পোস্টগুলি

কবিতা, দীপান্বিতা সরকার

ছবি
সন্ধ্যাতপ দীপান্বিতা সরকার অস্তোন্মুখ কোন পথ ধরে এলে শিমুল, পলাশ, কুসুমের দিন? পাহাড়তলির পাথরে প্রান্তরে আজও কত ঘুম লেগে আছে৷ একা হাঁটি একা ছুঁই দু'ধারে শাল পিয়ালের জঙ্গল৷ ডাল কলমীর ফুল আত্মজা যেন, জড়িয়ে ধরেছে দুই চোখ। জলের শরীরে জল, শুধু আত্মরতি ওই পায়ে। উঠেছি পাহাড়চূড়োয় আবার আবার, দেখেছি সন্ধ্যাতপ, টুপটুপ মহুয়া ফুলের ঝরে পড়া। সব গান ভেসে গেল পাহাড়ের মেঘে, বনান্তরেখায়, শান্ত মুরুগুমা... মূল পাতায় যান 

গদ্য, ডরোথী দাশ বিশ্বাস

ছবি
বিশ্ব ক্ষুধা দিবস ডরোথী দাশ বিশ্বাস ক্ষুধা!!! পেটের ক্ষুধা, দেহের ক্ষুধা, মনের ক্ষুধা, জ্ঞানের ক্ষুধা--- কত রকম ক্ষুধা! পেটে নেই ভাত, লেখালেখিতে কাবার হয় রাত! পেটে নেই খাদ্য, তবু পড়তেই হবে পদ্য, লিখতেই হবে গদ্য, হবে না সে গুরুজনের কথার অবাধ্য। মেটে নি, মেটে নি ক্ষুধা অপলক চোখে,      চেয়েছি, মেনেছি হার। আজ লিখবোই, কিছু লিখতেই হবে-        এটুকু বুঝেছি সার। আদুরে আলতো কথা- যাক্ সব         যাক্ ভেসে ভেসে- যা কিছু দুষ্প্রাপ্য সুখ- পাই যদি তা         কুড়িয়ে নিই হেসে হেসে। রোদ-বৃষ্টি-খেলা- সব শেষ হল,        হিমঝরা ভোরের হাওয়া ঝিরঝির কম্পন প্রশাখায়        শ্লথ হয় আসা যাওয়া। চূর্ণ চূর্ণ চিন্তা, মাঝে দীর্ঘ বিরতি,         সময়ের অপব্যয়, উড়ে এসে জুড়ে বসা স্বরের সঙ্গতি-          এ কে কি কবিতা কয়? তবু খুঁজি ...

গদ্য, ময়ূখ দত্ত

ছবি
ডাইরীর ছেঁড়া পাতা ময়ূখ দত্ত তেল ও গ্যাস প্রোজেক্টে কাজ করি, তাই প্রতি পদে তেল বা গ্যাস লিক হয়ে দূর্ঘটনা ঘটলে যে বিরাট রিস্ক থাকে, সেসব নিয়ে প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সতর্কতার মধ্যে একটা খুব সাধারণ ব্যাপার হল - যেখানেই কন্সট্র‍্যাকশন এর রিস্ক আছে (যেমন ধরা যাক কোনো ফাউন্ডেশন করার জন্য মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে, লোকের পড়ে যাওয়ার ভয় আছে বা মাটি ধ্বসে যাওয়ার ভয় আছে..) সে জায়গা গুলো লাল-সাদা টেপ / দড়ি দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, যাতে সবাই বুঝতে পারে এটা বিপজ্জনক জায়গা, সাবধানে চলাফেরা করতে হবে... আজ সাইটে কাজের তদারকিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, কিছু শ্রমিক বস্তা ভর্তি বালি কাঁধে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ প্রচন্ড চ্যাঁচামেচি শুনলাম - একটা বাচ্চা সাপ নাকি কোনো একটা বালির বস্তার ভেতরে ঠান্ডায় আরাম করে ঘুমাচ্ছিল, শ্রমিকদের কাজের জন্য বাইরে বেরিয়ে এসেছে!!....তারপরে আমাদের সেফটি অফিসার এসে ওই বালির বস্তার স্তুপটার চারদিক লাল-সাদা টেপ দিয়ে ঘিরে দিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম "এইভাবে বালির বস্তার স্তুপ একটা টেপ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার মানে কি? "না, মানে ওই বাচ্চা সাপটা সবার চ্যাঁচামেচিতে ভয় প...

কবিতা, অঙ্কন রায়

ছবি
শৈশবে ফিরে যেতে চাই অঙ্কন রায় এখন মধ্যদিন, জানলায় একা বসে ভাবি আর তো কিছুটা পরে বাগান ঢাকবে মেঘছায়া আঁধার নামার মুখে পাখিরা কুলায় ফিরে গেলে আমার বিজন ঘরে তখনও থাকবে ঘিরে মায়া? হঠাৎ উজান স্রোতে ভেসে যাই মনতরী বেয়ে ফিরে পেতে ভালো লাগে অনাবিল সেই শৈশব যখন সকালবেলা সূর্যের আলো মেখে গায়ে প্রাণের বাগানে ঘুরে গান গাই যত সই, সব। সেই সব দিনগুলো কোথায় যে হারিয়ে ফেলেছি যখন স্বপ্নে পাওয়া পাহাড়ের চূড়া করি জয় এখন মধ্যদিনে ছোটবেলা তাড়া ক'রে আসে সাঁঝবাতি জ্বললেও মনে থাকে আঁধারের ভয়।। মূল পাতায় যান 

কবিতা, দেবাশীষ সরখেল

ছবি
ওগো ছায়াময় দেবাশীষ সরখেল মন্দিরে হবে আরতি ধূপ ধুনো আর কি । নীরবতার ভেতর বাজে ঠাকুর মহিমা। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখো । এখানেও পরিত্রাণ নেই চুরি হয় নির্জনতা একদিন জনগর্জন আলোক ময়তার কথা বলে অনেক অনেক পথ পেরিয়ে আলো শ্রীজ্ঞান দীপঙ্কর অনেক খননের পর জল শীতলতা । ছায়া ছায়াময় গাছ একদিন নাকি ছায়া হাসতো অকারণে হত বজ্রপাত এখানে বাতাস ,নিশুতি বাঁধগাভা তোমাকে চাইছে ছায়াময় । অদৃশ্য ছায়াময় হয়তো বা বসে আছে                                   নিজের ছায়ায় । মূল পাতায় যান 

কবিতা, নূপুর রায়

ছবি
বোবাকালা হও নূপুর রায় (রিনঝিন) দর্শক নীরবতা ভেঙে দিও না বোবাকালা হও ভীমরুল হুল ফোঁটাক শরীরজুড়ে টু-শব্দ ক'রোনা ব্যথা পেলেও ! তালিবানি শাসনের দরবার হোক শহরে গ্রামে রাজপথ অথবা অলিগলিতে বিবস্ত্র ধর্ষিত হোক্ নারীর শরীর ভাতার পণ্য! বুলডোজারের নীচে চাপা থাক কান্নারা শোষন তোষণ পাশাপাশি হেঁটে যাক্    রংয়ের পরতে মুখ পাল্টে গদিতে  সব জীব জড় বস্তু! "চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত"!  মূল পাতায় যান

কবিতা, সম্রাট সেনগুপ্ত

ছবি
সম্রাট সেনগুপ্তের কবিতা ১. এগিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্নের মধ্যে যারা এগিয়ে ছিল তারা গেছে পিছিয়ে, যারা স্বপ্নাদেশ পেয়ে চলে গিয়েছিল ফিরে এসে দেখেছে বিক্রি হয়ে গেছে বসত বাড়ি, একটা বয়সে সময়কে মনে হত কাল আর পরশুকে পাশের বাড়ির জানালা, স্বপ্নদোষ তখন রক্তে ভিজিয়ে দিত মন, পোশাকের মধ্যে ফুলে ওঠা হৃদয় বাড়িয়ে বার বার বুঝে গেছি ছোঁয়া যাবে না আকাশ, তাই বাড়িয়ে দিয়েছি দুই হাত যাদের আলগা মুঠো, স্বপ্নের মধ্যে যারা পিছিয়ে রয়েছে তারা একদিন ফিরতি পথ খুঁজবে পদচিহ্নে, আমি তখন দমকা বাতাস রাতের স্বপ্নাদেশ - যার যোগফল শূন্যের কাছাকাছি। বসতবাড়ি ভাঙার পর গভীর রাত্রে দেখি নির্মীয়মান বহুতল - অর্ধেক বানানো সিঁড়ি, স্বপ্নের মতো মধ্যরাতে উঠে বুঝে নেব এ জীবনে আর পৌঁছানো যাবে না ছাদে - টিলার ওপরে সূর্যাস্ত দেখার ছুতোয় তবুও উঠে যাবো পাহাড়ের চূড়ার খুব কাছাকাছি, সেরে গেলে স্বপ্নদোষ - হৃদয়ে ফুটো - শরীর ভেঙে গড়ায় জল। ২. না থাকার কবিতা কালো রাত কেটে গেলে তুমি এলে, ছুঁয়ে যাও যেমন রোজ রোজ আমার ঘুমন্ত কপাল, জেগে উঠে দেখি শিশির বিন্দু জমে আছে, যেখানে না থাকা প্রতিদিন ঘুম হয়ে যায়। কালো রাত কেটে গেলে  তুমি আসো, জমে ওঠে মেঘ,  নে...