পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দ্বিতীয় বর্ষ ।। চতুর্দশ ওয়েব সংস্করণ ।। ৭ কার্তিক ১৪২৮ ।। ২৫ অক্টোবর ২০২১

ছবি
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ১০০ টাকার সরষে তেলের দাম ২০০ টাকাতে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম। সরকারি ঘোষণা না থাকলেও, করোনা পরিস্থিতির আগে যে দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য বাসে ১৫ টাকা গুনতে হতো; এখন গুনতে হচ্ছে ৩০ টাকা। সেই হিসেবে ট্রেন ভাড়াও বেড়েছে। বেড়েছে টেক্সও। কারণ ১০০ টাকাতে যেখানে ৫ টাকা দিতে হতো, ২০০ টাকা হওয়াতে দিতে হচ্ছে ১০ টাকা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যখন কাজ হারিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে দিন যাপন করছেন ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের উপর বর্ষানো হচ্ছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা।                শুধু কি তাই? মানুষকে মেরে ফেলার আরও অনেক পথ খোলা আছে সরকারের। ২০২২ সালের মধ্যে ইন্দিরা আবাসের ঘর দিয়ে শেষ করার একটা প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। যা এই প্রকল্প শুরুর মুহূর্তে থাকা বাজার মূল্যের হিসেবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাড়ি নির্মাণের সেই সব  প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। মিস্ত্রি এবং শ্রমিকের বেতনও বেড়েছে অনেকাংশে। কিন্তু ইন্দিরা আবাসের জন্য সাধারণ মানুষকে পাঠানো টাকার পরিমাণ থেকে গিয়েছে একই। ফলে সাধারণ...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৫ম পর্ব            যে পথটি গতিদের বাড়ির সঙ্গে 'হৃষিকেশ ভবনের ' সংযোগ রক্ষা করে চলেছে, সেই কাঁচা রাস্তাটিই এবারে পিচ হয়ে গেল। কত দূরে গেছে সেই পথ ? শুনেছে সামনে অনেকটাই এগিয়ে গেছে , যে পথের ঢাল মেঠো আলশুদ্ধ প্রথম সকালের ছবি তুলেছিল জয় প্রথম দিন এসেই----- সেই পথ যদিও এখোনো তেমনই আছে, শুধু তার বুকের উপরের প্রধানতম পথটিই এবারে পাকা হয়ে গেছে। পথিককে সে পথেই টর্চ জ্বেলে গতির ব্যাঙ্কের উচ্চ পদস্থ দাদা সমীর এগিয়ে দিতে এসেছে 'হৃষিকেশ ভবনের 'দিকে। টর্চের মৃদু আলো। ব্যাটারি হয়তো শেষের পথে তাই টিমটিমে হয়ে গেছে আলো, কখনো জ্বলছে কখনো জ্বলতে জ্বলতেই নিভে যাচ্ছে। সমীর মামা বার বার ঝাঁকাঝাঁকি করে ফের সেটাকে জ্বালাবার চেষ্টা করছে। জ্বলতে চাইছে না বলে সে নানা ভাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। পথিক তাই তাকে দেখে বলছে, ছেড়ে দেন না মামা, ও আর জ্বলতে চাইছে না যখন তখন আর দরকার কি ? চলেন না এমনিই যেটুকু দেখা যাচ্ছে তাতেই পথ চলা যাচ্ছে তো, খামোখা ও বেচারাকে আর ঝাঁকিয়েঝুঁকিয়ে বিরক্ত করে কী লাভ?            ওবাড়ি থেকে বেরিয়েই পথিক সিগারেট ধরিয়েছিল। তারপর টর্চের এই অবস্থ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। অভিজিৎ মাজী

ছবি
পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার থানার অন্তর্গত ভাগাবাঁধ গ্ৰামে ১৯৮২ সালের ১ লা মে জন্মগ্ৰহণ করেন আলোকচিত্রী অভিজিৎ মাজী। পেশায় শিক্ষক এই আলোকচিত্র শিল্পীর ছোটবেলা কাটে গ্ৰামের অত্যন্ত সহজ সরল পরিবেশে বেড়ে ওঠা আর পাঁচটা ছেলের মতোই। ফলে তখন থেকেই গ্ৰামের পরিবেশের সাথে একটা মেল বন্ধন গড়ে ওঠে তাঁর। সামান্য বিষয়গুলোর মধ্যে খুঁজে পান বিশেষ গভীরতা। হাইস্কুলের গন্ডি পেরিয়ে যখন উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে পাড়ি দেন তখনও ফটোগ্ৰাফির দিকে খুব একটা ঝোঁক ছিল না তাঁর। বরং সে সময় কবিতা লেখার প্রতি বিশেষ অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। সেই কবিতা লেখার সূত্র ধরেই অনিকেত গোষ্ঠীর সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। এম এ( ইংলিশ ), বি এড করার পর শিক্ষকতার কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে এই সময় ফোটোগ্ৰাফির নেশা পেয়ে বসে তাঁকে। যখনই সুযোগ পান তখনই পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে খুঁজে আনেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা ভূমিরূপের সন্ধান। বিশেষ করে অযোধ্যা পাহাড়ের গজাবেড়াকে (গোর্গাবুরু) কেন্দ্র করে ফটোগ্রাফির যে সিরিজ রয়েছে তা সকলেরই মন কাড়ে। পেশা নয় কেবল নেশার তাড়নায় তাঁর এই কাজ মন কাড়ে আমাদের। তিনি সা...

শরীরই আসল গণিত

শরীরই আসল গণিত বিশ্বজিৎ লায়েক ১. ঋতুমতী শরীরে তোমার তুমি জেনে গেছো আস্বাদের গোপনীয় আমার অকস্মাৎ ভেসে যাওয়া তোমার নৌকায় দেখো আজ ঋতু ছুঁয়েছে তোমার শরীর জল শুধু জল শরীরে সমুদ্র লবণ তুমি স্পর্শ না দিলে শুধু রাতের ভেতর মিশে যাবে হিম আর হিমোগ্লোবিন ভোর ফাগুন ঋতু চুপচাপ শুয়ে আছে শরীরে তোমার তুচ্ছ যুবক আমি  হা ঈশ্বর কোলকাতা থেকে নিভে যাচ্ছে সুপ্ত প্রত্যাশা ঋতুমতী তুমি এবার মেঘ পাঠাও সমস্ত আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামুক শূন্য এ শরীর ভিজিয়ে নেবো ২. চুপচাপ শুয়ে আছে চিরহরিৎ অরণ্য তুমি চেনাও অরণ্য, তুমি চেনাও জল সঙ্গোপনে দীর্ঘ সরলরেখা, মৃদু বাস্প চাপ আমাদের ছলাৎছল স্তব্ধ আয়োজন তুমি কি ভাসাতে পারো গোপনে শরীর                   তীব্র তীব্র জলোচ্ছ্বাস তুমি শুধু কথোপকথন, কেঁপে ওঠা শৈত্যপ্রবাহ নীরব বীজের অঙ্কুরণ তুমি শুধু অরণ্যজীবন গোপনীয় আকাঙ্খা বল্কল ছেড়ে তুলে আনছ                           চিরহরিৎ জল ৩. অরগ্যাজম শরীরে তোমার  মেয়ানো মুড়ির মতো বিস্বাদ প্রেম এখনও লেগে আছে ঠোঁটে এখনও লেগে আছে বিষণ্ণ আলো দোমড়ানো মানুষের মুখে পেঁয়াজ শল্কের মতো রাত  রসায়ন শেষ হলে ফিনফিনে রঙ নিয়ে খেলা করে                            ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।।উজ্জ্বল কুমার দাস

ছবি
দ্বিতীয় বর্ষ ।। ত্রয়োদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ২৪ আশ্বিন ১৪২৮ ।। ১১ অক্টোবর ২০২১ ____________________________________________ বছর ছত্রিশের উজ্জ্বল কুমার দাস পেশায় একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অপার স্নেহ তাঁর। সন্তান স্নেহে ভালোবাসেন তাদের। সেই পেশার সাথে সাথে আলোকচিত্র শিল্পকে নিজের নেশা হিসেবে গ্ৰহণ করে নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে তিনি আলোকচিত্র শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে পুরুলিয়ার প্রকৃতির নানা রূপ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার নানান দিক ফুটে ওঠে ওঁর আলোকচিত্রে। তিনি এইসব ছবি তোলার জন্য এন্ট্রি লেভেল ক্রপ সেন্সর ক্যামেরা এবং বিভিন্ন ধরনের লেন্স ব্যবহার করে থাকেন যেমন বেশিক, ওয়াইড এবং পোর্ট্রেট লেন্স। পুরুলিয়া সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ। সেগুলোকে পড়া, বোঝা এবং আলোকচিত্রে নিপুণ হাতে ধরে ফেলার মধ্যে অপার আনন্দ পান তিনি। তাই এগুলোকে আরও কাছ থেকে দেখা এবং অনুভব করার জন্য পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্ৰামাঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে খুবই পছন্দ করেন তিনি। তিনি প্রকৃতি প্রেমিক। এটা তারই প্রমাণ যে ওঁর প্রকৃতির ছবি...