।। পান্তা ফুরোবার আগে।। নির্মল হালদার।।

।। পান্তা ফুরোবার আগে।। নির্মল হালদার ।।


শ্রীদাম কুমার


       দক্ষিণের বারান্দা প্রকাশিত নির্মল হালদারের কাব্যগ্রন্থ -- 'পান্তা ফুরোবার আগে '। প্রচ্ছদ মনোজ্ঞ শোভনসুন্দর। পাতা, মুদ্রণেও  অকুণ্ঠ প্রশংসা প্রাপ্য প্রকাশকের। প্রত্যেক কবিতাপ্রেমীর বইটি অবশ্য সংগ্রহযোগ্য। 

     কাব্যগ্রন্থটির পাতা পাল্টালেই মনে হয় প্রকৃতির জল হাওয়া রোদ মেখে-- কবিতাগুলি ধূলো মাটির অক্ষর ছুঁয়ে আছে পরম মমতায় নিবিড়তার বন্ধনে। কবি নির্মল হালদারের মিত- বাকসিদ্ধির হাত ধরে কাব্যগ্ৰন্থটি পৌঁছে গেছে চিরন্তনের দিকে। অবলীলায় আর সাবলীলতার সুষমায়। আমাদের চেতনাতেও ছড়িয়ে যায় তার গূঢ় সঞ্চরণ আর রসোজ্জ্বল মানবীয় উষ্ণতা। 
     বইয়ের শুরুতেই কবি বলেন--
          " দুটি তারার মাঝে যেটুকু জায়গা
          আমারই জায়গা। " 
নক্ষত্র ছড়ানো বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের আবহমানের শরিক হিসেবে কবি নির্মল হালদার নিজেকে ভাবতে পেরেছেন। তাই তো তিনি যাবতীয় সংকীর্ণতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারেন। দুই তারার মাঝে জায়গা করে নিতে পারেন। এখানে সব কিছুরই জায়গা মেলে, --সবারই স্থান সংকুলান হয়। এখানে হানাহানি ছিনিয়ে নেওয়া নেই। " হাত পা ছুঁড়ে চিৎকার "  করে বলতে হবে না--
  " আমার জমি নেই জায়গা নেই
     সবাই সবকিছু কেড়ে নিয়েছে  "

-----  এর পরিসর বিশাল ব্যাপ্ত। এখানে আবহমানের প্রকৃতি আছে পরম মমতার প্রলেপ নিয়ে। কবি নিশ্চিন্তে বলতে পারেন---

    "  .          ......আমি শুয়ে পড়ি। 
মেঘ এসে ধুয়ে দেয় আমার ক্লান্তি। "

মানুষের জাগরণ আর নিদ্রার আবহমান ছন্দ চলতেই থাকে এই পৃথিবী জুড়ে। কবিতায় মিশে যায় মানবিক উত্তাপ, ধরা দেয় মানবিকতার উত্থান পতন---
   
  " মানুষ জেগে ওঠে মানুষ ঘুমিয়ে যায়। "

         
      আধুনিক বাংলা কবিতা চর্চার দিকে লক্ষ্য রাখলে প্রসঙ্গতঃ বলতেই হয় , জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যে নক্ষত্র প্রসঙ্গ পাই কিম্বা লোকবিশ্বাস মানুষ মরার পর নক্ষত্র বা তারা হয়ে যায়---সেটার সঙ্গে নির্মল হালদার তাঁর কবিতাকে বাঁধতে চান নি বা গুলিয়ে ফেলেন নি। যেটুকু এসেছে, যেভাবে এসেছে--- এসেছে বিশাল ব্যাপ্ত পরিসরের আবহমানের প্রেক্ষিত হিসেবেই। এসে পড়েছে , স্বার্থকেন্দ্রিকতার বিষবাষ্পে মলিন সংকীর্ন চেতনার বিপ্রতীপে।
নির্মলের কবিতার গৌরব স্বাতন্ত্র্য তারই -মাঝে চিহ্নিত হয়ে যায়। 


                 '  মধুবাতা ঋতায়তে মধু ক্ষরন্তি '-- উপনিষদের মন্ত্রের গহন সুর ধ্বনিত ' পান্তা ফুরোবার আগে ' কাব্যভুবনটি ঘিরে। ২-সংখ্যক কবিতায় মেলে তারই স্পন্দন--

                " মেঘের সঙ্গে মেশাই মধু
                  আমার বৃষ্টিও মধু  । 
                  কি বৈশাখ কি শ্রাবণ
                  আমার বৃষ্টিও মধু  । "

কবির চেতনাভূমিতে সৃজনের চিরকালীন বর্ষা--যা বর্ষা গ্রীষ্ম কোনকিছুরই মুখাপেক্ষী নয়। এখানে সৃজনের মাধুর্যে বৃষ্টিধারা ঝরে বারোমাস। তা বৈশাখ মাসই হোক বা শ্রাবণ মাসই হোক কোন তোয়াক্কাই করে না। মনে পড়ে যায়, একটু ভিন্ন ভাবে ' ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/ আজ বসন্ত '। যখন মনে বাঁশি বাজে তখনই  বসন্তের হাওয়া এসে পড়ে--প্রকৃতিতে ফুল ফোটা না ফোটায় কিছু এসে যায় না। মনোধর্মের প্রাবল্যেই নিহিত সৃজনের অভিঘাত। প্রকৃতির ধারাপাতের গৎবাঁধা নামতাপড়া থেকে বাংলা কবিতাকে সুভাষ মুখোপাধ্যায় মুক্তি দিয়েছিলেন, লিখেছিলেন  কবিতার ঐ অবিস্মরণীয় লাইনটি। 
আধুনিক মননের  দৃষ্টি -সঞ্জাত কবি নির্মলের স্বকীয়তাটি এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

    ঔপনিষদিক কথার পৌনঃপুনিকতার  ক্লান্তিকর রোমন্থনকে সযত্নে কাটিয়ে উঠে কবিতা এখানে মেলে ধরে এক নতুন অভীপ্সার অভিনিবেশ। যা গদ্যময় পৃথিবীর পিঠেই হেলান দিয়ে আছে। নির্মলের কবিতার নিহিত ছোট্ট মোচড়টিই এখানে কড়া নাড়ে মুগ্ধতার দরজায়। যেখানে--

       " আরেক মধু চা দোকানে কাজ করে "  । 

কবিতাটিতে কবির সহজ সরল আলাপচারী উচ্চারণই ইঙ্গিতময় তাৎপর্যবহ হয়ে উঠেছে--

            " যদি 
              তালপাতার পাখার হাওয়া
              মধুকে শোনাই ? মধু আমাকে
               খেজুর গাছের গল্প শোনাবে  । "

'তালগাছ'  বা ' তালপাতার পাখার ' প্রসঙ্গে পরে আসবো। এখন যাব সেই  'চা দোকানে ' যেখানে মধু কাজ করে ,আর তার 'খেজুর গাছের গল্পে '-এ। এতে জীবনের রসদ যেমন আছে তেমনি আছে জীবনের মাদকতা। জীবনরসের ভিয়েনে যেখানে ডোবানো আছে আদিম বর্ণমালা আর জীবন-কথকতা। ঘর-গেরস্থালির নিহিত উন্মুখ প্রসঙ্গ.... কথার সুতোর খেই টানলেই উঠে আসে এক একটা ছবি। এগুলোতেই ধরা আছে দূরদর্শিতা আর মিত-চয়নের নিপুণ বুননে নির্মলের কাব্য- নির্মিতির গূঢ় রহস্যটি।
      
      এই কাব্যগ্রন্থের পরতে পরতে এত বহুমুখী বিচ্ছুরণ ২৮ টি কবিতা ধারণ করেছে যে বার বার পড়তে হয়। প্রকৃতির আবহমানতা জীবনের সহজতা গভীরতা প্রেম নির্ভরতা বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের যন্ত্রণা প্রতিবাদ সবকিছুই যেন এক আশ্চর্য ঐক্যের বন্ধনে বাঁধা পড়েছে। 

      জীবন রসিকের দৃষ্টি না পেলে ধৈর্য ভালোবাসা অধ্যবসায় না থাকলে সবকিছুই তখন তো বৃথা ছোটাছুটি --- বিফলতার আবর্তে খাবি -খেতে থাকা--
       " যতই তুমি বসো রস নেই
         যতই তুমি ছুটে যাও... 
          রস নেই
    
         আখ নিংড়াতে হয়
          ভালবাসতে হয়, তবেই তো
          আখের ক্ষেত ,তবেই তো
          আখের রসে বশ । 
      
         আখের ছায়া নিংড়ালেও রস। "

এরই ধারা ধরে "প্রত্যাশাহীন নিঃশব্দ প্রেম"-এর গৌরব খুঁজে পাই ৫- সংখ্যক কবিতায়। এর শেষ তিন লাইন এরকম--
       " কোনো প্রত্যাশা নেই
          অপেক্ষাও নেই
         কেবল নিঃশব্দ প্রেম। "

   
       আকাশ বাতাস মাটি প্রকৃতির মধুরতাকে কবি এই কাব্যে চিনেছেন , চেনাতে চেয়েছেন-- খুঁজে পেয়েছেন --
                          " ঘরে ফেরার রাস্তা "। 
প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপন্নতা যন্ত্রণা নিয়ে  তৃষ্ণার জন্য চলে যান--
                    " তরমুজের কাছে
                       তরমুজের জলে। "
এভাবেই তিনি জলের প্রাণময়তা ও রূপময়তা খুঁজে পান। জল তো জীবনেরই আরেক নাম-- সম্ভাবনা  গহন -সঞ্চারের  উদ্ভাস। অন্তর্লীন ঐক্যের সুতোয় বাঁধা নানামুখী এই বইয়ের কবিতায় যেমন আছে জল কেন্দ্রিকতার বিবিধ উন্মোচন তেমনি আছে জল জীবন নির্ভরতার মগ্নতার গহন অন্বেষণ ও প্রাপ্তির পুলক-শিহরণ--
  
" মাটির কী দোষ
মাটির গভীরে গেল না? দাঁড়িয়ে আছে ধুলোয় 
ছোট্ট একটি বীজ


আমি কি বীজের ভিতরে যাবো  ? 

আমি তো খুঁজে পেয়েছি জলের মুখশ্রী । "

কখন যেন , আমাদের বিস্ময়াবিষ্ট করে কবি নির্মল হালদার বইটির পাতায় একাগ্র নিবিষ্টতায় তুলে ধরেছেন শেকড়- সন্ধান, প্রকৃতির আবহমান সুষমার রহস্য আর গরিমার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠা মুখশ্রী। 
এ তো শুধু  ' মুখশ্রী 'খোঁজা নয়, জগৎ-জীবনের সৃষ্টি-চরাচরের রহস্যবোদ্ধা গহন-সন্ধানী সত্যদ্রষ্টা ঋষির মতই অমোঘ উচ্চারণে খুঁজে-নেওয়া  বীজ-মন্ত্র। 

        প্রকৃতি-লগ্নতার গৌরব ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক মানুষের কথাও বইটির কবিতায় উঠে আসে--
"আমার পেটের আগুন নিয়ে জ্বলছে ইটভাটা।" 

তাদের সুখ- দুঃখ বঞ্চনার সূতোগুলো নির্মলের কবিতার  বুননে ঢুকে পড়ে পরম যত্নে। প্রতিবাদের নিশানটিও লুকানো থাকে না এতে--
"ইটের পর ইট সাজিয়ে একদল বহুতল
  আমার শুধু ভাত নেই ছাদ নেই "

এদেরই শরিক হয়ে তিনি--
                                 "মাঝির ভূমিকায়"। এদের জন্যই তিনি ঘোষণা করেন-

    "   পান্তা ফুরাবার আগে
         নুন সংগ্রহ করছি । 

   নুনের মত অমূল্য আর তো কিছু নাই। "
                                                                       ' পান্তা ফুরোবার আগে ' কাব্যগ্রন্থের নামকরণটি উঠে এসেছে ওই ১০- সংখ্যক কবিতা থেকেই। নাম ভূমিকা হওয়ার জন্য এই কবিতাটির একটি বিশেষ মূল্য আছে। আরেক বরেণ্য কবি তাঁর কবিতা দর্শন নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন  " পরমান্ন না হোক থালায় যেন নুন- ভাত থাকে "এই সহজ ও অকৃত্রিম আদি- মৌল আকাঙ্ক্ষার সূত্রেই আমাদের মনে পড়তে পারে আরেক কবির " আমাদের ভাতে লবণের ব্যবস্থা হোক  । "
-- আর তাই তো নুনের মতো অমূল্য কিছু নাই । 

আপামর সাধারণ আমরা জানি,
নুনের মূল্য তো আছেই--- নুন খেলেই  গুন  গাইতে হয়। যে মানুষ একবার নুন খায় সে কখনো কি  ' নিমক -হারামি '  করতে পারে ? 
এই মানুষটির রসদ জোগানোর জন্যই  , তাকে আগলে রাখার জন্যই কবি দীপ্ত -মরমিয়া সুরে বলেন--
            " আমি হাওয়ার ভিতরে   
                নৌকা বাইছি   । "
যার জন্য মাঝি না হয়েও কবি নেমেছেন মাঝির ভূমিকায় । চারদিকে সমাজের  রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছেয়ে যাওয়া দিশাহীনতায়  হাল ধরতে চেয়েছেন কান্ডারীর মতো । কবির সংবেদনশীলতার সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার দীপ্ত অভিজ্ঞানটি খুঁজে নিতে অসুবিধা হয়না । 
   
      দায়বদ্ধতার হাত ধরেই কখন যেন তাঁর কবিতায় উড়তে থাকে প্রতিবাদের নিশান, ঝরতে থাকে বিদ্রুপের স্বর । মানবদরদীর  কণ্ঠটিও আমরা বুকের ভেতর শুনতে পাই--
     
             " নুন কম পড়লেও
              মানুষ কম পড়ে নাই                                                                   
               মানুষের ক্ষুধা তেষ্টা কম পড়ে নাই"

উন্নয়নের বন্যা কথার ফুলঝুরির  ছড়াছড়ির মাঝেই সুতীব্রভাবে উচ্চকিত স্বরে মাথা তোলে  মানুষের আদি অকৃত্রিম অন্নময় কোষের চাহিদা। স্বপ্নের উড়ান ----  " উড়াকলের  আওয়াজ "  যতই প্রলুব্ধ করুক না কেন তা কোনদিনই এই পৃথিবীর পৃষ্ঠা থেকে মুছে ফেলতে পারবে না উন্নয়নের ভাঁজে লুকানো মানুষের  খিদে-তেষ্টার মৌলিক বর্ণমালাটিকে।
 এ যে পৃথিবীর এক অপরিহার্য অবিচ্ছেদ্য চলমান পৃষ্ঠা। তাই ---
    
    " তুমি শোনো বা না শোনো   
        চিৎকার হচ্ছেই ..... 
        ...       ...      .... 

       হুড়মুড় করে চিবাবে সবাই                   
        উড়াকলের আওয়াজ। "

        এ কাব্যে প্রেমের স্ফূরণ ও  প্রসারণে খুলে খুলে যায় নানা দরজা। স্বরূপটিও  খানিকটা আভাসিত হয়--

      " কিসের সঙ্গে কিসের পিরিত ? 
      আমড়ার সঙ্গে আমের পিরিত হবে না
      আমের সঙ্গে আতার পিরিত হবে না

    
           মাটির সঙ্গে বালির পিরিত   
                                                   
           সমুদ্রের সঙ্গে নুনের পিরিত  "

প্রেম বাংলা কবিতার এক বহমান বিষয় ।প্রকাশ ও উপস্থাপনার বৈচিত্র্যে এক একজন    কবির স্বাতন্ত্র্যটি চিহ্নিত। কবি নির্মল সহজ স্বতোচ্ছল আলাপচারিতায় প্রেমের গভীরতা ও মাধুর্যকে ছুঁয়ে ফেলেছেন । আর এখানেই তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোনটি আমাদেরকে গাঢ় মায়ার প্রলেপ দেয় ও আর্তি জানায়--
    
                  "   পিরিতে পিরিত থাকে  
                       জামে রঙ থাকে 

                       থ্যাৎলে দিও না  ।  "



      প্রকৃতির সাম্যে- সাযুজ্যে  আমাদের সহজ জীবনের সার্থকতা ও মাধুর্য নিহিত।  বস্তুর বিপুল সঞ্চয় আর আজকের কৃত্রিমতা আমাদেরকে সরিয়ে নিয়ে গেছে জীবনের সহজতা থেকে বহু  দূরে ! ভূলে গেছি  জীবনমালার সহজপাঠ। বাজাতে পারি না মাটির বাঁশি। আমাদের  ফিরতে তো হবে সেখানেই  --- যেখানে " আমের বোঁটায় থিক থিক করছে জীবন।" বলতে হবে--

      "  হাওয়া আমাকে জাগাও   
    
     যেভাবে জেগে আছে রাস্তা    
    যেভাবে জেগে আছে বৃক্ষ লতাপাতা
         ...         ...                ...       
 যেভাবে জেগে আছে পথিকের দিন ও রাত্রি "


 এ কাব্যে আমরা দেখি--
            " প্রতিদিন নক্ষত্রের জন্ম  "
 সেই জন্মের কান্না গায়ে জড়িয়ে কবি বলেন--
      
         "  প্রতিদিন কান্নার তাপ        
            আমাকে আলোকিত করে । "

--- কেননা আবহমানের চন্দ্র-সূর্য  প্রীতিস্পর্শের সহজধারায় মুছে দিয়ে যায় এই পৃথিবীর প্রতিদিনের মালিন্য  , আমাদের যাপনের আঙিনার কুশ্রীতা আর যাবতীয়  ত্রুটি-অসম্পূর্ণতা। ভরিয়ে দিয়ে যায় সুন্দরতার সুষমায় -ছন্দে । এবং এরই অমল আলোর তরঙ্গে কবি বুঝতে পারেন যে তাঁর কাদা মনে  " শাদা লাগে " । একথা বললেও আমরা বুঝতে পারি , নির্মলের কবি মনে কোনদিনও কোন কাদা ছিল না ---  না তাঁর জীবন-যাপনে  না তাঁর কবিতায় । জীবন জুড়ে ধূপের মত পুড়তে পুড়তে মন তাঁর আত্মদহনে একেবারেই খাঁটি--- অমল আলোর বিভায় ভাস্বর । আর এজন্যই তিনি এবং আমরাও দেখতে পাই---    " তারার গৌরব " । 

 কার্যত , শেষ কবিতাটির অন্তর্লীন ঐক্যে কাব্যগ্রন্থটির সমাপ্তিটি হয়ে ওঠে আবহমানের পৃষ্ঠায়-ধরা চরাচর প্রকৃতির অন্তহীন গৌরবগাথা।







মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। মোহন পরামানিক

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। শঙ্কর মন্ডল

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। সন্দীপ কুমার