পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৯ম পর্ব  একত্রিশে কার্তিক, পনেরোই নভেম্বর :             অলস এক বেলা । অনেক দিন পর এখানে আমার সঙ্গে গাছাড়া দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।                  কোনো কাজ নেই। খাওয়া আর ঘুম। আর মাঝে মাঝে যা মনে আসে তাই লিখে যাওয়া। যে প্রেরণায় এর আগে অন্যান্য কিছু লিখতাম তা কোথায় কত দূরে যে হাওয়া বাতাসে গুঙিয়ে বেড়াচ্ছে, তাকে আর খুঁজে পাই না। কয়েকবার ভেবেছি এদিক ওদিক একটু যাই, কিন্তু কী এক ভয়ে কেন যে কুঁকড়ে আছি তাও বুঝতে পারছি না।                ভাবি, যেখানে যাই, গিয়ে একটু শান্তি পাবো, তাও তো মনে হচ্ছে না। তবে সব জায়গাতেই যেতে হবে যে একথাও তো সত্যি। নিজের অবস্থার কথা কাকে আর বলি ! এদিকে এদেশে এলে ধার বেড়েই চলে। ঈশ্বরের কোনো অনুকম্পাই কী আছে আমার জন্যে কোথাও একটু ?                 সকালে ভাবলাম টেলিফোন করবো, কিন্তু করতে গেলেই যে খরচ তা সামলে উঠতে পারবো বলে তো মনে হয় না ! এখানে একটি ছেলের সাইকেলের পেছনে উঠে ঈদগাঁয় গেলাম। আজ ঈদুজ্জোহা পালন করছে মুসলমান সম্প্রদায় ---- ছোটো ছোটো ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা কাপড়ে টুপি মাথায় দিয়ে ঈদের মাঠে যাওয়া দেখে ভীষণ ভালো লাগছিল। যদিও কিছুক্ষণ বাদে আর...

নারীর পরিসর; 'ঘরে বাইরে' এবং সাইবার এলাকায়।

ছবি
নারীর পরিসর; 'ঘরে বাইরে' এবং সাইবার এলাকায়। প্রথম পর্ব - ব্যক্তিগত পরিসর। মধুপর্ণা পরিসর শুধুমাত্র স্থানিক নয়, মূর্ত এবং বিমূর্ত - এই দুই মাত্রা একত্রে মিলে নির্মিত হয় পরিসরের ধারনা। এই পরিসরে প্রতিষ্ঠিত কিছু নিয়মাবলী থাকে, আরো কিছু নিয়ম অলিখিত, অদৃশ্য ভাবে থাকে এবং প্রতিনিয়ত একটি নিয়ম উৎপাদন ও লাগু হবার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সামাজিক পরিসরকে আপাতত তিনটি ভাগে ভাগ করে কয়েকটা কথা বলতে চাইছি। ব্যক্তিগত পরিসর, বাহ্যিক পরিসর এবং সাইবার পরিসর। এই দৃশ্যমান বেঁচে থাকায় যখন বিভিন্ন পরিসরের জল-অচল ভাগ গুলো ক্রমে পরস্পরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তখন এই সামাজিক পরিসর গুলিতে নারীর অবস্থান দেখার চেষ্টা করি তাহলে দেখা যাবে প্রতিটি পরিসরে নারীর অবস্থান আলাদা। এই 'নারী' একটা হোমোজিনিয়াস ক্যাটাগরি নয়। সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থান ভেদে বদলে যায় অথবা নির্মিত হয় তার/তাদের অবস্থা/ অবস্থান। রিসোর্স, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, শ্রেণী ভেদে বদলে যায় বিভিন্ন পরিসরের সঙ্গে 'নারী'র সম্পর্ক, লগ্নতা, সমঝোতার সমীকরণ। পারসোনাল স্পেস আর পাবলিক স্পেস অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিসর ও বাহ্যিক পরিসর - রবীন্দ্র ...

।। পান্তা ফুরোবার আগে।। নির্মল হালদার।।

ছবি
।। পান্তা ফুরোবার আগে।। নির্মল হালদার ।। শ্রীদাম কুমার        দক্ষিণের বারান্দা প্রকাশিত নির্মল হালদারের কাব্যগ্রন্থ -- 'পান্তা ফুরোবার আগে '। প্রচ্ছদ মনোজ্ঞ শোভনসুন্দর। পাতা, মুদ্রণেও  অকুণ্ঠ প্রশংসা প্রাপ্য প্রকাশকের। প্রত্যেক কবিতাপ্রেমীর বইটি অবশ্য সংগ্রহযোগ্য।       কাব্যগ্রন্থটির পাতা পাল্টালেই মনে হয় প্রকৃতির জল হাওয়া রোদ মেখে-- কবিতাগুলি ধূলো মাটির অক্ষর ছুঁয়ে আছে পরম মমতায় নিবিড়তার বন্ধনে। কবি নির্মল হালদারের মিত- বাকসিদ্ধির হাত ধরে কাব্যগ্ৰন্থটি পৌঁছে গেছে চিরন্তনের দিকে। অবলীলায় আর সাবলীলতার সুষমায়। আমাদের চেতনাতেও ছড়িয়ে যায় তার গূঢ় সঞ্চরণ আর রসোজ্জ্বল মানবীয় উষ্ণতা।       বইয়ের শুরুতেই কবি বলেন--           " দুটি তারার মাঝে যেটুকু জায়গা           আমারই জায়গা। "  নক্ষত্র ছড়ানো বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের আবহমানের শরিক হিসেবে কবি নির্মল হালদার নিজেকে ভাবতে পেরেছেন। তাই তো তিনি যাবতীয় সংকীর্ণতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারেন। দুই তারার মাঝে জায়গা করে নিতে পারেন। এখানে সব কিছুরই জায়গা মেলে, --সবারই স্থান সংকুলান হয়। এখানে হানাহানি ছিনিয়ে নেওয়া নেই। ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। সন্দীপ কুমার

ছবি
সন্দীপ কুমার- এর জন্ম ১৭ অক্টোবর, কলকাতায়, এ যাবৎ তাঁর চারটি একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। প্রথম প্রদর্শনী বর্ধমান-এ, ২০০৩ সালে, ২০০৫ সালে দ্বিতীয় প্রদর্শনী, গগনেন্দ্র চিত্র প্রদর্শ-শালায়। শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর কলাভবনে তাঁর তৃতীয় প্রদর্শনী, ২০০৭ সালে। চতুর্থ প্রদর্শনীটি হয় ২০০৯ সালে "বইচিত্র" প্রদর্শনী কক্ষে। এছাড়া তাঁর তোলা আলোকচিত্র বাংলা ভাষার বিভিন্ন প্রথম শ্রেণীর সংবাদ ও ম্যাগাজিনে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে। বর্তমান নিবাস কলকাতায়। তবে কলকাতার থেকে অধিক প্রিয় জেলা, পুরুলিয়া। এমনকি শান্তিনিকেতনের থেকেও পুরুলিয়াকে অধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তিনি, তা সে ফটোগ্রাফি হোক বা মনের প্রশান্তিতে! এছাড়া তিনি বেশ কয়েক বছর যাবৎ " সুরের জগৎ " নামে একটি গানের পত্রিকা সম্পাদনা করে আসছেন। বলা যেতে পারে বাংলা ভাষায় এই মুহূর্তে একমাত্র সঙ্গীত বিষয়ক পত্রিকা। মনফকিরা ও গাঙচিল প্রকাশনী থেকে "অজ্ঞাত এক আলোকচিত্রীর আত্মজীবনী," " টানা দাগ," "অন্তরঙ্গ," ও " কবিতা হলে এভাবেই লিখব " নামে তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার আশু প...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। অষ্টাদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ৪ পৌষ ১৪২৮ ।। ২০ ডিসেম্বর ২০২১

ছবি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসের অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এখন বিশ্বের অন্তত ৮৯টি দেশে শনাক্ত করা গিয়েছে। এটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের থেকেও অনেক বেশি দ্রুততার সাথে ছড়াচ্ছে এবং মাত্র তিনদিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।              এই সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হার নিয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকাতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শদাতা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালগুলো বিশাল চাপের মুখে পড়বে। আর ফরাসি প্রধানমন্ত্রীও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, "অমিক্রন এখন ইউরোপে 'বিদ্যুৎ গতিতে' ছড়িয়ে পড়ছে এবং সামনের বছরের শুরুতে ফ্রান্সে এটাই হবে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়া ধরণ।"                যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে যাওয়া-আসার ওপর এরই মধ্যে ফরাসি কর্তৃপক্ষ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তার কয়েক ঘন্টা আগে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।               ইউরোপে এখনো পর্যন্ত অমিক্রন সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে। শুক্রবার সেখানে ১৫ হাজার অমিক্রন সংক্রমন ধরা প...

দ্বিতীয় বর্ষ ।। সপ্তদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ১৯ অগ্ৰহায়ণ ১৪২৮ ।। ৬ ডিসেম্বর ২০২১

ছবি
                কোনো দেশের উন্নয়নের পিছনে সেই দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের একটা অভূতপূর্ব ভূমিকা থাকে। কোনো দেশের নাগরিকরা যত বেশি সচেতন এবং চিন্তাশীল হয়ে থাকেন সেই দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিয়ম নীতি তত সুচারুভাবে নির্মিত হয় এবং তত সুন্দর একটা অনুশাসন গড়ে ওঠে। যার ফলে সেই দেশ উন্নয়নের দিকে সুন্দর ও সাবলীল ভাবে এগিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থা খাতায় কলমে উচ্চ শতাংশে দেখানো হলেও তার বাস্তব পরিস্থিতি কি, তা যে কোনো রাজ্যের গ্ৰামাঞ্চলে এমনকি শহরতলিতে গেলেও টের পাওয়া যায়।                বিশেষ করে পূর্বাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যসমূহের অবস্থা তো আরও করুন। আর এই অবস্থাকে আরও করুন করে তোলার জন্য একটা নোংরা রাজনীতি সব সময় ক্রিয়াশীল। এই রাজ্যসমূহের জনগণকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরিয়ে রেখে, কি করে খাইয়ে বশ করিয়ে রাখা যায় সেই চিন্তায় মগ্ন এখানকার রাজনৈতিক দলগুলো। আর এখানকার অচেতন জনগণ তাদের সেই টোপ গিলে গিলে নিজেদের নায্য অধিকারগুলো আদায়ের পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। যার ফলে নিজেদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পরিবর্তে আরও স্তিমিত হয়ে উঠছে।    ...