জলশ্যাওলার বিরহকথা
এই সব নিয়ে সাথিকেও কম অশান্তি পোহাতে হয়নি। কারণ তার দুর্বলতার জায়গাটা হয়তো সেও ঠিক মতো বুঝতো না। কারণে অকারণে সে যে ভাষায় এই সংশোধন চাইত সে কথা কেউই কারোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছবার মতো মন তৈরি করতে পারতো না। পথিকের ধারণা তার একান্ত মনের কথাটা এরা কেউই বুঝছে না। সাথির ধারণা তার দায় মিটবে কিসে! অথচ কেউ তাকিয়ে দেখতে চায় না, কাকা এলে সেই আনন্দ পায় বেশি। ভরসা পায়। সে চলে গেলে তার মনখারাপ হয় ।
এই নিয়ে সাথির ঠাকুমাও যথেষ্ট অশান্তি নিয়ে চলে গেলেন। শেষ বার পথিকের সঙ্গে দেখা হলে বড় ভরসা করে তিনি বলেছিলেন, তুই থাকলি ভাই, তুইই দেখিস ওকে। ওর জন্য তো কিছুই করে যেতে পারলাম না!
বৃদ্ধার অন্তিম কালের এই কথা আজও তার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়।
দরজা খুলে যায়। গুনগুন করতে করতে ঊর্মি, ছোটো শ্যালকের স্ত্রী আসে । কি যে সে গান! কি যে তার সুর! এবং কি যে কথা, তা এ ক'দিনেও সে বুঝল না ! এসেই দুই কাঁধে দুই হাত। মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলে, এই যে, কখন এলেন?
----- বেশিক্ষণ নয়। এই তো….
----- কই --- আওয়াজ পাইনি তো ! ভয়ে ভয়ে আছেন তাই না?
----- না, ভয় কিসের!
----- একটু বসব এখানে?
----- বসো…
সামনের টেবিলের উপর চড়ে বসল। বসেই বলল, ও বাড়িতে এতক্ষণ কী করছিলেন? কতবার ঘুরে গেলাম; বাবাঃ! আসার নাম নেই। মাসি ছিল?
---- হ্যাঁ ।
----- কি গল্প হল?
----- কই?
----- গল্প হয়নি?
----- না, গান টান নিয়ে দু'এক কথা, এই যা…
----- আজ লিখেছেন ?
----- কী-ই ?
----- ওই যে কি, দিনলিপি না কি যেন….
----- হ্যাঁ …
---- দেখান দেখি, পড়েন, শুনি।
----- না, এখন থাক, কাল শোনাবো।
----- কেন, কাল কেন?
----- ও এখন ভালো লাগছে না।
----- আমার ভালো লাগছে, তাই আপনি এখনি পড়বেন।
------ আমার ভালো লাগছে না যে! তাছাড়া এসব জিনিস কি পড়ে শোনানো যায়?
----- কেন, যায় না কেন?
----- সে তুই বুঝবি না।
----- খুব বুঝবো।
----- না না, আমার ও বিষয়ে সঙ্কোচ আছে।
----- কিসের সঙ্কোচ? ছাড়ুন তো ওই সব, আমার সামনে আপনার কোনো সঙ্কোচ থাকার নেই ----- তার চাইতে ঝেড়ে কাশুন, ঝেড়ে কাশুন তো মশাই! এত লজ্জাটজ্জা কিসের ? …বলেছি তো, আপনার কাছে আমারও কোনো লজ্জা নেই ---- আপনারও নেই….. নেন নেন, শুরু করুন তো দেখি….
---- তোর কাছে আমার কোনো লজ্জা নেই, তা কি করে বুঝলি তুই --- সকলের কাছে সকলেরই তো একটা আব্রু থাকার কথা !
---- ঠিক করে বলেন তো, তাই বলে
আমার কাছেও ?
এ কথা বলে সে তার দিকে এমন ভাবে চাইল, যাতে তার মনে হল, ও বাবা, মোক্ষম অস্ত্রটি তাদের যা থাকে তাইই তো প্রয়োগ করেছে দেখি ! সে বেশ বিস্মিতই হচ্ছে একটু একটু করে। এ যে একেবারে ব্রহ্ম অস্ত্র ! বিস্ফারিত দৃষ্টি একেবারে ! এক দৃষ্টে চেয়ে থেকে বলছে একি ! তাই সে বলল, কেন, তোর কাছে কি আমার সব লজ্জা উন্মোচিত হয়ে গ্যাছে নাকি ?
----- হয়েছেই তো, মনে নেই !
----- কী ভাবে ?
----- মনে আছে, সেই যে, যেদিন প্রথম আপনাকে আমি মোবাইলে গান শুনিয়েছিলেম….
----- হ্যাঁ, মনে আছে বইকি, কিন্তু তাতে উন্মোচনটা কোথায় ?
----- এই জন্যে ---- যে ঐ রকম মানুষ আমি তো প্রথম দেখলাম।
----- দেখলাম না, বল শুনলাম।
----- হ্যাঁ হ্যাঁ শুনলাম, ভাবলাম কি অদ্ভুৎ মানুষ রে বাবা ! কোনো কথা বলা নেই কওয়া নেই, বলে কি না গান শোনাও !
পরে যত ভেবেছি ততই হেসেছি!
----- কেন, এত হাসি এল কেন ?
----- ও আপনি বুঝবেন না ।
----- তারপর আর কোন্ কোন্ পর্বে আমাকে আরো পাগল বলে মনে হলো ?
----- না, পাগল মনে হতে যাবে বা কেন ? এরপর প্রথম যেদিন কৃষ্ণনগর থেকে টেলিফোনে আপনার কথা, গলার আওয়াজ শুনি, ওই সেই কথাটা ----- 'তোমার নাম ঊর্মি---- ও তাহলে তোমাকেই আমি দিঘার সমুদ্র থেকে কানে প্রবেশ করিয়ে নিয়ে এসেছি ! '
ও বাবা, একি ! আর একবার হাসলাম। এর আগে কতবার যে আপনাকে এ বাড়ির এলবামের ছবিগুলিতে দেখেছি , আর ভেবেছি, আচ্ছা এই মানুষটা এরকম অন্য দিকে তাকিয়ে আছে কেন?
---- এত বিস্ময় ভালো না । কি এমন মানুষই বা আমি, যাতে এত আশ্চর্য লাগলো তোর !
আবার সেই একইরকম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নিয়ে বলতে লাগলো ,কেন তা জানেন না ?
---- কেন ?
----- দিদি যেদিন বলল আপনাদের বাড়িতে যেতে, তখনো তো আপনাকে দেখিনি ! বললো, চল্, তোর লোকের কাছে তোকে দিয়ে আসি…..
----- কি মনে হয়েছিল তখন?
----- ভাবলাম, আমার লোক ! তাই তো আমারই তো, আমারই তো ----কই , দেখি তো !
----- কি দেখলি ?
----- দেখলাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, ( তারপরই নাকটা টিপে ধরে ) বললো, উঃ, কি চাহুনি সে ---- !
----- কেমন চাহুনি ? নাকটা ছাড়বি তো !
----- ও আপনারা বুঝবেন না। ( একটা বেশ বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে ,গালটা ধরে ) বললো, সত্যিই আমার ! প্রণাম করলাম, কিন্তু সিগারেটের গন্ধে একটু কষ্ট হয়েছিল বটে, তাও আপনার জন্যে সেটাও ছাড়। তারপর তো রিক্সা…. কোলে চড়ে বসা রিক্সায়…. আইসক্রিম….. ওঃ , আমার মনের মতো একজন মানুষ পেলাম, প্রাণের মতো !
----- প্রাণের ? দেখিস দেখিস, গৌতম কিন্তু কষ্ট পাবে।
----- গৌতম ? আরে সে তো আপনার কত গল্প ! সেই আসার দিন থেকে এখনো !
----- এখনো করে ? ও যে কত আপনার মানুষ ছিল রে, তা জানিস…
----- সে জানি জানি, চলেন, এখন উপরে চলেন তো দেখি।
----- না, এখন আর উপরে যাবো না। একটু পরেই তো খাবার ডাক আসবে !
----- আসুক, এতটুকু সময় তো আমার ওখানে থাকুন।
----- কেন, এই তো বেশ আছি, উপরে গিয়ে আর এখন কিই বা হবে?
----- তাহলে যাবেন না?
----- না ,এখন থাক , কাল আবার যাব।
----- না, এখনি যাবেন।
হাত ধরে টানতে টানতে একরকম নিয়ে চলল। যাবার আগে একটু এলোমেলো টেবিলটাকে গুছিয়ে রাখতে চাইল পথিক কিন্তু তা আর পারল না। একেবারে হিড়হিড়িয়ে ডান হাতটা তার কাঁধের উপর দিয়ে জড়িয়ে ধরে, সল্প পরিসর সিঁড়ি দিয়ে যেন পারলে পাঁজাকোলা করে নিয়ে চলে গেল সে।
এই মেয়েটির কোনো লজ্জা বা আড়ষ্ঠতা, কোনোরকম বাধ্যবাধকতা নেই। যেন কোনো কিছুই তার ক্ষেত্রে কোনোরকম বাধাবিপত্তির কারণ হতে পারে না । অথচ বয়সে সে তার সন্তানের বয়সী। তাহলেও তো দেখাদেখির একটা বিষয় আছে , সে যেন তাকে দু'আঙুলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চায় ।
এ দেশে এখনো যথেষ্ট বয়সের ব্যবধানে বিয়ে থা হয়ে থাকে। গৌতমের সঙ্গে তার বয়সের ব্যবধান যথেষ্ট। যদিও সাথির সঙ্গে তার বয়সের ব্যবধানও তো দশ বছরের। তা নিয়ে সাথিও তো তাকে কথায় কথায় বলে, 'বুড়ো, একেবারেই বুড়ো তুমি '। তাহলে ---- এখানে, এখানে সে হিসাব কী দাঁড়ায় ? এই যে সব কিছুর পরেও, সমস্ত রকম বাধা বিপত্তি, আড়ষ্ঠতা কাটিয়ে সে যে এভাবে আঁকড়ে ধরছে তাকে, কোনো রকম জড়তা নেই, ভনিতা নেই, দূর থেকে কেউ তাদের দেখলে বুঝতেই পারবে না, এই তো সামান্য দিনের সম্পর্ক, দেখাশোনা, তা এরকম দু'একদিনের মধ্যে গায়ে গা লাগানো হয় কী করে ? যেন কত কালের পরিচয় ! অথচ সামনা-সামনি দেখা তো এই সেদিন হলো । ক' মাসই বা ! বছর খানিক আগেও উভয়ের সমস্ত স্রোতধারা কোন্ খাতে বইতো, কার কোন্ খালে, কোন্ নদীতে তা কি কেউ জানতো ? আর আজ ? আজ সেসব অতিক্রম করে সে-ই এখন থেকে এমনই এক বিস্ময়ের কেন্দ্রজালে ঘিরে ফেলেছে তাকে, যার কোনো কৈফিয়ৎ সে নিজের কাছে নিজেই দিয়ে উঠতে পারছে না। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ভাবছে সে, এও কি এক খেলা ! এ খেলা কার সাথে কার রহস্য দিয়ে ঘেরা ? কোনো হিসেব মেলে না যেন !
যাক, সেসব যাই হোক, পাঁজাকোলা করে একেবারে বিছানায় নিয়ে গিয়ে ফেলল তাকে। দরজা বন্ধ করে দিল। বাইরে যদিও সেরকম ঠান্ডা ছিল না কিছুই। তবু ঠান্ডা আসতে পারে সেই অজুহাতে হয়তো দরজাটা বন্ধ করে দিল। পথিক বুঝতে পারছে না কিছুই যেন। এবং এসব কিছু নিয়ে কোনো প্রশ্নও করছে না সে কিছুই। সে যেন একেবারে ছেড়ে দিয়েছে তাকে। এমনই একটা ভাব করে মটকা মেরে কাত হয়ে পড়ে আছে পাশবালিশে হেলান দিয়ে। সে দেখল টেলিভিশন চালিয়ে দিল সে। টিভিতে খবর হচ্ছে ,খবরের বেশিরভাগ অংশই খালেদা জিয়া কী বললেন, আমির ওমরাহরা কী বলল, কতজন আজ নমাজ আদা করেছে, আমেরিকা- জাপান- জার্মান - লন্ডনে কি হোল না হল, দেশে মন্ত্রীরা কোথায় কোথায় গিয়ে কি কি সভা করল এইসব। খপাত করে ঊর্মি টিভিটা বন্ধ করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, আমাদের বিয়ের ভিডিও দেখবেন?
সে বলল, তাও কি এখানে আছে নাকি ?
----- আছে, চালাবো ?
----- থাক না হয়, কখন খেতে ডাক দেবে, তখন খারাপ লাগবে, শেষ হবে না বলে ---- কাল দেখা যাবে না হয় ।
----- কেন? ডাকলেই কি যেতে হবে নাকি ! বলুন আপনার ভালো লাগছে না।
----- সে কি ! ভালো লাগবে না কেন ?
----- নাও লাগতে পারে, আচ্ছা আমার বিয়েতে আপনি এলেন না কেন?
----- হল না। আমি না হয় না এসেছি, আর সকলেই তো ছিল…
----- সে থাকুক, আপনি তো আসেননি !
----- তাতে আর কিই বা হলো? কিই বা এমন এল গেল?
-----এল গেল না !
----- না, সে আর এমন কি!
----- এমন কি ! এই না আপনি দাবি করেন, আপনি ওকে এত ভালোবাসেন !
----- ভালোবাসা কি সামনে মেলে ধরে দেখানোর জিনিস?
----- কিছুটা তো দেখানোও দরকার তবুও…
----- ওই যে বললি না তবুও, ওই তবুওর মধ্যেই একটা খেলা থাকে বুঝলি !
----- তাহলে ! সেই খেলাটা আপনিই ভালো বোঝেন তাই না ?
সে এবারে একটু এড়িয়ে যাবে ভাবল। একটু অন্যমনস্কতার ভান ধরল কিছুটা। প্রসঙ্গটা থেকে সরে যেতে চাইছে সে। বলল, বাইরে যাবি?
----- বাইরে কোথায়?
----- এই ছাদে….. একটু একা একা দাঁড়াব কিছুক্ষণ।
----- তা, আপনি তো একা দাঁড়াতে চাইছেন, তা আমি থাকলে সেটা একা হল কী করে?
----- হ্যাঁ…. সেও তো ঠিক, ওই যাই হোক ---- ও একলা না হয় তোকে নিয়েই একলা --- !
----- ও বাবা, প্রেম করবেন নাকি ?
----- সে জিনিস কি এত আয়োজন করে করা যায় নাকি রে !
----- তাও যায়, বলেই দেখেন না।
----- না রে বাবা, সে স্বাদ নেই রে আর ----
----- কেন, ভয় করে নাকি ?
----- কীসের !
----- এই যে বললাম।
----- ওসব ছাড়, তুই কি যাবি ?
----- না, এখন না, এখন আপনি আমার কাছে থাকবেন বাধ্য ছেলের মতন। ( অনেকটা কাছে এগিয়ে এসে, হাঁটুর উপর হাঁটু তুলে দিয়ে এক হাত ধরে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল )
এরকম ভাবে তাকে দেখে তার দিকে তাকিয়ে বলল, কী, কিছু বলবি নাকি ?
----- না…, কিছু না ! আপনাকে এখন ছাড়তে ইচ্ছা করছে না একদম। জানেন জামাইবাবু, এই বাড়িটায় এই সময়গুলো আমার কাছে ভীষণ একা লাগে ! কেউ আমার সঙ্গে সেভাবে কথা বলে না ! যার যার কাজে পড়ে থাকে ! আসলে আমি তো এমন ভাবে মানুষ হইনি,তাই। এই যে আপনি এসেছেন, আমার যেন দম নেবার মানুষ হয়েছে একজন, আপনাকে পেয়ে কী যে ভালো লাগছে আমার, তা কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারবো না। আর, বোঝাবো কি, কেউ শুনলে তো বলবো !
----- কেন, রুনি, টুনি, লাবু , ওরা কেউ তোকে সঙ্গ দেয় না ?
----- হ্যাঁ…….ধরেন ওদেরও তো ভালো লাগা, মন্দ লাগা, পড়াশোনা, এসব আছে !
------ তা থাক, তুইও তো ওদের কাছে গিয়ে থাকতে পারিস ; ও , তোর গান ! গানটা তো মন দিয়ে করতে পারিস !
------ ওসব ছেড়ে দিয়েছি। এ বাড়িতে কেউ পছন্দ করে না।
------ গৌতম?
----- সেও, সবই একরকম।
------ কিন্তু গৌতম তো খুব গান ভালো বাসত !
-----হ্যাঁ… বাসে…
এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকল। যেন উভয়েই। পথিকও কোথায় যেন হারিয়ে গেল। ঊর্মি 'বাসে', বলে থেমে গেছে। ইতিমধ্যে কখন সে তার হাঁটুর উপর থেকে হাঁটু সরিয়ে নিয়েছে। হাতও। তবু এখনো কাঁধ কিছুটা ছুঁয়ে আছে। কিন্তু দু'জনের কারো মুখেই কোনো কথা নেই। কেন যে ঊর্মি এখানে থেমে গেল! কেন যে পথিকও চুপচাপ ! এইসব নীরবতার ভাষা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ইতিমধ্যে তার চোখ কখন ভিজে উঠেছে দেখতে পেল পথিক। শুধু এইটুকু না পাওয়ায় কি তার কথা বন্ধ হয়ে চোখে জল এসে গেল ? তাই যদি হয়, তাহলে জীবনের এই নতুন নতুন আরো কত অজানা কথা আছে না, সেগুলো কীভাবে পেরোবে এই মেয়েটি? পথিক ভাবে, সত্যিই আরো কত ঊর্মিরা এইভাবে নিজেদের নিঃসঙ্গ করে একা একা হয় যে নিভৃতে ! এই বয়সে তো তার বাবা-মা, ভাই-বোনদের কাছে থেকে পড়াশোনা, হইহুল্লোড় করার সময়, তা না, সে এসেছে সংসার করতে ! এই বয়সের মেয়েদের এই অসহায়তার দিন কি আজও সেই একই রকম থেকে গেল নাকি ----নাকি এ শুধু এই দেশের একটা শ্রেণীর অসহায়ত্ব শুধু --- ?
পথিকের মনে পড়ে আবারও যেন, সেই গৌতমের বিয়ের আগের গানের প্রতি বিশেষ অনুরাগের দিনগুলির কথা, সেই যে সামনের বাড়ির দিকে জানলা দিয়ে চেয়ে থাকা, তারপর মধ্যরাত অবধি মান্না দের গলায় রেকর্ড প্লেয়ারে উচ্চ স্বরে বিরহের গান বাজানো দিনগুলি…. !
গৌতম গান শুনতো নাকি শোনাতো কাউকে ? পথিক গৌতমের সেই খোলা জানলা দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখতো পাশের বাড়ির উঠোনে স্থলপদ্ম গাছটায় কী স্তব্ধতা, চারদিকে দশহাত মেলে যেন এইসব কার্তিক অঘ্রাণ মাসের সকালবেলাগুলিতে ভোরের হালকা কুয়াশা মেখে কত কথা নীরবে বলে চলেছে, তা কি গৌতম বা ওই বাড়ির যে মেয়েটি তাদের দোতলার বারান্দায় উঁকিঝুঁকি মারছে, সেও কি দেখছে কিছু ? ওই যে স্থলপদ্ম গাছটি কত ফুল ফুটিয়ে এই ভোরের কুয়াশা মেখে দশহাত মেলে দিয়েছে কত না অদৃশ্যের মাঝে, সে কথা কেই বা জানছে আর কেই বা শুনছে ?
হঠাৎ আলো চলে গেল। খাটের উপর একাই এখন সে। ঊর্মি দেশলাই খুঁজছে । সে জিজ্ঞাসা করলো, কি খুঁজছিস ? এই নে, এই যে আমার কাছে আছে তো !
ঊর্মি বললো, জ্বালান…..
পথিক দেশলাই জ্বালালো । সে মোমবাতি এগিয়ে দিলো। এতটা অন্ধকার যে হঠাৎ নেমে এলো, তাতে ঊর্মিও ভয় পেল না, পথিকও নড়লো না। ঊর্মি বললো, থাকবেন তো ?
পথিক ----- সেটাই তো ভাবছি।
----- চলেন, ছাদে যাবেন নাকি ?
----- এখন ? এই অন্ধকারে ?
----- কেন ! আপনি তো অন্ধকারই চেয়েছিলেন !
----- কি করে বুঝলি ?
----- বললেন না, একটু অন্ধকারে ছাদে দাঁড়াবো।
-----বুঝলাম, কিন্তু তখন তো আলো ছিল।
----- ছাদে আর আলো কোথায় ? চলেন যাওয়া যাক……
চলবে……
এই অংশটুকুতে অন্তর্জীবনের সংবাদ আরও গভীর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
উত্তরমুছুন