পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

“জীবন কথার নদী"; নদী ও নারীর এক নিবিড় আখ্যান।

ছবি
“জীবন কথার নদী"; নদী ও নারীর এক নিবিড় আখ্যান। মধুপর্ণা  “জীবন কথার নদী” তে ত্রিকূট পাহাড়ের ঢালে জাত ময়ূরাক্ষ্মী নদী এবং সেই পাহাড় ঘেরা উপত্যকায় ছোট গ্রাম পুনাসির মেয়ে বিজলির জীবনের প্রবাহ থেকে যে কথকথার জন্ম হয়েছে তার উপজীব্য বার্তা হল পিতৃততান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রকৃতি ও নারী উভয়ের নিপীড়ন ও শোষণের উৎস। অধ্যাপক মলয় মুখোপাধ্যায়ের এই উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬ সালে, অক্টোবার মাসে। সোপান পাবলিকেশন থেকে। উপন্যাসটি তিনি উৎসর্গ করেছেন পোটামোলজিস্ট সুতপা মুখোপাধ্যায়কে। বইটির প্রস্তাবনা লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সভাপতি কল্যাণ রুদ্র। প্রচ্ছদ করেছেন দেবাশীষ সাহা। এবছর প্রকৃতিকেন্দ্রিক নারীবাদ নিয়ে যখন অল্প বিস্তর চর্চা করছি, তখন আশ্চর্যভাবেই মলয়দার বাগানে ফেব্রুয়ারীর এক চড়ুইভাতির দুপুরে বইটির সঙ্গে পরিচয় ঘটে। প্রকৃতিকেন্দ্রিক নারীবাদ বিষয়ে পূর্বে পড়া বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ নতুন করে আত্মস্থ হল, এই উপন্যাসটি পাঠের পর।   উপন্যাসটির দুটি প্রবাহ সমান্তরালে শেষ অবধি গিয়ে মিলেছে পরস্পর। এক প্রবাহের কেন্দ্রীয় চরিত্র পুনাসি গ্রামের মেয়ে বি...

হোসনে আরা কামালীর এক গুচ্ছ কবিতা

বাড়ি বাড়ি আসলে কোনটি! কোন দৃশ্য পৌঁছায় দেবে আসল বাড়ির ঠিকানায় এক রবিবার রাতে মার জরায়ুর লহুজল যে-মাটিতে প্রথম আছড়ে ফেলেছিল নাড়ির ফুল যে-মাটিতে পোঁতা বহুকাল ধরে যেখানে কাঁঠালপাতায় লেখা থাকে শৈশবগীতি সে-ই টা বাপের বাড়ি মাঝে মাঝে নাইওরের ঠিকানা বাড়ি আসলে কোনটি! কীসের বন্ধন লেপে দেবে আপন বাড়ির উঠোন তিন কবুলের স্বাবলম্বন, শখ-বায়নার জায়-জেওরাত? জঠরে হাতধরা শিশুর বাগান, আর আয়নামহলের ছাদের আকাশ? এ-ই টা স্বামীর বাড়ি তিনি চাইলে আমৃত্যুর ঠিকানা বাড়ি আসলে কোনটি! কোন স্মৃতিতলানির সুখ পৌঁছে দেবে গুলতানির মেলায় গড়েতোলা মাটির ইমারতে ন স্থান, ন খোঁজ বাড়ি মাঝে মাঝে আত্মায় ঝলকে ওঠে দেওদানোর পুরা তাকতে বাড়ির জন্য বাড়ি ছাড়ি কিন্তু এ-ই টা তো নিজের বাড়ি! বড়ো চাচিআম্মা সুখপাঠ্য বইয়ের মত আমাদের শৈশবের বড়ো চাচিআম্মা ফুলগুটি খেলার মতই সতেজ, দুধভাতের সুঘ্রাণে মাখা মমতা যখন শৈশব হারিয়ে যায়, পিছুটানের পরোয়া থাকে না কতপথ চলে গেছে, দূরপথে কত গৃহত্যাগীর ছদ্মবেশ তবু আবুখালের হাঁটুজলে ভিজতে থাকে থোকা-থোকা শৈশব যখনই ছুঁতে যাই তাঁকে, বড়ো চাচিআম্মা উঠে আসেন তটস্থ বড়ো চাচিআম্মা কত যুগ ধরে দূরকে আপন করে নিয়েছেন আন্তর্জা...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। বিনয় রুংটা

ছবি
১৯৭৮ সালের ৭ এপ্রিল রূপকথার রাজকন্যার মতো সুন্দরী পুরুলিয়ার ঝালদাতে জন্মগ্রহণ করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্র শিল্পী বিনয় রুংটা। পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন গণিতে অনার্স সহ গ্ৰ্যাজুয়েশন শেষ করেন তিনি। তারপর বীমা উপদেষ্টার কাজে নিযুক্ত হন।              সম্পূর্ণ অপেশাদার ও স্বশিক্ষিত আলোকচিত্র শিল্পী বিনয় প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, বিশেষ করে ভূ-প্রকৃতির ছবি নিজের ক্যামেরায় ধরে রাখেন বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে।               তাঁর তোলা এক একটা ছবি তাঁর জন্ম-শহর ঝালদার চারপাশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জলজ্যান্ত উদাহরণ। তিনি প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে সবসময় সচেষ্ট থাকেন। এবং তার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর তোলা সুন্দর সুন্দর ছবিতে। অযথা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে মানুষকে সাবধান করে তুলতে না পারলে আমাদের সুন্দরী ভূ-প্রকৃতি খুব বেশিদিন সুন্দরী থাকবে না তা অন্তর থেকে অনুভব করেছেন তিনি। তাই প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীগুলো এমনভাবে ধরা দেয় তাঁর ক্যামেরায় যা দেখলে চোখ সরানো যায় না।                ২০০৩ সালে আলোকচিত্র জগতে পা রাখেন তিনি। তাঁর এই কাজে অনুপ্রেরণা জোগায় প...

তৃতীয় বর্ষ ।। প্রথম ওয়েব সংস্করণ ।। ১১ বৈশাখ ১৪২৯ ।। ২৫ এপ্রিল ২০২২

ছবি
দেখতে দেখতে তিন বছরে পা রাখলো আমাদের প্রিয় অরন্ধন ওয়েব পত্রিকা। করোনা মহামারীতে মানুষ যখন ব্যতিব্যস্ত, পরস্পর পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন, হয়ে উঠছিলেন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, ঠিক সেই সময় মানুষকে হৃদয়ের সঙ্গে জুড়ে রাখতে শুরু হয়েছিল অরন্ধনের ডিজিটাল অধ্যায়। যা আজও পাঠককুলের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। আজও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বন্ধনে সমানভাবে সহায়ক হয়ে আসছে। একজনের অনুভূতিগুলোকে অসংখ্য জনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে অনায়াসে।                ওয়েব মেগাজিনের বেশ কিছু অপরিপূর্ণতা রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম, সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অসুবিধা এবং নতুন কাগজের গন্ধ না পাওয়া। তথাপি এর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অতি সহজে দেশান্তর রেখা পেরিয়ে প্রিয় মানুষগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়া। আর যেকোনো সময় সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুবিধা পাওয়া।                 অরন্ধন ওয়েব ম্যাগাজিনের শুরু থেকে নতুন কবি-লেখকদের তুলে আনার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল তা আজ অনেকটাই সফল। এক্ষেত্রে হয়তো বেশ কিছু কাঁচা লেখা পাঠককুলের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন যে সকল মুখ উঠে এসেছে সকলের সম্মুখে সেইসব মুখের দিকে ...

ফজলুররহমান বাবুলের এক গুচ্ছ কবিতা

তুমি ছিলে ফুল, আমি পাতা ১ যদি ভুলে যাই মনে রেখো... পথের ওপর হারিয়ে তোমায় লিখছি আমি গান মনে রেখো স্বপ্ন ফেলে নীরব হল উলটো-প্রাণ। ২ আমরা সম্পাদনা করছি দিনলিপি আর সময়ের ভিতর পাখি ও প্রজাপতি উড়ে চলেছে... উড়ে চলেছে শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের রোদ বৃষ্টি হাওয়া উড়ে চলেছে  অন্ধ-স্বপ্ন দেখা কিংবা অদেখা আগুন  আমরা  লিখে চলেছি          প্রথম ক্ষুধা          শেষ কান্না।  ৩ তোমার মাহাত্ম্য বুঝলে  আমি কি বলতে পারি— চিতায় এসো? তোমার পথ আজও দেখি আমার পথের সমান দীর্ঘ  পথের ওপর সঙ্গী তুমি  চিতায় এসো— বিলিনি তোমাকে সঙ্গে আমার দিন ও রাতের গান  আলোয়— অন্ধকারে  সঙ্গে তুমি  তবু বলিনি চিতায় এসো।  ৪ কতদূর এসেছি— এই সমুদ্দুর                    এই হাওয়া  আর কতটুকু দেখেছি ঝড়? কতটুকু ভিজেছি চোখের জলে? পথে পথে  রোপণ করেছি স্বপ্নের চারা                                গানে গানে  কতদূর এসেছি আমরা  আর        ফেলে আসা স্বপ্নগুলো        কতটা হয়েছে বড়ো? সবুজ ও ধূসর উপত্যকা জুড়ে                 দেখতে দেখতে  আমরা এসেছি কোথায়?  ৫ তোমার চোখের আকাশ  দেখেছি  কত দুপুরে— সন্ধ্যায়... দেখেছি  তোমার চোখের ভিতরে আকাশ জ্বলে ওঠে        ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। তীর্থঙ্কর ওঝা

ছবি
১৯৮৭ সালের ৫ মার্চ পুরুলিয়া জেলার হুটমুড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তীর্থঙ্কর ওঝা। পিতার কর্মসুত্রের কারণে এবং তাঁর ( আলোকচিত্র শিল্পীর ) শিক্ষার জন্য একসময় তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে পুরুলিয়া শহরে চলে আসেন এবং তাঁকে ভর্তি করে দেন হোলি চাইল্ড স্কুলে। তারপর তিনি শিক্ষা গ্ৰহণ করেন পুরুলিয়া শহরেরই চিত্তরঞ্জন স্কুলে।                  স্কুলের গন্ডি পার হয়ে পুরুলিয়ার সুপরিচিত জে. কে. কলেজে ভর্তি হন কলা বিভাগে। এখান থেকেই গ্ৰ্যাজুয়েট হয়ে ওঠেন তিনি। তারপর পোস্ট গ্রাজুয়েট করেন ডিপ্লোমা ইন রুরাল ডেভেলপমেন্টের ওপর। বর্তমানে একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যুক্ত রয়েছেন।                     প্রথম দিকে একটা সময় ইউরো অরগানিক্স, ডিপিপিএল, এবং ইউফোরিকের  মতো ড্রাগ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তবে ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল অদম্য। আদ্য, মধ্য এবং পূর্ণ তিনটি পরিক্ষাতেই বেশ ভাল ফলও করেছিলেন। তারপর একটু একটু করে সরে গেলেন আঁকা থেকে। এখন আঁকা হলেও আর রঙ তুলিতে হয় না, হয় ক্যামেরাতে।                     ছবি তোলার হাতে খড়ি বাবার কাছে। কিন্তু ছবি তোলার জন্য ...