পোস্টগুলি

জুন, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তৃতীয় বর্ষ ।। পঞ্চম ওয়েব সংস্করণ ।। ৫ আষাঢ় ১৪২৯ ।। ২০ জুন ২০২২

ছবি
সস্তার ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু হওয়ার পর কি গ্ৰাম কি শহর প্রতিটি জায়গার প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে এন্ড্রয়েড মোবাইল। সেই মোবাইলের মাধ্যমে পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় পাওয়া। আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে অবাধ যাতায়াত। এবং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে প্রায়শই কিছু কিছু বিষয়কে নানাভাবে ফরওয়ার্ড করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তার বিষয়বস্তু পড়ে, কখনো সম্পূর্ণ না পড়েও ফরওয়ার্ড করে থাকেন অনেকানেক মানুষ। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সুস্থ জীবনকে ব্যস্ত করে তোলার কারণ হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট।            সামনের দু'লাইন পড়ে বা পোষ্টের ছবি দেখেই আমরা বিষয়টা অনুধাবন করে ওঠার ক্ষমতা রাখি না। সে বিষয়টা কতখানি সত্য বা মিথ্যা তাও বিচার করে দেখি না কখনো। অথচ ওই দু' লাইন পড়েই আন্দাজ করে নিই সেটা আমার পছন্দের বিষয় যা আমি চাই। সেটা কোনো প্রতিবাদী, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, যেকোনো বিষয় হতে পারে। ফরওয়ার্ড করে দিই। অথচ একটুও ভেবে দেখি না, সেটা আমার জীবনের ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে কিনা।                 আমাদের জীবনযাত্রা যেভাবে জটিল হয়ে উঠছে, চারপাশে যেভাবে সোনার হরিণ ছুটিয...

পুস্তক আলোচনা

ছবি
পাঠ অভিজ্ঞতা দু ' এক কণা শৈশব / দেবাশিস সাহা 'চিন্তা' প্রকাশন প্রকাশিত " দু' এক কনা শৈশব"। কবি দেবাশিস সাহার আত্মজীবনীমূলক শৈশব স্মৃতিচারণার ফসল এটি। বইটির প্রচ্ছদ অসাধারণ। হলুদ নীল কালো লাল রঙের সমাবেশে- অঙ্কনে শৈশবের হাসিকান্নার রূপময়তাকে শৈল্পিক দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অয়ন চৌধুরীর অসংখ্য প্রশংসা প্রাপ্য। মুদ্রণ বিন্যাস বোর্ডবাঁধাই সবকিছুই দৃষ্টিনন্দন। বইটি পড়তে পড়তে চোখের সামনে শৈশবের রামধনু জেগে ওঠে। স্মৃতির আলপথ ধরে পৌঁছে দেয় ফেলে আসা শৈশবের বুকে। এটি একান্ত ভাবে কবি দেবাশিস সাহার শৈশবের স্মৃতিমেদুর আলেখ্য হলেও--ছেলেবেলার জলতরঙ্গ সুরেলা হয়ে বেজে ওঠে বইটির নিবিষ্ট পাঠকের মনে। ঘুড়ি ওড়ানো, জোনাকি দিয়ে টর্চ বানানোর চেষ্টা এমনি আরো অনেক কিছু হয়ে উঠেছে শৈশব স্বপ্নের চিরকালীন গাথা। বস্তুত: এ বইটি লেখার তাগিদ ও আন্তর প্রেরণাটি ব্যক্ত হয়েছে অনুপম ভাষায়-- " প্রায় অর্ধশতাব্দী হতে চলল, এদের আমি ছেড়ে এসেছি। দু-একজন ছাড়া এদের কারো সঙ্গে কখনো আর দেখা হয়নি। তারা সকলেই রয়ে গেছে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে। কিন্তু আমার শৈশব-স্মৃতির মধ্যে কোথাও তো...

ছবি প্রদর্শ-শালা ।। আলোকচিত্র ।। মোহন পরামানিক

ছবি
আলোকচিত্র শিল্পী মোহন পরামানিকের জন্ম - ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। পেশাতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে মালদাতে কর্মরত। পুরুলিয়া শহরের রেনী রোডে দেবী মেলার কাছে নিজের বাসা। তবে আলোকচিত্র শিল্পীর জন্মস্থান পুরুলিয়া শহর নয়। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এই জেলারই অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত আখ চাষের জন্য সুপরিচিত সিরকাবাদ গ্ৰামে। তাই ছোট বেলা থেকেই প্রকৃতির অপার বিস্ময় মাখা সৌন্দর্যকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই পাহাড় ও নদীর কোলে বড় হয়েছেন তিনি। ছবির প্রতি তাঁর আকর্ষণ শুরু হয় ছোটবেলায় ছবি আঁকার মাধ্যমে। তারপর স্কুলে পড়াশোনাকালীন স্কুলের এক শিক্ষকের ছবি তোলা দেখে আকর্ষণ জন্মায় ছবি তোলার প্রতি। প্রথম অবস্থায় বাড়িতে Kodak - র একটি রিল ক্যামেরা ছিল তাঁর। তারপর আসে Sony - র একটি কুলপিক্স। কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি ও প্রকৃতির ছবি তুলতে থাকেন তিনি। তারপর যখন ছবি তোলার জন্য ঘুরে বেড়াতে লাগলেন তখন হঠাৎ করে পুরুলিয়া জেলার মানুষের জীবন যাপন, তাদের বিভিন্ন পরব ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রেমে পড়েন। কলেজ জীবনে টিউশন পড়াতেন তিনি, সেই টাকা জমিয়েই...

মতিয়ার রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

ছবি
মতিয়ার রহমানের একগুচ্ছ কবিতা  ১. সাহস স্বপ্ন দেখতে কি সাহস লাগে তবু সর্বদা ভয় আমার রাত বাড়লে এসে দাঁড়াও চৌকাঠের ওপার। ভোর পর্যন্ত সাথে থাকো মুখোমুখি পাশাপাশি বলতে তবু পারলাম কই তোমায় আমি ভালোবাসি। ২. কষ্ট গভীর রাতে মায়ের কাছে আঁচল পেতে শোওয়া। বৃদ্ধাশ্রমের চিতায় তুলে সন্তান সেও হস্টেলে সার হয়েছে বউয়ের বকুনি খাওয়া। ৩. যশ তীব্র দাবদাহ কোমল শরীরে আগুনের আঁচ জীবন্ত জতুগৃহে পুড়ছে নির্মল আকাশ। তীব্র আক্রোশে ফুঁসছে নদী অভিমানাহত নারীর নিঃশ্বাসে বিষ আরেকটি যশ। ৪. আহ্বান মিতালি ভালো থাকিস তাদের জন্য যারা থাকে তোর ভরসাতে। ঈদ শারদীয়ায় গুণি প্রহর তোর শুভেচ্ছার বরষাতে।। মিতালি তোর জন্য কাদঁছে নদী ডাকছে কাছে আয়। লাগবে ভালো কি কাশফুল আর হলুদ বিকেল যদি ভুলে যায়? কবি পরিচিতি মতিয়ার রহমান জন্ম : ৪ ঠা জানুয়ারি ১৯৭০ স্থায়ী আবাস: সহেলি গ্রাম ও ডাক ঘর: কলহপুর ভায়া: মুরার ই জেলা: বীরভূম পশ্চিম বঙ্গ। ভারত। মতিয়ার রহমান ময়ূরাক্ষী নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক। নজরুল একাডেমী কবি তীর্থ চুরুলিয়ার ‌আজীবন সদস্য। পশ্চিম বঙ্গ বিঞ্জান মঞ্চের ‌আজীবন সদস্য। বীরভূম প্রান্তিক সাহিত্য পত্...

জওয়াহের হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা

জওয়াহের হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা ১. আড়ষ্ঠতা বন্ধ্যা-বৃষ্টিতে সেঁকে নিই সুরার আগুন কতটা সিঁদুর-রাঙানো মুগ্ধতায় আক্রান্ত রাত্রিবাসে কতটা বিষের দামে অঝোর জলে তোমার অভিসার কতবার মনে রেখে ভাবি দ্বন্দ্ব ও ভয়! কামনার আয়ুতে ঝুলে থাকে ত্রস্ত শয্যা আরশে ঋণী হয়ে যায় প্রাপ্তির ফসিল ২. কুয়াশাবিদ্যুৎ কুয়াশায় যে-ঘোর জমে আছে দূর পথের আদলে তা দিয়ে রচি ধাঁধার জগৎ গন্তব্যে রাত্রিজাগা গুটিপোকাদের নির্জন খেলা পুরো গ্রাম লুটিয়ে পড়েছে বিদগ্ধ বিহারে— জমি খুঁড়ে খুঁড়ে এঁকে নিচ্ছি অবসর অনুভূতিহীন ভস্ম দিনকূলে ৩. জলমথিত জল বুনতে বুনতে দেখি সময়— নিস্ফল এতটা উপহাসমুখর আঁধার প্রহর, ধুলোবার্তায় ভরে আছে দীর্ঘ পথ আমি এই ভ্রমণশূন্য যাত্রার নিকটে ভীতু পথিকের ন্যায় খুব নিরুপায় ৪. জলবিহার বৃথাই লুটিয়ে পড়েছিলাম— তোমার স্নানসিক্ত শরীরে যেন কোনও অবাধ্যেও ঘোরলাগা পরাস্ত প্রহর মৃদু সাহসে কম্পসমুদ্দুরে জীবন উদ্বাস্তু করে একদিন আমার বিরহ আবর্তে বহুকাল ঘর বেঁধেছি বিলুপ্ত সমুদ্রে একা ৫. শব শব ও রক্ত পুড়ছে, আশ্লেষে ঘন কুয়াশাশূন্য আর্দ্রশীত লাল শির বেয়ে সিক্ত বেদনা নিয়ে পলাতক নির্জনতার অশ্রুপাশে দীর্ঘ দেবদারু গাছ শাখাহীন শব্দহীন ফেলে...

তৃতীয় বর্ষ ।। চতুর্থ ওয়েব সংস্করণ ।। ২২ জৈষ্ঠ্য ১৪২৯ ।। ৬ জুন ২০২২

ছবি
"লিংক" শব্দটা সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। কখন কার দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় থেকে "লিংক" সরে যাবে সেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ।             ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখা গেল "লিংক" নেই। বিপদে পড়ে টাকা তুলতে গিয়ে পাওয়া গেল না টাকা। কার কাছে হাত পাতবেন তাহলে? যার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছে বিপদে-আপদে কাজে লাগবে বলে, সেই তো দিল না। অন্য কেউ কি দেবেন? যার দায় রয়েছে দেওয়ার, সে, "পরে আসবেন" বলে দিলেই খালাস। আর কোনো দায় নেই তার!              রেশন দোকানে মাল তুলতে গিয়ে দেখা গেল পরিবারের এক বা একাধিক ব্যক্তির আধার লিংক সরে গিয়েছে। লিংক না করানো পর্যন্ত মাল পাবেন না তাঁরা। এও এক বিপদ! সারা মাসের মাল তুলতে না পারলে রেশনের চাল-ডালের উপর নির্ভর করে বাঁচা গরিব মানুষের বাঁচার উপায় থাকে না।              ছাত্র-ছাত্রীরা বা চাকরি প্রার্থীরা কোনো সময় ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে দেখা গেল, অর্ধেক ফিলাপ করতে না করতেই লিংক সরে গেল। অপরিপূর্ণ থেকে গেল ফ...