পোস্টগুলি

শাক্তপদে পারিবারিক সমাজজীবন

ছবি
শাক্তপদে পারিবারিক সমাজজীবন                                                       তপন পাত্র                             বাংলার কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর "আমরা" কবিতায় বলেছেন ---            "দেবতারে  মোরা আত্মীয় জানি,              আকাশে প্রদীপ জ্বালি,             আমাদের এই কুটীরে দেখেছি ,              মানুষের ঠাকুরালি।"                          কথাটি বাঙালি পরিবারে এবং এই বাংলার সমাজ জীবনে সর্বাংশে সত্য । কেননা বাংলার আকাশ , বাতাস , মাঠ-ঘাট-প্রান্তর ,  কুটীর ,  রাজপথ সাধনার ধন প্রাণের দেবদেবীকে কল্পরাজ্যের স্বর্গে থাকতে দেয় নি , নামিয়ে এনেছে ধুলো ধূসরিত মর্ত্যের ধুলায় । তাই বাংলার সমস্ত ধর্মীয় সাহিত্যের মতো শাক্ত সংগীতেও সমসাময়িক পারিবারিক জীবন তথা সমাজ জীবন তথা মাতা-কন্যার সম্পর্কের বা বাৎসল্য রসের বিশেষ ছায়াপাত আমরা সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করি ।                         শাক্ত পদাবলীর "লীলা" অংশে অর্থাৎ "বাল্যলীলা", "আগমনী" এবং "বিজয়া"র পদগুলিতে বাংলা সুপরিচিত সাংসারিক আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে । পারিবারিক সমাজ জীবনের ছবি রয...

ডরোথী দাশ বিশ্বাসের এক গুচ্ছ কবিতা

ছবি
ডরোথী দাশ বিশ্বাসের এক গুচ্ছ কবিতা ১. নেই পিছুটান... আকাশ বনানী জল মাটির সংসার, দিঘল দিনমান, দিগন্ত ডোবে না ... পত্রহীনা শীর্ণ শাখা, তবু স্থিতিস্থাপক, কে ঐ দোলায় বসে বোনে স্বপ্নজাল ? নেই এখানে ঝরাপাতার ফিসফাস, জাদুমন্ত্রে কোলাহলও পোষ মেনেছে, বলাকার কাছে শেখা এ বিরল ধ্যান, মুক্ত এ প্রকৃতিও রচে অন্তরাল। মুক্ত মন এই উদার আকাশে ছড়িয়ে দেয় যত নিরুদ্ধ বিষাদ, নীল জলে স্পন্দিত বেদনা যত ভাসিয়ে আনে রোজ চন্দনসকাল। ২. এক ছিলো শৈশব... এক ছিলো শৈশব, ভীষণ রঙীন! আপন মনেতে তার কাটে সারাদিন। সারাদিন ঘরে বসে ভালো তো লাগে না, মেঘ এসে জানালায় কেন ধরা দেয় না! কিভাবে যে কেটে যায় ভাদ্রের বেলা, মেঘ আর রোদ্দুরে লুকোচুরি খেলা। বৃষ্টি এলো যেই নিবিড়ধারায় - শিশুটির মন আর ঘরেতে না রয়। গাছের গুঁড়িটি পড়ে আছে যেখানে বৃষ্টিতে মাখতে সে আসে সেখানে আকাশের পাখি নয়, আছে পোষ মানা, শিশুটির পায়ে পায়ে ঘোরে দুটি ছানা। ঝুম ঝুম বর্ষাতে হাওয়া অবিরল, কচুপাতা ছাতাতে শিমুল তুলোর বল। শিশু ভেজে রিমঝিম জলীয় রেখায় মানবিক হতে তারে কে বলো শেখায় ? ৩. চৌখাম্বা... হে মৌনী পর্বতস্তুপ, গঙ্গোত্রী শিখরে, পাথরের মঞ্চ যেন দিগন্ত বি...

প্রত্নযাত্রার জীবনানন্দ: প্রসঙ্গ অগ্রন্থিত কবিতা

প্রত্নযাত্রার জীবনানন্দ : প্রসঙ্গ অগ্ৰন্থিত কবিতা শিমুল আজাদ 'এই কবিতাগুলির পরিবেশ প্রকৃতি অনেক বেশি ছড়ানো, প্রাথমিক স্তরগুলির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।' -এ যাবত জীবনানন্দ দাশের সব কটি কাব্যগ্রন্থের কম-বেশি আলোচনা ও মূল্যায়ন হয়েছে। অপ্রকাশিত লেখার উল্লেখযোগ্য মূল্যায়ন হয় নি। প্রকাশিত লেখার পাশাপাশি অপ্রকাশিত লেখার মূল্যায়ন বা আলোচনা ভিন্ন স্বাদ ও বৈচিত্র্যের দাবি রাখে। -এক্ষেত্রে কবি জীবনানন্দ দাশের ৪০টি অপ্রকাশিত কবিতা তাঁর অন্যান্য কবিতার মতো সমৃদ্ধ-সন্তাপে উষ্ণতা ছড়ায়। মহাকবিতার আলোড়ন টের পাওয়া যায়। সৃষ্টির রূপ-বৈচিত্র্য বৈভবে- মানবাত্মার জয়-পরাজয়-তৃষ্ণা, হাহাকার-আকুতি-প্রচেষ্টা কর্মময় উদ্ভাস জেগে ওঠে। পৃথিবীর রঙ-গন্ধ-বিভা-আলোড়নে আলোড়িত, প্রাণিত কন্ঠস্বর, গন্ধগাথা ঐতিহাসিক রূপ-নির্মাণে- ব্যক্তির সামষ্টিক পদযাত্রা ধ্বনিত হয়। কবি প্রত্নরাখালের মতো সভ্যতা- সংস্কৃতির আদি- অকৃত্রিম সত্তায় ডুব দেন; অন্বেষণ করেন প্রকৃতির রূপ-রীতি, কাঠামো, পরকাঠামো। হাতড়ে ফেরেন নক্ষত্র-চাঁদ-আকাশ-নদী-পাহাড়-মানুষ-বৃক্ষসারি; একস্থান থেকে আর একস্থান, এক বন্দর থেকে আরেক বন্দর, এক সমুদ্র থেকে সাত সমুদ্র...

তৈমুর খান এর গুচ্ছ কবিতা

ছবি
তৈমুর খানের গুচ্ছ কবিতা বিক্রিয়া সব বিস্ময়গুলি এখন তোমার জলাশয়ে মৎস্য সব কল্পনাগুলি এখন তোমার আকাশের চাঁদ সব উপলব্ধিগুলি এখন তোমার বাগানের ফুল ফল আমি বেড়াতে আসা পাখি বাংলা ভাষার ঠোঁটে ঠুঁকরে ঠুঁকরে দেখি  স্বাদ-বিষাদের আদিম রসায়ন চিকন মাজা ডুবিয়ে দাও জলে মাজার নিচে খাঁজ আমার আত্মহত্যা লুকিয়ে আছে ওখানেই জলের উপর চাঁদের ছায়া ভেসে ওঠে পরকীয় সমাজ দ্বিতীয় বিবাহ মিছিল এগিয়ে চলেছে শুধু রথতলায় থেমে আছে কাহিনি কাহিনির উল্টোদিকে আমাদের বাজার বাজারে পতাকা উড়ছে নবীনে-প্রবীণে সম্মোহন কিনছে রোজ আহা যুবতী সম্মোহনের খোলা পোশাক সমস্ত শরীরময় কুশলী ইঙ্গিত মিছিল      রথতলা         কাহিনি               বাজার সবাই ঝুঁকে আছে দ্বিতীয় বিবাহের দিকে রসগোল্লা   যেখানে কামড়াচ্ছি রস গড়িয়ে আসছে ইন্দ্রিয় অথবা মস্তিষ্ক,ধারণা অথবা স্বপ্ন এখন আমি রসের দোকানদার তার সঙ্গে কাহিনিও বিক্রি হয় কী সুন্দর এই দোকান মাছি আর পিঁপড়েরাও প্রেমে পড়ে চেটে চেটে খেয়ে যায় রস আমিও মানুষ থাকি নাকি! পাকে পড়া রসগোল্লা হই কাচের জানালায় চেয়ে থাকি আর স্মৃতিরসে হাবুডুবু খাই… বিক্ষিপ্ত    মেয়ের নাম জোনাক ইচ্ছার নাম পবিত্র...

গ্রামীণ যাত্রাশিল্প _সংকট ও সংশয়ের দোলাচল

ছবি
গ্ৰামীণ যাত্রাশিল্প__সঙ্কট ও সংশয়ের দোলাচল                                সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় 'তফাৎ যাও, তফাৎ যাও, সব ঝুট হ্যায় '_মেহের আলীর এই সংলাপে গ্রাম-গ্রামান্তরে রঙ্গমঞ্চ আজ আর সেভাবে আলোড়িত হয়ে ওঠে না। 'অচল পয়সা'র চাঁদু মাস্টারের প্রতিবাদ সেভাবে আর ভাষা খুঁজে  পায় না।প্রচারের আড়ালে-আবডালে ভিখারী ঈশ্বর হাহাকার করে কেঁদে উঠলেও,সে কান্না হাইটেক শ্রোতাদের কানে ধ্বনিত হয় না। একে একে নিভে যাচ্ছে স্পটলাইট। থেমে যাচ্ছে আবহসংগীত। অন্ধকার মঞ্চের এক কোণে দাঁড়িয়ে একা একা রং তুলছে চরিত্র। এক গভীর সংকট ও সংশয়ের দোলাচলে আজ গ্রামীন যাত্রা শিল্প। গ্রামীণ শব্দটা অর্থের সংকোচন ঘটালেও ইচ্ছা করেই ব্যবহার করা হয়েছে। আসলে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিত হল অ্যামেচার বা শখের থিয়েটার। পরিসরের অভাবে শুধুমাত্র গ্রামীণ যাত্রার কথাই  যদি উঠে আসে ক্ষতি কী? এমনিতেও প্রচলিত অর্থে গ্রামের সাথে কোথাও যেন যাত্রা শব্দটা জড়িয়ে আছে। পালা গান, রামায়ণ পাঠ, কথকতা, কবিগান _সবই যেন ধীরে ধীরে অবলুপ্তির দিকে পা বাড়াচ্ছে। কেন এই সংকট? কেনই বা এত দোলাচল? উত্তর খুঁজতে যাওয়াটা হয়তো বা বাতুলতা।  সময়ের দু...

জলশ্যাওলার বিরহকথা

ছবি
জলশ্যাওলার বিরহকথা দীপংকর রায় ৩য় পর্ব লেখা প্রসঙ্গে লেখার অন্তর্যামীর প্রশ্ন :         কী ঢ্যামনা লেখক, কি হচ্ছে টা কি, ঢ্যামনামি আরম্ভ করলে তো? এতক্ষণ তো বেশ ছিলে, বেশ তো এপাশ ওপাশ করছিলে, মরা দিনের কথা নিয়ে একটা গল্প বানানোর বাঁধা রেওয়াজের মধ্যেই ঘুরছিলে বেশ, কিন্তু এসব আবার কি আরম্ভ করলে বলো তো? বেশ তো পুচকেপাচকা শালা-শালিগুলোকে নিয়ে রসের গল্প বানাতে গিয়ে বুঝি মনে পড়ে গেল, না----- তাদের ওই অবিবাহিত মাসিটার কথা-----, ওই যে গায়, পেয়ে গেছ বুঝি? গায় যদিও সত্যিই ভালো, কিন্তু তাতে হল টা কি ? সেই তো ধরে রাখতে পারে না-- একটুতেই মুষড়ে পড়ে বিয়ের চিন্তায় । তোমার প্রশ্ন জাগে না, ওর এইসব অনিশ্চয়তা বোধ নিয়ে? শিল্পী মন এত সংসারমুখিন হবে কেন? টোকা দিয়ে দেখনি তা তো না , দেখেছ , কিছুই ছাড়নি । সে পরীক্ষাতেও তো তোমার কত বর্ষা , গ্রীষ্মের দুপুর, শীতের বিকেল-সন্ধ্যা করে দেখা আছে। শুনেছ তার একে একে কত পর্ব-কথা! কী সমাধানে এসেছ তাতে; আসনি কি, এই একাকীত্ব বোধ, এই লম্বা টানা বারান্দাওয়ালা বাড়িটার চারপাশে ঘের দেওয়া পাঁচিলের ভেতরে, বাড়ির পেছনের পুকুরের পাড়ে, কীভাবে একটি কলেজ-ইউনিভার্সিটি করা মেয়ে, ঘরে বসে বস...