দ্বিতীয় বর্ষ ।। পঞ্চবিংশতি ওয়েব সংস্করণ ।। ১৩ চৈত্র ১৪২৮ ।। ২৮ মার্চ ২০২২


বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূগাঠনিক মৌলিকত্বের জন্য পুরুলিয়া জেলা প্রাকৃতিক দিক থেকে খুবই সমৃদ্ধশালী। তাই এই জেলাকে "সুন্দরী পুরুলিয়া" বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এখানকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। বহু প্রাচীনকাল থেকে লালিত-পালিত হয়ে আসা টুসু ভাদু ঝুমুর ছো নাটোয়ায় মাতোয়ারা হয়েছে এখানকার আদি নিবাসী এবং এখানে ঘুরতে আসা মানুষ। বাংলার সিনেমা জগৎ তো বটেই মুম্বাইয়ের সিনেমা জগৎকেও বহুভাবে সমৃদ্ধ করেছে এখানকার ভূমিরূপ এবং এখানকার মানুষ। তাই পুরুলিয়া জেলার পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ছিল গোড়া থেকেই। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো কান্ডারী ছিলেন না। এক কথায় বলতে গেলে পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধশালী করে তোলার জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। আর এর পেছনে যে মূল কারণ বিদ্যমান তা হল জাতিগত বৈষম্য বাদ। এখানকার আদি বাসিন্দাদের দমিয়ে রাখার অপপ্রয়াস। যার কারণেই এই জেলাকে নানা ভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করে রাখার জন্য বারবার কারখানা প্রতিস্থাপন করার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেও শেষ পর্যন্ত কারখানা প্রতিস্থাপন করা হয়নি। এই এলাকাতেই যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা সত্ত্বেও এই এলাকার সরকারি চাকরির কোটাগুলোকে পরিপূর্ণ করা হয়েছে বাইরের ছেলে মেয়ে দিয়ে।
              পুরুলিয়া জেলার ওপর রাজনৈতিক দিক থেকে আধিপত্য বজায় রাখার জন্য নানা অঙ্ক কষা হয়েছে নানা সময়ে। কেবলমাত্র কলকাতা শহরকে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রস্থল করে রাখার একটা প্রবণতা দেখা গিয়েছে এবং সেই প্রবণতা বর্তমান সময়েও বিদ্যমান।
               তবে পুরুলিয়া জেলার মানুষ নানা ভাবে নিজেদেরকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার জন্য মরণপণ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে। যার সুফল হিসেবে নানা দিকে বিকশিত হচ্ছে নানা ফুল। শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে পুরুলিয়া জেলার অবদান বর্তমান সময়ে অনুপেক্ষণীয়। বিগত কয়েক দশক ধরে এর প্রবণতাও বাড়ছে। অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষেরা এগিয়ে আসছেন সামনের সারিতে। তারই প্রতিফলন ঘটছে পলাশ পরবের হাত ধরে পর্যটনশিল্পের বিকাশ লাভে। গত ১০ বছরের মধ্যে পলাশ পরবের যে বিস্তৃতি ঘটেছে তা অবর্ণনীয়। আর পলাশ পরবের হাত ধরে বাড়ছে পুরুলিয়া জেলার প্রতি বাইরের মানুষের আকর্ষণ। দিনের পর দিন সেই আকর্ষণ বেড়ে চলায় পর্যটন শিল্পের দিক থেকে উত্তরবঙ্গের মতোই সামনের সারিতে এগিয়ে আসছে "সুন্দরী পুরুলিয়া"। এই ভাবে এগোতে থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পর্যটনশিল্পের হাত ধরেই অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে পুরুলিয়া জেলা এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।



উত্তম মাহাত, সম্পাদক 



______________________________________________
যাঁদের লেখায় সমৃদ্ধ হলো এই সংস্করণ
______________________________________________
ফজলুররহমান বাবুল / হোসনে আরা কামালী / নিমাই জানা / শুভনীতা মিত্র / উৎপল দাস / সুজন পণ্ডা / মধুপর্ণা / তপন পাত্র / দীপংকর রায়
______________________________________________



ফজলুররহমান বাবুলের কবিতা

১.
বাবা


বাবা আমাকে সাঁতার শিখিয়ে পাখি হয়ে উড়ে গেছে কোন ঘুমের দেশে? কেউ আমাকে কি বলতে পার বাবার ঘুমের দেশটা কোন গ্রহের অতলে? বাবা আমাকে তার কাঁদে নিয়ে অনেক হেঁটেছে শীতের সকালে শিশিরভেজা ঘাসে আর লাল-নীল জামা, চকলেট কিনে দিয়েছে। আমি বাবার সঙ্গে মাছ ধরেছি তেরাসাবড়ির জলে। বাবা বাড়ির পুকুরে আমাকে শিখিয়েছে সাঁতার; আমি আজ সাঁতরাতে পারি জলে, দৌড়াতে পারি মাঠে-ময়দানে। কেউ কি বলতে পার বাবার ঘুমের দেশটা কতদূরে? বাবা নেই বলে কত সুর মিলিয়ে যায়, ফিকে হয়ে যায় কত রং। বাবা পাখি হয়ে উড়ে গেছে বাতাসে ডানা মেলে। বাবা নেই বলে কত সময় আমাকে ফাঁদে ফেলে আর পথ গুলিয়ে যায় অচেনা জঙ্গলে। বাবাকে দেখি না বলে পলি জমে বুকের ভিতরে, বিষণ্ন মেঘ কাঁধে নিয়ে নামে আঁধার মোড়ানো রাত। যদি একবার ফিরে আসতো বাবা, তবে তাকে দেখে জেগে উঠত প্রসন্ন প্রভাত আর গেয়ে উঠত কত-যে সুরের পাখি! দুঃখিত সময় দেখে আজ সাদা আকাশের নিচে তেরাসাবড়ি আছে, বাড়িতে পুকুর আছে, বাবা নেই।

 

২.
একটাই পৃথিবীতে


বলেছি, রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এক-একটি সেতু পেরোতে পেরোতে তোমাকে মনে রাখি, এক-একটি দরজা খুলতে খুলতে তোমাকে দেখি। একটাই পৃথিবী তোমার এবং আমার, একটাই আকাশ, তার বেশি নয়। একটাই পৃথিবীতে ঝড় ওঠে, কুয়াশা-হিম কিংবা বরফের রাজ্যে হাঁটতে হয়, ঘুমাতে হয় ভ্যাপসা গরমে, সাঁতরেও পেরোতে হয় দুষিত নদী। একটাই পৃথিবীতে এসো আমরা সুখে থাকি-রাতভর দিনভর। একটাই পৃথিবীতে তোমাকে ভাবতে ভাবতে দিনকে আর দিন মনে হয় না, রাতকে আর মনে হয় না রাত। আর, এটা সত্যিই কিছু কঠিন। আমাদের স্বপ্নগুলো লুঠ হয় ধুলো-কাদায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে অজানা বৃক্ষের গোড়ায় আর আমরা হাসতে হাসতে হয়ে যাই বেদনার দিনরাত্রি, আমরা হয়ে যাই বিষণ্ন-সন্ধ্যা। আমরা রংধনুর রং থেকে বেদনা কুড়াই আর পৃথিবীতে ওঠে ঝড়, ত্রস্ত্র কপোতেরা উড়ে যায় অজানায়। এসো, আমরা লক্ষ বছর ঘুমাই, তারপর জেগে উঠে কোনও উষর শৃঙ্গে বুনোফুলের জলসায় কিংবা কোনও জলনম্র নদীতীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে মগ্ন-সন্ধ্যায় পৃথিবীতে ফোটা সব ফুলের একটি করে নতুন নাম দিই আর বাড়ি এসে রাঁধি ঝাল চচ্চড়ি। এসো, আমরা বন্ধ জানালা খুলে দিই। একটাই পৃথিবীতে ভাবতে ভাবতে সময় পালায়, ধুলো জমে রাস্তায়, জং ধরে লোহায়। জীবন সুখের স্বপ্ন! এসো, বৃত্তের বাইরে বসে দেখি স্বপ্নের দুনিয়াদারি, দেখি পতঙ্গভুক পাখি আর রংবাহারি ফুল, দেখি আকাশ অরণ্য সাগর, দেখি পাহাড় এই একটাই পৃথিবীতে। একটাই পৃথিবী তোমার এবং আমার, একটাই আকাশ। এসো আমরা সুখী হই। একটাই পৃথিবীতে এসো আমরা সুখে থাকি রাতভর দিনভর।

 
৩.
সূর্যকথা


মনের ভিতরে একটা সূর্য থাকলে আমি কি বলতে পারি, ওই সূর্যের দিকে আর তাকাব না, যার নিত্যরূপ সর্বত্রই এক? না, আমি বলতে পারি না। সূর্যের মতো এত তাপ আমি তো বুকেও ধরি না। যদিও-বা থাকে কিছু সূর্যের মতো, আমি তাকে ছুঁতেও পারি না।

সূর্য ওঠে মনের ভিতর, সর্য ডুবে যায়; দূরবীক্ষণে তাকে দেখা যায় না। কে-বা আর এমন কুচকাওয়াজ করে লুকিয়ে থাকে সূর্যের মতো? আমার ভিতরে যদি কোনও সূর্য থাকে, আমি কি তবে বাইরের সূর্যকে আর দেখব না?  

 


 

হোসনে আরা কামালীর কবিতা

বাড়ি


বাড়ি আসলে কোনটি!

কোন দৃশ্য পৌঁছায় দেবে আসল বাড়ির ঠিকানায়
এক রবিবার রাতে মার জরায়ুর
লহুজল যে-মাটিতে প্রথম আছড়ে ফেলেছিল
নাড়ির ফুল যে-মাটিতে পোঁতা বহুকাল ধরে
যেখানে কাঁঠালপাতায় লেখা থাকে শৈশবগীতি

সে-ই টা বাপের বাড়ি
মাঝে মাঝে নাইওরের ঠিকানা

বাড়ি আসলে কোনটি!

কীসের বন্ধন লেপে দেবে আপন বাড়ির উঠোন
তিন কবুলের স্বাবলম্বন,
শখ-বায়নার জায়-জেওরাত?  
জঠরে হাতধরা শিশুর বাগান,
আর আয়নামহলের ছাদের আকাশ? 

এ-ই টা স্বামীর বাড়ি
তিনি চাইলে আমৃত্যুর ঠিকানা 

বাড়ি আসলে কোনটি!





নিমাই জানার চারটি কবিতা

১. 
মরু অঞ্চলের বাবা অথবা হিডিয়াস নাইট্রিক


ক্লোরাইড ক্যাকটাসের জ্বর হলে বিপ্রতীপ কোণের আমার প্রাচীন শরীরের বাবা ছাড়া আর কেউ ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্কের পাললিক চরম মান নির্ণয় করতে পারে না ,
নিম্নচাপের প্রবল বৃষ্টিতে নেমে আসা সব মূলরোমের প্রবাল অথবা শৈবাল কথা মৃতজীবী ছত্রাকের উপর নাইট্রিক বাকল খুলে রাখে ,
আমাদের বৈরাগ্য করে তোলে প্রাচীন অন্ধকারের মতো অসংখ্য হিডিয়াস গরুড় পাখির পালক,  মহাকালের গর্ভে গজিয়ে ওঠা লোমশ বৃক্ষের মতো মহেশ্বর ,কিন্নর  , ক্রমশ মিলিয়ে যাবেন রাত্রিকালীন পূর্ণমান বৃহত্তম সংখ্যার সাথে
পরম বৈষ্ণব তিনি , অজস্র সাপের মাথায় রুদ্রাক্ষের মালা পরিয়ে দিচ্ছেন যোণীচক্রের সতীপীঠ স্নান কালে ,
ভয়ঙ্কর কোন মরুঅঞ্চলে রাত্রি ক্রমশ প্রাচীন পোশাক পরে নিচ্ছে উলঙ্গ বাহার শুক্রাণু নিয়ে
লজ্জাবতী গাছের ভেতর বসে কেউ ম্যান্ডোলিন বাজায় , একসাথে জাইগোট ভেঙে নিজেদের ঠোঁট থেকে কাকতালীয় হিউমেরাসের সন্তান শাবকেরা মালভূমির উপত্যকা বের করে রক্ত তঞ্চনের কথা বলবে ,
শ্মশান আরও প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র হয়ে উঠবে একটি রাতের জন্য


২. 
ক্ষুদ্রতম থ্রম্বাস ও সাতবেটিয়ার অনুপাত চিহ্ন


আমি একটি ঘোড়ার ভিতরে জেগে থাকা থ্রম্বাস অনুপাতগুলো নির্ণয় করছি দীর্ঘ কাঁটা কম্পাস দিয়ে , আমার কাগজের ভেতর তিনটি শাড়ির টুকরো ও ১৫ ফোঁটা রক্তের বিন্দু ছিল বলেই রক্তপাত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাবুটি আগুনের কাছে পবিত্র হয়ে যাওয়ার মন্ত্র দিয়েছিলেন , লোরাজিপাম নামে কোন পাতাবাহারের গাছ নেই
এক যুগ আগে ও আমাদের ঈশ্বর ছদ্মবেশ পোশাক পরে অবৈধ ওষুধ বৃক্ষ হয়ে ছিলেন
স্কিজোফ্রেনিয়া অসুখে ভোগা রোগীটির ডান হাতে একটি সুন্দর প্রচ্ছায়া অঞ্চলের  অসমযোজী পাখিটি উড়ে বেড়ায় পিচ্ছিল লাইসোজোম ঠোঁট নিয়ে
কৌণিক বিন্দুর সলিল চিহ্নময় গোলকধামের ব্রহ্মাণ্ড যোজন দূরে আমাদের শরীরের  কাপালিকেরা খোলস কম্বোজ অসুখ নিয়ে চলে যায় রাত্রির প্রতিটি প্রান্তে থাকা অজগর পুরুষেদের কাছে , নীলাভ রামভদ্রপুরের কাছে এলেই অমৃত পুরুষদের কথা মনে হয় যারা আকাশমনির ছেঁড়া পুংদন্ড গুলো মুখে নিয়ে পেরিয়ে যায় সাতবেটিয়ার উড়ালপুল ,
গোখরো রঙের ধানগাছের চাষ করেছে দ্রৌপদী বস্ত্রের চাষী , তাদের পিঠে ছোপ ছোপ  মহাকাল আঁকা আছে




৩. 
বিষুবমন্ডলের ত্র্যম্বক ও কোয়েল হান্ড্রেড এস আর


আমাদের অলীক ও সহস্র বর্ণের ঘুম বড়ি খেয়ে ফেলবে যৌন গ্রন্থির মত রাসায়নিক ক্রিয়া মাখানো পথ  , কোয়েল হান্ড্রেড এস আর একটি নীলাভ ঝাঁঝালো স্থলপদ্মের নাম
সকলের মুখে অসুস্থ কথাগুলো লেগে আছে অথচ আমি শুধু মৃত দেহ কিনে বাড়ি ফিরি একটি উলঙ্গ সাদা ব্যাগের ভেতর , ক্রমশ সাদা জবার পিছনে ত্র্যম্বক নামক এক মানুষ শুয়ে থাকে নীলাভ সহচর হয়ে
এই জনহীন প্রান্তরে কোনদিন ভুট্টা গাছের মতো বেদনা সমগ্র কথাগুলো রোপন করা যাবে না পাললিক পাথরের রেচনতন্ত্রে ,
পৃথিবীর অর্ধেক ক্ষেত্রফল জুড়ে জরায়ুজ সাপেদের চাষাবাদ শুরু হয়েছে এখন , বৃষ্টি রঙের দাগ নিয়ে সকলেই লাল রঙের ম্যাগনিফাইং উত্তল লেন্স পুড়িয়ে দিচ্ছে সহজ পাঠ্য পুস্তকের পৃষ্ঠায় , বাদামী বর্ণের ধোঁয়া বেরিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ
ভৌতিক অথচ প্রতিবাদ ঢালের বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন ছিল বলে রাগ করছে সর্বভুক বেলপাতা , বিষুবমন্ডলের ঠোঁটটি চওড়া হয়ে নেমে আসছে ধারালো বানের মতো
মাটির গভীরে চলে গেছি জীবাশ্ম পুরুষদের সাথে,  শরীরের প্রতিটি প্রান্তের গর্ভজল উঠে আসছে মহাভারত থেকে ফিরে আমার ঘুড়ির মতো ফুটে আছে লিথিয়াম সরবিট্রেট
একাই ভৈরব নদী রাত্রি পেরিয়ে যাচ্ছে পোশাক ,আর আমি জানালার কাছে প্রতিটি পুরুষের ভেতর পুরুষ্ট শৈশব দেখি, ক্রমশ ভৌগোলিক হয়ে পড়ছি উর্বর স্থাপত্য পর্বতের ঋভু কথায় , একটি প্রচ্ছায়া অঞ্চলে ইলেক্ট্রো টাইপিং মিলিয়ে দেবে কংক্রিট রঙের সাপের খোলস ,
যোজন চিহ্নে একাই বসে আছেন বৈশ্বানর



৪. 
গর্ভবতী স্ট্রবেরী ও বানপ্রস্থ কথা


স্ট্রবেরি রঙের সিস্টাইটিস গর্ভবতী ঝুলে আছে নাভি কুন্ডের নিচে আদিম এক ফল দোকানের পাড়ে ,আমাদের তখন উত্তাপহীন জ্বরের প্রকোপ , ক্যাল্পল ৬৫০ একটি স্টিমুলেটিং ট্যান থিটার নাম
আমি বৈধ পাথর ঠোঁটে নিয়ে কাপালিক হয়ে যাচ্ছি সঙ্গমের পর , সকলেই পাথর হতে চায় , অথচ স্বর্গ থেকে নেমে আসা দক্ষিণ মুখের পুরুষেরাই সন্ন্যাস কথা শিখিয়ে যায় আমাকে
জোড়া জোড়া বেলপাতা পুড়িয়ে আমাকে বাণপ্রস্থে নিয়ে যায়  মদন পুরোহিত ,  আমি ব্রহ্মচর্য হওয়ার পর মানসাঙ্ক গুলো ফেলে আসি ক্ষুদ্রাকার জামার ভিতর
খোলসকে একাই পোড়াতে ভালো লাগে,  দাউ দাউ জ্বলে উঠলে বিষবৃক্ষ রং পুড়ে যায় , অথচ অমরাবতী পুড়েনা আমার ভেতরের তাপসী নামের এক সূর্যকিরণ
জোনাকি আর চাঁদ পরস্পর সমকোণে দাঁড়িয়ে আমাদের শুঁয়োপোকা সংক্রান্ত বৃশ্চিক রাশির ডান ফুসফুসীয় শিরা পথে রাতের বেলায় প্রতিদিন ভুকম্পন জাগে
বাবলা রঙের পাতাগুলো নাভির উপর থেকে নৈঋত কোণের দিকে হাঁটা দেয় আমি ক্রমশ ডিম্বাকার হয়ে যাই ,
একটি নদী অসুখ সারানোর আগে রতিক্রিয়ায় নেমে আসতে পারে না , খেয়া ঘাটে জলদস্যু দাঁড়িয়ে থাকে খনিজ ভর্তি তলপেট নিয়ে
আমি একটি প্রাচীন মসলা ভান্ডারের কাছে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের কৃষ্ণময় শীতবস্ত্র দেখে এসেছি , নখরগুলো আদিম লাল রঙে ঢাকা , পিঠে বক্ষবন্ধনীর উত্তল রজনীগন্ধা গুচ্ছ স্ফুলিঙ্গ
একা একাই ব্রহ্মান্ডের দিকে চলে যাচ্ছে ভাঙ্গা দাঁত নিয়ে
আমরা ক্রিমসন রেড রঙের অ্যাসপিরিন কিনে বাড়ি ফিরি লোমশ মানুষগুলোর জন্য , তিন কোটি রাক্ষস বিস্ময়বোধক জ্যামিতিক পড়ে নিচ্ছে


 




শুভনীতা মিত্রর কবিতা

১.
উপকথা

সন্ধ্যাবেলায় বৃষ্টি নামে। প্রতিদিনের মতো যতটা রাস্তা একা যাওয়া যায় সেটুকুই তোমায় পাওয়া। বোবা সাইকেল সঙ্গ ছাড়ে না, শব্দ বন্ধনীর মধ্যে গাঢ় নিঃশ্বাসের আদান প্রদান। 
মন্দিরের আরতি, রাসমঞ্চ পেরিয়ে বসেছে এক গ্রামীণ মেলা। আলো চুঁইয়ে ঠোঁটে টুকরো হাসি। এরপর যে বিচ্ছেদ ঘনাবে তার রেশ কোত্থাও নেই। দুটি হাত তখনও খুঁজে চলেছে আশ্রয়। সাগর বোষ্টমীর সুর ঘোর লাগিয়ে দেয়। মেলা পার করে যে দীঘি চাঁদের দর্পণ সেখানে কোনোদিন খোলস ছেড়েছি আমরা। আদি অন্ত কিছু নেই। জ্যোৎস্না মাখা একটা রাত আমাদের চারিপাশে তখন গড়ে তুলেছে আলোর উপনিবেশ।
যখনই বাঁক আসে প্রতিধ্বনিত হয় মায়াবী স্রোতের উপকথা...


২.
সূর্যোদয়

উপাসনা গৃহ থেকে বেরিয়ে যাজক হেঁটে যায় পতিতালয়ের দিকে। নতুন বার্তা আনছে ইন্দ্রিয়। মজে যাওয়া ফলকে ধুলোর আস্তরণ ঊর্ধ্বে চিনতে শিখেছে সদ্য নথ পরা বালিকা। কতদিন গান গাওয়া হয়নি! কত রাত প্রদক্ষিণ করা হয়নি জগৎপ্রভুকে। বৃষ্টি জোছনা তাদের উপজীব্য নয়। যত কাছে আসে আলো বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার ধাঁধায় মৌনব্রত নেয় সময়।







উইপোকা আর পিপীলিকা 

উৎপল দাস 


বর্ষা রাতের কলরবে মাতাল মন
জেগে আছে এখনও 

উঠোনের আলোয় 
যে কটা উইপোকা উড়ে এসেছিল, 
তাদের ডানা এখন মাটিতে লুটায়। 

ওড়ার স্বপ্ন নিয়ে 
সকলেই উড়তে চায়। 

পিপীলিকাগুলোও অপেক্ষায় ছিল।





গন্ধহীন ফুলের তাপ

সুজন পণ্ডা


মনে করো
আজ থেকে অনেক বছর পর--
চিনতে পারবে?
মনে করো
আমি বলছি মাঠের কথা
শুকনো বিবর্ণ রোদ
আর বিস্তৃত পাতার বিছানা।
বুঝতে পারবে?
মনে করো
অনেক পরে 
অথবা কিছুক্ষণের মধ্যেই-
গন্ধহীন একটি ফুলের তাপ
এসে পড়লো তোমার মুখে,
তাকে শুধুমাত্র ছায়া দিয়ে মনে রাখতে পারবে? 
পারবে নিশ্চয়ই। 

মনে করো - 

সব চলে যাওয়া তো আর বিচ্ছেদ নয়
বরং আরো নিবিড় যাপনের ডাক।








বিস্মৃতির ঢেউ

মধুপুর্ণা

ক্ষমতার সূক্ষ্ম বিন্যাসের ভিতরে জন্মে  
তুমি বুনে চলেছ আরো সূক্ষ্ম জালিকা।  
এ জীবন মাকড়সার জাল বৈ তো নয়।  
ক্ষমতার তরল আর জালিক প্রবাহ  
না চিনেও কেমন হাসছ দেখো।  
এ জীবন নেহাত পাপেট শো বৈ তো নয়।  
অদৃশ্য নিয়ন্ত্রকের হাতে ক্রীড়নক হয়ে  
তুমি বাঁচো অথচ মুখে বলো কি, আহা!  
মৌলিক আর উপাদেয় এই বেঁচে থাকা।  
এ নিছক আত্মবিস্মৃতি বৈ তো নয়।  
তুমি তুমি তুমি মিলে আমাদের এই যে  
সমুহ প্রবাহ, চলা আর ফেরা। অস্তিত্বের  
কাছে কান পেতে শুনেছ কখনও?  
এ জীবন বিস্মৃতির প্রকান্ড ঢেউ  
বৈ তো নয়।







মানভূমের লোকছাড়া

         
         তপন পাত্র

(আগের সংখ্যার পরবর্তী অংশ)

                  খাবার খাওয়াতে চাইলেই ছেলে না খাওয়ার জিদ ধরে , দেয় দৌড় । একটু চোখের আড়ালে গেলেই ঘরের মা, কাকিমা , জেঠি, পিসি বিশেষ করে ঠাকুমা তাকে ধরে এনে ভুলিয়ে ফুসলিয়ে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন । খাবারের থালা হাতে নিয়ে ছড়া বলেন ---


    " খোকা খোকা ডাক পাড়ি,
      খোকা যায় রে কার বাড়ি ? 
      শিকায় ডা'ল ,বাটায় পান ; 
      আমদে খোকাক্ ডা'কে আন । 
      খোকা আমদের খায় নাই ভাত ,
      কথায় পাব গ মাগুর মাছ !   
      কা'ল যাব মানবাজারের হাট,
     কিনে আ'নব মাগুর মাছ ।
      আমদের খোকার মন ঠান্ডা,
     হে'লে-দু'লে খায় দুধ মন্ডা ।।"

                  ছেলে-মেয়েদের শুধু খাওয়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, স্নান করানোর বেলাতেও সমান সমস্যা । শুধু শুধুই জল ঘাটতে চায়, কিন্তু স্নান তারা করতে চায় না ; শীতকাল হলে তো কথাই নেই । স্নান করতে পুরোপুরি অনিচ্ছুক মেয়েকে সুরের নেশায় আচ্ছন্ন করে স্নান করানোর কাজটি সেরে ফেলতে চান বাড়ির মহিলারা ।

        " খুকু সিনা'ছ‍্যা, গা দুলা'ছ‍্যা
         হাতে ত‍্যালের বাটি ।
         নুইয়ে নুইয়ে চু'ল ঝা'ড়ছে
         হি'লছে সনার কাঁঠি ।"

              ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খাবার ঘটনাকে ঘিরে , স্নানকে ঘিরে যেমন ছড়া রয়েছে তেমনি তারা যখন কারণে-অকারণে কান্নাকাটি শুরু করে দেয় , তখন সেই কান্না ভুলানোর জন্যও নানা রকমের ছড়া ব্যবহৃত হয়ে আসছে অনাদিকাল থেকে । এই ছড়াগুলির মূল উদ্দেশ্য সুর ও ছন্দের প্রলোভনে অথবা নানান জীবজন্তু ও পশুপক্ষীর ভয় দেখিয়ে তাদের কান্না থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ।

       " চুপ দ‍্যান্অ, চুপ দ‍্যান্অ
            বিরা'ল আ'সচে ,
        বাবুর মতন ছানাগিলান
            গটাই খা'লছে ।"

      -- উদ্ধৃত ছড়াটিতে বাচ্চাকে বিড়ালের ভয় দেখানো হচ্ছে । আবার অন্য একটি ছড়ায় ফুটে উঠছে শ্বশুর বাড়ি যাবার কাল্পনিক চিত্র । 

           " ধন কেনে রে কান্দে ?
                ন-, শশুর ঘর যাবে ।
            চিঁড়া মুড়ি গাঁ'ঠাঁই দিব,
                রাস্তায় জল খাবে ।
           লাল কাপড়ের ছাতা দিব,
             ছাইরায় ছাইরায় যাবে ।"

     ছেলেদের যেমন শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার প্রসঙ্গ আছে, তেমনি আবার পরোক্ষে মেয়েদের বাপের বাড়ি যাবার কথাও আছে ছড়ার মধ‍্যে ।

           " একতারা- দু'তারা 
          রাজা ঘরের ঝারাবারা ।
         আন ত বিটি কাঁড়বাঁশটি,
           চু'টা গেল বাপের বাড়ি
           প'রে আ'ল লাল শাড়ি ।
            বঘায় বলে বঘিন কথা
            মাঞা শ্বশুর ঘরে ,
            গগলি খাঞ‍্যা ম‍রে ।।"


     ছেলেভুলানো ছড়াতে কখনো কখনো মাছ ধরতে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে । কারণ পশ্চিম সীমান্ত বাংলায় কম বয়সের ছেলেমেয়েরা বর্ষাকালে ঘুগি-শিয়াড়া নিয়ে ধান জমিতে মাছ ধরতে যায় , সে কারণে ছেলেভুলানো ছড়ায় এই প্রসঙ্গ এসে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।

        " আ'সরে ছানা-পনা 
             মাছ ধ'রতে যাব 
      মাছের কাঁটা পায়ে ঢু'কলে   
             দলায় চা'পে যাব ।
       দলায় আছে ছ'পন কড়ি
             গুনতে গুনতে যাব ।
       একটি কড়ি বেশি হলে
              লাড়ু কিনে খাব ।।"

      এতদঞ্চলের নৃত্যগীত প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম মূল্যবান অঙ্গ । তাই হয়তো নৃত্যের প্রসঙ্গও ছেলেভুলানো ছড়াতেও স্থান করে নিয়েছে ।
       
       " তা তা থৈথৈ থুড়া ,
       ভা'ঙ্গল খাটের খুরআ।
        ডাঁঢ়াই লাচে সুন্দরী বউ 
          ব'সে বাজায় বুড়হা ।। 

    বলা মুশকিল এই ছড়াটি সৃজনের নৈপথ্যে কোন নাচনি, খেমটি নাচের বিষয়টি কাজ করেছে কি না । কারণ সুন্দরী বউয়ের নৃত্যের আসরে নৃত্য করা এবং তুলনামূলকভাবে অনেক বয়স্ক লোকটির বসে বসে বাদ‍্য বাজানো অনেকাংশে সে দিকটিই ইঙ্গিত করে ।

           আবার শিশু যখন ধীরে ধীরে কারো সাহায্য ছাড়াই, দড়ির খাট না ধরেই আলগাভাবে দাঁড়াতে পারছে বা চেষ্টা করছে ,তখন তার মামা বাড়ি যাবার কথা এনেও ছড়া সৃষ্টি হয়েছে ।

            " অলগ ডিডি পাপা খায়,
              মামা ঘরকে দৈড়ে যায় ।।"
     
     অর্থাৎ শিশুটি কারো বা কোনো কিছুর সাহায্য না নিয়ে নিজের থেকেই উঠে দাঁড়াচ্ছে এবং দৌড়ে মামা ঘর গিয়ে পিঠে খাচ্ছে । ছেলেমেয়েদের মামা বাড়ি গিয়ে আদর ও পিঠে খাবার প্রসঙ্গ অন্য ছড়াতেও আছে । যেমন ---

       " তাই তাই তাই মামা বাড়ি যাই, 
       মামাবাড়িয়্ গুড় পিঠা লুকাই লুকাই খাই ।"


          কেউ কেউ দ্বিতীয় চরণটি বলেন ---"মামাবাড়িয় গুড় পিঠা কপাট কুনে খাই ।"
                এই ছড়াটির অনুসরণে কোন কোন কবি নিজের মতো করে ছড়া রচনাও করেছেন । মানভূম তথা পশ্চিম সীমান্ত বঙ্গে যত রকমের লোকছড়া আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং সংগ্রহের দিক থেকে অধিকতর ছেলেভুলানো ছড়া । এমন কিছু কিছু ছেলে ভুলানো ছড়াও আছে, যেগুলোর না আছে মুন্ডু মাথা,না আছে কোনো মানে; কিন্তু মজা যে রয়েছে এবং শিশুরা যে সন্তুষ্ট হয় সে সব শুনে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । এখন এমন একটি ছড়া তুলে ধরবো, যেটি সাধারণত বাড়ির লোকেরা খাটের উপরে বসে অথবা বাড়ির ধারীতে বসে কিংবা উঠানে খামারে কোন জায়গায় নামিয়ে রাখা কাঠমুড়ার উপরে বসে নিচের দিকে দুটি পা ঝুলিয়ে পায়ের উপরে দু'দিকে পা করে শিশুটিকে বসিয়ে শিশুর দু'টি হাত দু'হাতে ধরে দোল খাওয়াতে খাওয়াতে বলতে থাকে ---


           "ঘু-ঘু-চ্-চু-- পাঁড়কুচ্-চু-
           খা'ট ভা'ঙ্গ্-ল ভুঞ‍্যে শু ।
           আঘন মাসে প‍্যাটের দুখ,
           ড‍্যাং ড‍্যাডেং প‍্যাটেং ,
           ড‍্যাংটি প‍্যাটেং ন‍্যাটেং ।
           চড়্-খুসলি ভাঁদা যায় ,
       আমদের খঁকা মাছ-ভাত খায় ।
         খঁকার মা খায় কজ্জী আমঠা ,
          খঁকার বাপ খায় ...
          চ‍্যার-- চ‍্যার--পটাশ্ ।।"

       --- এই ছড়ার যে সঠিক কী অর্থ আর যিনি ছড়া কেটে কেটে ছেলে ভোলান, তাঁর এ সব শব্দ প্রয়োগের অভিপ্রায়ই বা কী বুঝি না , কিন্তু এটি বেশ বোঝা যায় যে শিশুরা ধীরলয়ের সুরে ছন্দে এইসব উদ্ভট শব্দ শুনতে শুনতে আনন্দে মেতে ওঠে আর খিলখিল করে হাসতে থাকে , হাসতে থাকি আমরাও অজানা এক আহ্লাদে ।

            ( পরবর্তী অংশ পরের সংখ্যায় )




________________________________________________

ঔপন্যাসিক দীপংকর রায়ের ধারাবাহিক উপন্যাস---
"জলশ্যাওলার বিরহকথা" --- এবার ষষ্ঠদশতম পর্ব
________________________________

জলশ্যাওলার বিরহকথা

দীপংকর রায়


               এই সকালবেলায় দু'একজন বাজার-মুখো মানুষ আর ক্ষেত-পরিদর্শক চাষি ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পেল না সে এখান দিয়ে যেতে-আসতে। একটা সিগারেট ধরাতে খুব ইচ্ছে করছিল তার। ধরালোও হাঁটা থামিয়ে। তারপর ধপ্ করে বসে পড়লো ঘাসের উপর। অনেকক্ষণ বসে থাকলো কর্মহীন মানুষের মতো একা একা। তারপরে কখন উঠে অনেকটা দূর অবধি আরো খানিকক্ষণ হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে চললো। পরে মনে হলো, অনেকটা চলে এসেছে সে। তাই ফিরতি পথ ধরলো। পায়ের চটির তলা ধুলো-শিশিরে ঘাসমাটি জড়িয়ে মাখামাখি। পথের পাশে পড়ে থাকা পাটকাঠির টুকরো দিয়ে কিছুটা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চটির তলা পরিষ্কার করে নিয়ে আবার বসে থাকলো কিছুক্ষণ, সেই ক্ষেতের পাশে পথের ধারে। তার মনের ভেতর কোথাও যেন কোনো তাড়া নেই ফিরে যাবার। গত রাতের সেরকম কোনো স্বপ্ন- আকাঙ্ক্ষাও এখন আর তেমন করে স্পর্শ করে নেই তাকে। এখন যেন সে অনেকটাই হাত পা ঝাড়া । বাড়ি ফেরারও তাড়া নেই সেরকম । তার মনে হচ্ছে, যতক্ষণ না ওই গাছের ছায়া সামনের ফসলের ক্ষেতের উপর থেকে ঘুরে যায় ততক্ষণ সে সেখানেই চুপ করে পড়ে থাকবে। যদিও যথেষ্ট দূরেই রয়েছে সেইসব দেবদারু, পুয়ো, জাম গাছের অবিন্যস্ত সারীরা। 
              ছোটো ছোটো অড়হর গাছের ছায়াও আছে। বাবলার ঝিরঝিরে আলো বাতাসের দোলাদুলিও রয়েছে ওপাশে খানিকটা। এগুলির কোনটা যে কোন্ দিক থেকে তাকে কীভাবে আলোড়িত করে তুলতে থাকলো কিছুক্ষণ তাও সে অনুভবে ধরে নিতে পারলো না। অনেকক্ষণ তাদের মাঝে সে একাকী নানা স্মৃতিপথে যাওয়া আসা করলো এই দেশটার অতীত দিনগুলির মাঝে।


              ------ জানি না তো বাপু! দেখ ও কোনায় নোয়াকাকুর ওখানে আছে কি না ! ঘাটের দিকে গেছে কি না তাও জানি না! কাল একবার ওদিকে ঘোরাঘুরি করছিল দেখেছিলাম। ওদিকে মামাবাড়িতেও যেতে পারে , ----- আচ্ছা বাজারের দিকে গেল না তো! 
              সে তা শুনে বললো, কি জানি ----- বেলাও তো কম হলো না, খাওয়া-দাওয়া করবেই বা কোন্ কালে? আরও পড়ুন

                                     




               আমাদের বই











সম্পাদক : উত্তম মাহাত
সহায়তা : অনিকেতের বন্ধুরা
অলঙ্করণের চিত্রশিল্প - শুভাপ্রসন্ন(আন্তর্জাল থেকে)
অলঙ্করণের ছড়ার ছবি - তপন পাত্র(আন্তর্জাল থেকে)
যোগাযোগ : হোয়াটসঅ্যাপ - ৯৯৩২৫০৫৭৮০
ইমেইল - uttamklp@gmail.com








মন্তব্যসমূহ

  1. তোর লেখাটা ভাল । আরো বর্ননা মেতে পারতিস ।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব ভালো একটি সংখ্যামালা পড়লাম দাদা । ভালো থাকবেন সবাই । ঈশ্বর মঙ্গল করুন আপনার 🙏🏻🙏🏿🙏🏻

    উত্তরমুছুন
  3. এবারের অরন্ধন খুবই সমৃদ্ধশালী। নতুনকে বরণ করার ঔদার্যে, উত্তরণের পথে এগিয়ে চলার অঙ্গীকারে সর্বদা গতিশীল ও প্রাণময় এই পত্রিকাটি।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। মোহন পরামানিক

নৈঃশব্দ এবং ‘এক ভূ-পর্যটকের দলিল’ বিষয়ে।

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। সন্দীপ কুমার