পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তৃতীয় বর্ষ ।। ষোড়শ ওয়েব সংস্করণ ।। ৪ অগ্ৰহায়ণ ১৪২৯ ।। ২১ নভেম্বর ২০২২

ছবি
নিজেকে শূন্য করে আমাদের ঘর ভরিয়ে তোলে ধানক্ষেত। আর ধানক্ষেতকে শূন্য করে আমাদের ঘর ভরিয়ে তুলি আমরা। ধানক্ষেতের সঙ্গে আমাদের ভাবনার এই ফারাক বিস্তর ভাবার বিষয় হলেও ভাবি না। গভীরভাবে ভেবে দেখি না আমরা। ভাই ভায়ের জন্য। মানুষ মানুষের জন্য ভাবলে সুন্দর হতে পারতো অনেককিছু। জীব জীবের জন্য ভাবলে পথ থাকতো অনেক। কিন্তু সব পথ অবরুদ্ধ আমাদের।    প্রাকৃতিক শিক্ষায় ব্যর্থ আমরা এক একটা পথ হারাতে হারাতে আবদ্ধ হয়ে উঠছি চার দেওয়ালের মাঝে।             কোথায় কি দিল ধানক্ষেত------ জানি না। কোথায় কি দিল বেড়ার ধারের পুরোনো গাছটা------ জানি না। কবে কি দিল চালের টং-এ থাকা পায়রাগুলো------- জানি না। জানার চেষ্টা করি না। তাই শুনতেই পাই না পায়রার বকম বকম। দেখতেই পাই না পাকা ধানের ঝরে যাওয়া। বুঝতেই পারি না নিজের এক একটা অঙ্গ শুকিয়ে শুকিয়ে রান্নার কাঠ দিয়ে গেল বেড়ার ধারের গাছটা।  উত্তম মাহাত, সম্পাদক               ______________________________________________ যাঁদের লেখায় সমৃদ্ধ হলো এই সংস্করণ ______________________________________________ নীতা রায় / বিশ্বম্ভর নারায়ণ দেব / শ্রী...

শ্রীসদনে দৈনন্দিন – ১ / মধুপর্ণা

ছবি
শ্রীসদনে দৈনন্দিন – ১ মধুপর্ণা এক আশ্চর্য বিকেলে একটা ট্রাঙ্ক, একটা তোষক, বালিশ সমেত শ্রীসদনে রেখে গিয়েছিল মা। মেইন ব্লক ডর্মেটরি, তাতে আটজনের থাকার ব্যবস্থা। জানলার পাশে বেড, একটা টেবিল, একটা জিনিসপত্রের তাক আর একটা তক্তা। একটা নিজস্ব ছোট জগত ক্রমে ঘনিয়ে উঠেছিল এই অল্প জায়গায়। জানলার ওপারে চালতা গাছ, তাতে বিকেল হলে অজস্র টিয়া পাখি উড়ে বেড়ায়। রত্নাদি আর কুমকুমদির তত্ত্বাবধানে প্রত্যেকে আদৃত বোধ করে ঘরের বাইরে এসেও। সঙ্গে ফোন রাখার নিয়ম নেই। ওয়েটিং রুমে একটা ল্যান্ড ফোন সেখানে বাড়ি থেকে ফোন এলে মাসিরা ডেকে দিতেন তাতে পাঁচ-ছয় মিনিট কথা। বাথরুমে বালতি পেতে স্নানের জন্য লাইন দিতে হয় উত্তর শিক্ষা থেকে ফিরে৷ সেই নিয়ে বিস্তর হুল্লোড়।এইসব দৃশ্য গুলো, সময়ের ছোট ছোট ভগ্নাংশ মাথার ভিতর,মনের ভিতর ঘোরে। ঘুরতে থাকে কিন্তু ফুরোয় না। অ-শেষ একটি রিলের মত দৃশ্য গুলো একের পর এক। মানসভ্রমণ হয়। সেই উঁচু সিঁড়ি গুলো বেয়ে, বারান্দা পেরিয়ে, সিনিয়রদের 'গ্লিটারিং গার্লস' লিখে রেখে যাওয়া দরজা পেরিয়ে শ্রীসদনের ডর্মেটরির সেই বেডে কতদিন চুপ করে বসে থাকি। তুলসী মাসীর কণ্ঠ শুনতে পাই, ...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। মুকেশ কুমার মাহাত

ছবি
২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি পুরুলিয়া জেলার বাগমুন্ডী থানার পাহাড়তলি ধনুডি এলাকার খুদুডি গ্ৰামে জন্মগ্ৰহণ করেন আলোকচিত্র শিল্পী মুকেশ কুমার মাহাত। প্রত্যন্ত এই গ্ৰামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম এই আলোকচিত্র শিল্পীর। পিতার নাম শৈলেশ্বর মাহাত। সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয় থেকে বাল্যকালের শিক্ষা গ্ৰহণ করার পর পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মূ আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন মাধ্যমিক। এরপর বলরামপুর কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট হন তিনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি নির্ধারণের অযোগ্যতার ফলে কর্মসংস্থানে বেহাল দশা তৈরি হয়। যার ফলে সেইভাবে কোনো কাজ জোটাতে পারেননি তিনি।            একদিকে সাংসারিক প্রতিবন্ধকতা অন্যদিকে কর্মহীনতা, বাধ্য হয়েই সিকিউরিটি সুপারভাইজারের কাজ নিয়ে কখনো জয়পুর তো কখনো ওড়িশ্যাতে যেতে হয় তাঁকে। তার সাথে সাথেই চলতে থাকে ছবি তোলার কাজ।              তিনি জানান ------ পেশাদার আলোকচিত্র শিল্পী নন তিনি। ভালোবাসার খাতিরেই ছবি তোলেন। বিভিন্ন ধরনের ছবি তুললেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীট পতঙ্গের ছবি তুলতে বিশেষ পছন্দ করেন।             আলোকচিত্র শিল্পের যাত্রাপথে আজ পর্যন্ত কোনো পেশা...

তৃতীয় বর্ষ ।। পঞ্চদশ ওয়েব সংস্করণ ।। ২০ কার্তিক ১৪২৯ ।। ৭ নভেম্বর ২০২২

ছবি
ইঁদুরের সাত রানি। অনেক ছা-পোনা। পাড়া-প্রতিবেশীর আসা-যাওয়া। একটা সময় অব্দি সব যেন একাত্মার সম্পর্ক নিয়ে বেঁচে থাকা। সেটা ধান পাকার সময়। চাষির ধান নিয়ে এসে নিজের গর্তে সঞ্চয় করে রাখার মুহূর্ত। তখন চাষি না যেন ইঁদুরই প্রকৃত চাষি। চাষির ধান শীষের উপর নিজের নাম লিখে সযত্নে বিলোতে থাকে ইঁদুর। এই নাও দু টাকা করে। এই নাও ফ্রি। নিজের আশপাশে প্রতিবেশীদের ঘোরাতে, তাদের স্ত্রীদেরকেও দিতে থাকে কিছু কিছু। তাদের আমোদ প্রমোদের জন্যও দিতে থাকে কিছু কিছু। এভাবেই চলতে থাকে আনন্দে। দিন পেরিয়ে যায়, মাস পেরিয়ে যায়, দেখতে দেখতে চলে আসে পাতা ঝরার ঋতু। টান পড়ে ইঁদুরের গর্তে থাকা সঞ্চয়ে।    এবার পরীক্ষা ইঁদুরের প্রতিবেশীদের। এবার পরীক্ষা সাত রানির। এবার পরীক্ষা ইঁদুরেরও। ইঁদুরের সঞ্চয় শূন্য হলে কে থাকে সাথে?             কোষাগার শূন্য হলে রাজাকে রাজা বলে মানে না কেউ। একে একে কেটে পড়ে মন্ত্রী। একে একে কেটে পড়ে রানিরা। সবশেষে কেটে পড়ে প্রজা।               রাজা হওয়ার আগে ভাবো, কোন খাতে কতটুকু দিলে স্বচ্ছন্দে থেকে যাবে সাত রানি। স্বচ্ছন্দে থেকে তোমার সাথেই। হে ইঁদুর, খাবে খাও, বিলোবে বিলোও,...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। শুভাশিস গুহ নিয়োগী

ছবি
অনিকেতের বন্ধুদের মধ্যে এক অন্যতম ঘনিষ্ঠজন হলেন আলোক চিত্রশিল্পী শুভাশিস গুহ নিয়োগী মহাশয়। তাঁর আলোকচিত্রের পর্বে পর্বে আমরা যে অপার আনন্দের সন্ধান পেয়ে থাকি তা অতুলনীয়। বাঁধভাঙ্গা এই রসধারাকে অবিচ্ছিন্ন রাখার তাগিদে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গাতে ক্যামেরা হাতে ছুটে বেড়ান তিনি। ক্যামেরার লেন্সে নিয়ে আসেন অমৃত ধারা। শিক্ষকতা এবং অন্যান্য সামাজিক কাজকর্মের মাঝেই ২০১০ সাল থেকে চেপে বসে এই নেশা। অর্থাৎ ছবি তোলার নেশা। সেই থেকেই হাতে খড়ি এই জগতে। তারপর ক্রমে ক্রমে পৌঁছে যান উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে। ২০১৫ সালে পশ্চিম বঙ্গ সরকারের বিশেষ পুরস্কার পান ফটোগ্রাফিতে। সেই ছবিতে উঠে এসেছিল পুরুলিয়া জেলার গ্রামীণ জীবন।          গগনেন্দ্র প্রদর্শশালা, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন প্রভৃতি বেশ কিছু স্থানে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর ছবি। সর্বোপরি ওঁর ক্যামেরা কথা বলে। সাটার টিপে তুলে আনেন অসাধারণ সব মুহূর্ত। ক্যামেরার লেন্স দিয়ে ছবি আঁকেন বিচিত্র ভাবনায়।           এবারের সংস্করণে পুরুলিয়ার গ্ৰামীণ জীবন ধারারই বেশ কিছু ছবি তুলে ধরা হলো আপনাদের কাছে। আশা করি ওঁর এই ছবি আনন্দ দিতে সক্ষম হবে আপনাদের। ...