পোস্টগুলি

সুরজিৎ পোদ্দারের কবিতা

ছবি
নতুন বিপদসীমা ১. শহর থেকে দূরে যেতে যেতে ক্রমশ বদলাতে চাইছিলাম জল আলো আকাশ: আমাকে ঘিরে রেখেছে যারা আদতে যাদের চারিদিকে ঘুরছি আমি একটা সৌরমণ্ডল অতিক্রম করে আকাশের অন্যদিকে যেতে যেতে বলছিলাম, "একা থাকতে চাই একদম একা" যদিও প্রতিটি স্বমেহন আদতে সঙ্গম বাসনা শহর থেকে দূরে যেতে যেতে সীতার মতো শুধু শহরের কথাই ভাবছিলাম একা সঙ্গে ছিল জল আলো আকাশ ২. শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ছিল না তাই সে আঁধারে তোমার রং বুঝতে পারিনি আমাদের মোলাকাত হল ঘন ধোঁয়ায়, মৌতাতে শব্দহীন এক জগৎ তখন বাস্তব শুধুমাত্র বিড়ির আগুন ঘন হচ্ছে মাঝে মাঝে আকাশ থেকে ঝুলে আছে স্লেটপাথরের মেঘ তাতে আঁকিবুঁকি কাটছ তুমি নতুন কোনো অক্ষরের জন্ম হচ্ছে নতুন কিছু জন্মাচ্ছে নতুন কিছু নতুন বিড়ির আগুন নিভে নিভে জ্বলে উঠছে... ৩. তোমাদের গ্রাম ঝুলে আছে পাহাড়ের বুকে তোমাদের বাড়ি ঝুলে আছে তুমি ঝুলে আছো বারান্দা থেকে আমি ঝুলে আছি ঐ চোয়ালে এখন দিন বিদ্যুৎ নেই, তবু আমাদের চিনে নিতে সময় লাগল সারাবেলা একে অপরের আবরণ অতিক্রম করে নিঃশ্বাস-- শব্দ হল নতুন করে তুমি ঝুলে আছো সহস্রারে তোমাদের গ্রাম বারান্দা বাড়ি সব ঝুলে আছে আমি ঝুলে আছি ঐ চোয়ালে ৪. গ্...

তৃতীয় বর্ষ ।। ষষ্ঠ ওয়েব সংস্করণ ।। ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ ।। ৪ জুলাই ২০২২

ছবি
শিক্ষার স্তম্ভকে ভেঙে ফেলায় যখন সরকারের পরিকল্পিত লক্ষ্য তখন স্কুলে ছাত্রশিক্ষক অনুপাত ঠিক থাকবে এমনটা ভাবা নেহাতই মুর্খামি। বরং কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা একেবারেই থাকবেন না সেটাই স্বাভাবিক। কারণে অকারণে বন্ধ করে দেওয়া স্কুল খোলার চেষ্টাতেও একটা রহস্যময়তা একটা ধোঁয়াশা থাকবে। স্কুল খোলার থেকে স্কুল না খোলার চেষ্টাটাই বেশি করে পরিলক্ষিত হবে এই অবস্থাতে।            এর পিছনে যাঁরা সবথেকে বেশি দায়ী তাঁরা হলেন এখানকার জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জিতিয়ে আনা সাধারণ মানুষ। এঁরা এমন একদল বানরের গলায় মুক্তোর মালা পরিয়ে দেন যারা মুক্তোর মুল্য বোঝে না। তাই যেন তেন প্রকারেন আমাদের উপর ছড়ি ঘোরানোর লক্ষ্যে জাতির মেরুদণ্ড সোজা করার মূল অস্ত্র শিক্ষাকে ধ্বংস করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।           "এগিয়ে বাংলা" শ্লোগান একটা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। যখন কোনো জাতি সত্যি সত্যিই এগোই তখন তার শ্লোগানের দরকার পড়ে না। বারবার শ্লোগানের দরকার পড়া থেকেই বোঝা যায় বাংলা আসলে পিছিয়ে। বাংলা আর সেই জায়গায় নেই। বাংলা তার অতীত গৌরবকে ধরে রাখতে পারেনি। আর এর জন্য দায়ী এই বাংলার নীতি নির্ধারক শাসকদল...

তৃতীয় বর্ষ ।। পঞ্চম ওয়েব সংস্করণ ।। ৫ আষাঢ় ১৪২৯ ।। ২০ জুন ২০২২

ছবি
সস্তার ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু হওয়ার পর কি গ্ৰাম কি শহর প্রতিটি জায়গার প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে এন্ড্রয়েড মোবাইল। সেই মোবাইলের মাধ্যমে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় পাওয়া। আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে অবাধ যাতায়াত। এবং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে প্রায়শই কিছু কিছু বিষয়কে নানাভাবে ফরওয়ার্ড করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তার বিষয়বস্তু পড়ে, কখনো সম্পূর্ণ না পড়েও ফরওয়ার্ড করে থাকেন অনেকানেক মানুষ। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সুস্থ জীবনকে ব্যস্ত করে তোলার কারণ হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট।            সামনের দু'লাইন পড়ে বা পোষ্টের ছবি দেখেই আমরা বিষয়টা অনুধাবন করে ওঠার ক্ষমতা রাখি না। সে বিষয়টা কতখানি সত্য বা মিথ্যা তাও বিচার করে দেখি না কখনো। অথচ ওই দু' লাইন পড়েই আন্দাজ করে নিই সেটা আমার পছন্দের বিষয় যা আমি চাই। সেটা কোনো প্রতিবাদী, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, যেকোনো বিষয় হতে পারে। ফরওয়ার্ড করে দিই। অথচ একটুও ভেবে দেখি না, সেটা আমার জীবনের ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে কিনা।                 আমাদের জীবনযাত্রা যেভাবে জটিল হয়ে উঠছে, চারপাশে যেভাবে সোনার হরিণ ছুটিয...

পুস্তক আলোচনা

ছবি
পাঠ অভিজ্ঞতা দু ' এক কণা শৈশব / দেবাশিস সাহা 'চিন্তা' প্রকাশন প্রকাশিত " দু' এক কনা শৈশব"। কবি দেবাশিস সাহার আত্মজীবনীমূলক শৈশব স্মৃতিচারণার ফসল এটি। বইটির প্রচ্ছদ অসাধারণ। হলুদ নীল কালো লাল রঙের সমাবেশে- অঙ্কনে শৈশবের হাসিকান্নার রূপময়তাকে শৈল্পিক দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অয়ন চৌধুরীর অসংখ্য প্রশংসা প্রাপ্য। মুদ্রণ বিন্যাস বোর্ডবাঁধাই সবকিছুই দৃষ্টিনন্দন। বইটি পড়তে পড়তে চোখের সামনে শৈশবের রামধনু জেগে ওঠে। স্মৃতির আলপথ ধরে পৌঁছে দেয় ফেলে আসা শৈশবের বুকে। এটি একান্ত ভাবে কবি দেবাশিস সাহার শৈশবের স্মৃতিমেদুর আলেখ্য হলেও--ছেলেবেলার জলতরঙ্গ সুরেলা হয়ে বেজে ওঠে বইটির নিবিষ্ট পাঠকের মনে। ঘুড়ি ওড়ানো, জোনাকি দিয়ে টর্চ বানানোর চেষ্টা এমনি আরো অনেক কিছু হয়ে উঠেছে শৈশব স্বপ্নের চিরকালীন গাথা। বস্তুত: এ বইটি লেখার তাগিদ ও আন্তর প্রেরণাটি ব্যক্ত হয়েছে অনুপম ভাষায়-- " প্রায় অর্ধশতাব্দী হতে চলল, এদের আমি ছেড়ে এসেছি। দু-একজন ছাড়া এদের কারো সঙ্গে কখনো আর দেখা হয়নি। তারা সকলেই রয়ে গেছে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে। কিন্তু আমার শৈশব-স্মৃতির মধ্যে কোথাও তো...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। মোহন পরামানিক

ছবি
আলোকচিত্র শিল্পী মোহন পরামানিকের জন্ম - ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। পেশাতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে মালদাতে কর্মরত। পুরুলিয়া শহরের রেনী রোডে দেবী মেলার কাছে নিজের বাসা। তবে আলোকচিত্র শিল্পীর জন্মস্থান পুরুলিয়া শহর নয়। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এই জেলারই অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত আখ চাষের জন্য সুপরিচিত সিরকাবাদ গ্ৰামে। তাই ছোট বেলা থেকেই প্রকৃতির অপার বিস্ময় মাখা সৌন্দর্যকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই পাহাড় ও নদীর কোলে বড় হয়েছেন তিনি। ছবির প্রতি তাঁর আকর্ষণ শুরু হয় ছোটবেলায় ছবি আঁকার মাধ্যমে। তারপর স্কুলে পড়াশোনাকালীন স্কুলের এক শিক্ষকের ছবি তোলা দেখে আকর্ষণ জন্মায় ছবি তোলার প্রতি। প্রথম অবস্থায় বাড়িতে Kodak - র একটি রিল ক্যামেরা ছিল তাঁর। তারপর আসে Sony - র একটি কুলপিক্স। কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি ও প্রকৃতির ছবি তুলতে থাকেন তিনি। তারপর যখন ছবি তোলার জন্য ঘুরে বেড়াতে লাগলেন তখন হঠাৎ করে পুরুলিয়া জেলার মানুষের জীবন যাপন, তাদের বিভিন্ন পরব ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রেমে পড়েন। কলেজ জীবনে টিউশন পড়াতেন তিনি, সেই টাকা জমিয়েই...