পোস্টগুলি

দ্বিতীয় বর্ষ ।। পঞ্চদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ২১ কার্তিক ১৪২৮ ।। ৮ নভেম্বর ২০২১

ছবি
আধার কার্ড, পেন কার্ড, ভোটার কার্ড, ই-শ্রম কার্ড, জব কার্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। এক একটা সরকারি প্রকল্পের জন্য এক একটা আই ডি বা পরিচয় পত্র বানাতে হবে। নচেৎ সেই প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে সেই সুবিধার আওতায় পড়া সাধারণ মানুষকে। যার জন্য একেক সময় একেকটা লাইনে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিজেদের কাজকর্ম ছেড়ে এক প্রকার বাধ্য হয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে, টাকা খরচ করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আই ডি বা পরিচয় পত্র বানাচ্ছেন তাঁরা। এবং আই ডি কার্ড বানিয়ে বানিয়ে ভরিয়ে তুলছেন নিজেদের বাক্স প্যাঁটরা। আর সেইসব আই ডি বা পরিচয় পত্র সামলে রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন। হারিয়ে গেলেই বঞ্চনা। সরকারি অফিসাররা হাত উল্টিয়ে দেবেন। মনে হবে, যেন হাত ওল্টানোর জন্যই বসে আছেন অফিসে। কিন্তু মজার বিষয় হলো ভোটের সময় ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য (সোজা করে বললে ভোটটা কোনমতে নেওয়ার জন্য) লম্বা একটা লিস্ট দেওয়া হয় বৈধ আই ডি কার্ড বা পরিচয় পত্রের। যাতে করে কেউ বাদ না পড়ে যায় ভোটদান থেকে।             ভোটের সময় যেভাবে ভোট দানের জন্য সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়, ঠিক সেভাবেই ...

কথাবার্তা ৩ / মধুপর্ণা

ছবি
কথাবার্তা ৩ মধুপর্ণা পিতৃতন্ত্র সফল এবং খুশি নারী অপছন্দ করে। তার কাছে খুব পছন্দের হয়ে ওঠে “ সাত চড়ে রা না কাড়া" নারী। কারণ সেখানে কোনো প্রশ্নের সম্মুখীণ হবার সম্ভবনা নেই। ভঙ্গুর পুং অহং প্রশ্ন পছন্দ করে না। কারণ প্রশ্ন তার হীনমণ্যতাকে বিদ্ধ করে। বিকৃত পুং অহংয়ের যেহেতু কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই, পুরোটাই বস্তুত দাঁড়িয়ে আছে একটি ক্ষমতালিপ্সা এবং বাড়তি সুবিধাভোগের আকাঙ্ক্ষার উপর সেকারণে তার অন্তবর্তী শূন্যতা ঢাকার জন্য নির্মাণ করতে হয় উচ্চস্মৈণ্যতার বর্ম। যা আসলে তীব্র একটি হীনমন্যতার অনিবার্য বহিঃপ্রকাশ। এই ছদ্ম উচ্চস্মৈন্যতার পক্ষে প্রশ্ন সহ্য করতে পারা কঠিন। কারণ তা অন্তস্থ হীনমণ্যতাকে কান ধরে টেনে বের করে নিয়ে আসে। তখন পুং অহং আহত জন্তুর মত উচ্চস্মৈন্যতার আড়ালে নিজেকে ঢেকে আত্মরক্ষা করতে চায় এবং হয়ে ওঠে হিংস্র। তার কাছে আর কোনো উপায় কার্যত খোলা থাকে না। তাই সে নিজের চারদিকে অনুগত নারীর উপস্থিতি পছন্দ করে এবং তাতে নিরাপদ বোধ করে। পুং অহংয়ের এই করুণ পরিস্থতির জন্য তাকে নির্মাণ করতে হয় একটি স্বাচ্ছন্দ্যের পরম্পরা যাতে তার কোনোভাবেই বিদ্ধ হবার সম্ভবনা তৈরি না হয়। যে না...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। চতুর্দশ ওয়েব সংস্করণ ।। ৭ কার্তিক ১৪২৮ ।। ২৫ অক্টোবর ২০২১

ছবি
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ১০০ টাকার সরষে তেলের দাম ২০০ টাকাতে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম। সরকারি ঘোষণা না থাকলেও, করোনা পরিস্থিতির আগে যে দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য বাসে ১৫ টাকা গুনতে হতো; এখন গুনতে হচ্ছে ৩০ টাকা। সেই হিসেবে ট্রেন ভাড়াও বেড়েছে। বেড়েছে টেক্সও। কারণ ১০০ টাকাতে যেখানে ৫ টাকা দিতে হতো, ২০০ টাকা হওয়াতে দিতে হচ্ছে ১০ টাকা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যখন কাজ হারিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে দিন যাপন করছেন ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের উপর বর্ষানো হচ্ছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা।                শুধু কি তাই? মানুষকে মেরে ফেলার আরও অনেক পথ খোলা আছে সরকারের। ২০২২ সালের মধ্যে ইন্দিরা আবাসের ঘর দিয়ে শেষ করার একটা প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। যা এই প্রকল্প শুরুর মুহূর্তে থাকা বাজার মূল্যের হিসেবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাড়ি নির্মাণের সেই সব  প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। মিস্ত্রি এবং শ্রমিকের বেতনও বেড়েছে অনেকাংশে। কিন্তু ইন্দিরা আবাসের জন্য সাধারণ মানুষকে পাঠানো টাকার পরিমাণ থেকে গিয়েছে একই। ফলে সাধারণ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৫ম পর্ব            যে পথটি গতিদের বাড়ির সঙ্গে 'হৃষিকেশ ভবনের ' সংযোগ রক্ষা করে চলেছে, সেই কাঁচা রাস্তাটিই এবারে পিচ হয়ে গেল। কত দূরে গেছে সেই পথ ? শুনেছে সামনে অনেকটাই এগিয়ে গেছে , যে পথের ঢাল মেঠো আলশুদ্ধ প্রথম সকালের ছবি তুলেছিল জয় প্রথম দিন এসেই----- সেই পথ যদিও এখোনো তেমনই আছে, শুধু তার বুকের উপরের প্রধানতম পথটিই এবারে পাকা হয়ে গেছে। পথিককে সে পথেই টর্চ জ্বেলে গতির ব্যাঙ্কের উচ্চ পদস্থ দাদা সমীর এগিয়ে দিতে এসেছে 'হৃষিকেশ ভবনের 'দিকে। টর্চের মৃদু আলো। ব্যাটারি হয়তো শেষের পথে তাই টিমটিমে হয়ে গেছে আলো, কখনো জ্বলছে কখনো জ্বলতে জ্বলতেই নিভে যাচ্ছে। সমীর মামা বার বার ঝাঁকাঝাঁকি করে ফের সেটাকে জ্বালাবার চেষ্টা করছে। জ্বলতে চাইছে না বলে সে নানা ভাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। পথিক তাই তাকে দেখে বলছে, ছেড়ে দেন না মামা, ও আর জ্বলতে চাইছে না যখন তখন আর দরকার কি ? চলেন না এমনিই যেটুকু দেখা যাচ্ছে তাতেই পথ চলা যাচ্ছে তো, খামোখা ও বেচারাকে আর ঝাঁকিয়েঝুঁকিয়ে বিরক্ত করে কী লাভ?            ওবাড়ি থেকে বেরিয়েই পথিক সিগারেট ধরিয়েছিল। তারপর টর্চের এই অবস্থ...