৫ শে এপ্রিল ১৯৬৫ সালে হুগলী জেলার ভদ্রেশ্বরে জন্মগ্ৰহণ করেন। তিনি দঃ পূঃ রেলেওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত। চাকরি সূত্রে পুরুলিয়ায় প্রথম আসা ১৯৮৯ সালের আগষ্ট মাসে। তারপর চাকরির কারণে বদলি হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় --- সহডোল (মধ্যপ্রদেশ), কলকাতা, রাঁচী, খড়গপুর। কিন্তু প্রতি বদলির ফাঁকে ফাঁকেই বারবার পুরুলিয়ায় বদলি হয়ে আসতে হয়েছে তাঁকে।                  পুরুলিয়াতে কার্যকালের বেশীর ভাগটাই কাটিয়েছেন তেলকলপাড়া আর কেতিকা রেল-কোয়ার্টারে। পুরুলিয়ার মাটির অমোঘ টানে বর্তমানে এখানেই নিজস্ব ভিটে পত্তন করেছেন রাজাবাঁধ নেতাজি আবাসনের ফ্ল্যাটে।                  পুরুলিয়ার প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রেমে পড়ে হাতে তুলে নেওয়া ক্যামেরা। ১৯৯৬ সালে প্রথম NIKON FM10. 35mm print film ক্যামেরা হাতে তুলে নেন তিনি। তারপর বহুকাল পরে ২০১৬ সালে হাতে আসে Digital SLR, CANON 600D। বর্তমানে এই আলোকচিত্র-শিল্পী ছবি তোলেন CANON 6D Mark ll তে।                   ফটোগ্রাফির মধ্যে Bird Photography-ই প্রথম ও প্রধান পছন্দ। তাঁর এই পাখিপ্...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৬ষ্ঠ পর্ব             এই সব নিয়ে সাথিকেও কম অশান্তি পোহাতে হয়নি। কারণ তার দুর্বলতার জায়গাটা হয়তো সেও ঠিক মতো বুঝতো না। কারণে অকারণে সে যে ভাষায় এই সংশোধন চাইত সে কথা কেউই কারোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছবার মতো মন তৈরি করতে পারতো না। পথিকের ধারণা তার একান্ত মনের কথাটা এরা কেউই বুঝছে না। সাথির ধারণা তার দায় মিটবে কিসে! অথচ কেউ তাকিয়ে দেখতে চায় না, কাকা এলে সেই আনন্দ পায় বেশি। ভরসা পায়। সে চলে গেলে তার মনখারাপ হয় ।        এই নিয়ে সাথির ঠাকুমাও যথেষ্ট অশান্তি নিয়ে চলে গেলেন। শেষ বার পথিকের সঙ্গে দেখা হলে বড় ভরসা করে তিনি বলেছিলেন, তুই থাকলি ভাই, তুইই দেখিস ওকে। ওর জন্য তো কিছুই করে যেতে পারলাম না!      বৃদ্ধার অন্তিম কালের এই কথা আজও তার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়।       দরজা খুলে যায়। গুনগুন করতে করতে ঊর্মি, ছোটো শ্যালকের স্ত্রী আসে । কি যে সে গান! কি যে তার সুর! এবং কি যে কথা, তা এ ক'দিনেও সে বুঝল না ! এসেই দুই কাঁধে দুই হাত। মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলে, এই যে, কখন এলেন?        ----- বেশিক্ষণ নয়। এই তো….        ----- কই --- আওয়াজ পাইনি তো ! ভয়...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। পল্লব মণ্ডল

ছবি
পল্লব মণ্ডল, ১৯৮৩ সালে পশ্চিম বঙ্গের পুরুলিয়া জেলার নীলডি গ্ৰামের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।             এরপর তিনি পুরুলিয়া জেলা স্কুল এবং পুরুলিয়া পলিটেকনিক থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করে শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত হন। খুব কম বয়স থেকেই ছবি আঁকার প্রতি অটুট নেশা। কিন্তু পরবর্তীতে পড়াশোনা ও কাজের চাপে তা বন্ধ হয়ে যায়।              শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত হওয়ার পর মাঝে মাঝেই মোবাইলে ছবি তুলতেন। অনেকের ভালোও লাগতো সেইসব ছবিগুলো। নিজেরও আনন্দ লাগতো বেশ। তারপর শৈশব কালের বন্ধু শুভঙ্কর দত্ত, অনেকেই যাঁকে চিন্টু দত্ত বলেও ডাকতেন, তিনি ছিলেন ছবি তোলায় ওস্তাদ; তাঁকে দেখে  আরো বেশি উৎসাহিত হন তিনি। পরে তাঁরই পরামর্শে একটা NIKON COOL PIX L810 কেনেন। ২০১১ সালে প্রথম সেই ক্যামেরা হাতে নেন তিনি। শিক্ষাগুরু হিসেবে শুভঙ্কর দত্তকে সবসময় কাছে পেয়েছেন। সেই থেকেই আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে পথ চলা শুরু। নিজের পেশাগত কাজ থেকে অবসর পেলেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েন বাইক নিয়ে কাছে দূরের বিভিন্ন জায়গাতে। বলতে গেলে সব ধরনের ছবি তুলতেই ভালোবাসেন তিনি।              আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে পথ চলতে গিয়ে...